২১/১৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩১১২ - বন্দিত্বেও আমানত ও মানবতা
রোগীর নখ ও লজ্জাস্থানের চুল কাটা
বন্দিত্বেও সততা ও মানবতার শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৩১১২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩১১২
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ جَارِيَةَ الثَّقَفِيُّ، حَلِيفُ بَنِي زُهْرَةَ - وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ أَبِي هُرَيْرَةَ - عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ،قَالَ ابْتَاعَ بَنُو الْحَارِثِ بْنِ عَامِرِ بْنِ نَوْفَلٍ خُبَيْبًا - وَكَانَ خُبَيْبٌ هُوَ قَتَلَ الْحَارِثَ بْنَ عَامِرٍ يَوْمَ بَدْرٍ - فَلَبِثَ خُبَيْبٌ عِنْدَهُمْ أَسِيرًا حَتَّى أَجْمَعُوا لِقَتْلِهِ فَاسْتَعَارَ مِنَ ابْنَةِ الْحَارِثِ مُوسَى يَسْتَحِدُّ بِهَا فَأَعَارَتْهُ فَدَرَجَ بُنَىٌّ لَهَا وَهِيَ غَافِلَةٌ حَتَّى أَتَتْهُ فَوَجَدَتْهُ مُخْلِيًا وَهُوَ عَلَى فَخِذِهِ وَالْمُوسَى بِيَدِهِ فَفَزِعَتْ فَزْعَةً عَرَفَهَا فِيهَا فَقَالَ أَتَخْشَيْنَ أَنْ أَقْتُلَهُ مَا كُنْتُ لأَفْعَلَ ذَلِكَ.قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذِهِ الْقِصَّةَ شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عِيَاضٍ أَنَّ ابْنَةَ الْحَارِثِ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهُمْ حِينَ اجْتَمَعُوا - يَعْنِي لِقَتْلِهِ - اسْتَعَارَ مِنْهَا مُوسَى يَسْتَحِدُّ بِهَا فَأَعَارَتْهُ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বনুল হারিস ইবনু ‘আমির ইবনু নাওফাল খুবাইব (রাঃ)-কে খরিদ করেছিল। ইনি সেই খুবাইব যিনি বদর যুদ্ধের দিন আল-হারিস ইবনু ‘আমিরকে হত্যা করেছেন। খুবাইব (রাঃ) তাদের কাছে বন্দী ছিলেন। তারা তাঁকে হত্যা করতে একত্র হলো। তিনি হারিসের কন্যার কাছে ক্ষৌরি হওয়ার জন্য একটি ছুরি চাইলেন। সে তাঁকে তা এনে দিলো। তার অজান্তেই তার শিশু পুত্রটি খুবাইবের কাছে এসে পড়লো। স্ত্রীলোকটি এসে দেখলো, ছেলেটি তার রানের উপর বসে আছে এবং তার হাতে ঐ ধারাল ছুরিটি রয়েছে। সে খুব ভীত হয়ে পড়লো। তার চেহারা দেখে খুবাইব তা বুঝতে পেরে বললেন, তুমি কি আশঙ্কা করছো আমি একে হত্যা করবো, আমি কখনো এরূপ করবো না।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩১১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খুবাইব (রাঃ)-এর বন্দী অবস্থার একটি ঘটনা এসেছে। বনী হারিস তাকে ক্রয় করেছিল, কারণ তিনি বদরে হারিস ইবন আমিরকে হত্যা করেছিলেন। পরে তারা তাকে হত্যা করতে একত্রিত হলে তিনি ক্ষৌরি করার জন্য হারিসের কন্যার কাছে একটি ছুরি চান। সে ছুরি দেয়। এ সময় তার ছোট ছেলে খুবাইব (রাঃ)-এর কাছে এসে তার রানের ওপর বসে পড়ে। মায়ের চোখে ভয় দেখে খুবাইব (রাঃ) বুঝতে পারেন এবং বলেন, “তুমি কি আশঙ্কা করছো আমি একে হত্যা করব? আমি কখনোই এমন করব না।” এখানে বন্দিত্ব, প্রতিশোধের পরিবেশ এবং মৃত্যুর মুখোমুখি অবস্থাতেও সততা ও নিষ্পাপ শিশুর নিরাপত্তা রক্ষার শিক্ষা আছে। হাদিসটি দেখায়, মুমিনের চরিত্র কঠিন সময়েও সীমা মানে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন বন্দিত্বেও নিরপরাধের ক্ষতি করা উচিত নয়।
- খুবাইব (রাঃ) মৃত্যুর আশঙ্কার মধ্যেও নৈতিকতা রক্ষা করেছেন।
- শিশুর নিরাপত্তা ও নিরপরাধ প্রাণের সম্মান এই ঘটনায় স্পষ্ট।
- শত্রুপক্ষের ঘরেও আমানত ও মানবতা বজায় রাখা মুমিনের চরিত্র।
