২৩/৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৩৪১ - ঋণের দায় ও পরিশোধের গুরুত্ব
ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধে কড়াকড়ি করা
ঋণের দায়: পরিশোধে সহায়তার শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৩৪১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৩৪১
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ سَمْعَانَ، عَنْ سَمُرَةَ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ " هَا هُنَا أَحَدٌ مِنْ بَنِي فُلاَنٍ " . فَلَمْ يُجِبْهُ أَحَدٌ ثُمَّ قَالَ " هَا هُنَا أَحَدٌ مِنْ بَنِي فُلاَنٍ " . فَلَمْ يُجِبْهُ أَحَدٌ ثُمَّ قَالَ " هَا هُنَا أَحَدٌ مِنْ بَنِي فُلاَنٍ " . فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَقَالَ ﷺ " مَا مَنَعَكَ أَنْ تُجِيبَنِي فِي الْمَرَّتَيْنِ الأُولَيَيْنِ أَمَا إِنِّي لَمْ أُنَوِّهْ بِكُمْ إِلاَّ خَيْرًا إِنَّ صَاحِبَكُمْ مَأْسُورٌ بِدَيْنِهِ " . فَلَقَدْ رَأَيْتُهُ أَدَّى عَنْهُ حَتَّى مَا بَقِيَ أَحَدٌ يَطْلُبُهُ بِشَىْءٍ. قَالَ أَبُو دَاوُدَ سَمْعَانُ بْنُ مُشَنَّجٍ .
সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের উদ্দেশ্যে খুত্ববাহ প্রদানের সময় জিজ্ঞেস করলেন : এখানে অমুক গোত্রের কেউ আছে কি? এতে কেউ সাড়া দিলো না। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন : এখানে অমুক গোত্রের কেউ আছে কি? এবারও কেউ সাড়া দিলো না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন : এখানে অমুক গোত্রের কোন লোক আছে কি? তখন এক ব্যক্তি উঠে বললো, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি উপস্থিত আছি।তিনি বললেনঃ প্রথম দু’বারের ডাকে তোমাকে সাড়া দিতে কিসে বাধা দিয়েছে? আমি তোমাদেরকে একমাত্র কল্যাণের জন্যই আহবান করি। তোমাদের গোত্রের এ লোক ঋণের কারণে আটক রয়েছে। বলেন, আমি দেখলাম, ঐ ব্যক্তি তার পক্ষ হতে সব ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছে। ফলে তার কোন পাওনাদারই বাকি থাকলো না। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, সাম‘আনের পিতার নাম মুশান্নাজ।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৩৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঋণের দায় কত গুরুতর, তা খুব স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) খুতবার সময় একটি গোত্রের লোককে ডাকলেন। প্রথমে কেউ সাড়া দিল না। পরে একজন দাঁড়ালে তিনি জানালেন, তিনি তাদের কল্যাণের জন্যই ডেকেছেন। তাদের এক ব্যক্তি ঋণের কারণে আটক রয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ঋণ শুধু দুনিয়ার আর্থিক বিষয় নয়; মৃত্যুর পরও এর দায় থাকতে পারে। সামুরা (রাঃ) বলেন, তিনি দেখেছেন একজন সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকে সব ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছেন, ফলে কোনো পাওনাদার বাকি থাকেনি। তাই ঋণ পরিশোধ, পাওনাদারের হক এবং মুসলিম ভাইয়ের সাহায্য—এসব বিষয় এই হাদিসে বড় গুরুত্ব পেয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋণকে হালকা বিষয় মনে করা ঠিক নয়; এটি মানুষের হকের সাথে যুক্ত।
- কোনো মুসলিম ঋণের চাপে থাকলে সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করা ভালো কাজ।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কল্যাণের জন্যই মানুষকে সতর্ক করতেন।
- ঋণ পরিশোধ হলে পাওনাদারের দাবি শেষ হয় এবং দায়মুক্তির পথ তৈরি হয়।
