২৬/১৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৬৬৬ - দুর্বল মুহাজিরদের মর্যাদা
কিসসা-কাহিনী প্রসঙ্গ
নিঃস্ব মুহাজিরদের ধৈর্য ও নূরের সুসংবাদ
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৬৬৬
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৬৬৬
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنِ الْمُعَلَّى بْنِ زِيَادٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ بَشِيرٍ الْمُزَنِيِّ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ النَّاجِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ جَلَسْتُ فِي عِصَابَةٍ مِنْ ضُعَفَاءِ الْمُهَاجِرِينَ وَإِنَّ بَعْضَهُمْ لَيَسْتَتِرُ بِبَعْضٍ مِنَ الْعُرْىِ وَقَارِئٌ يَقْرَأُ عَلَيْنَا إِذْ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَامَ عَلَيْنَا فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ سَكَتَ الْقَارِئُ فَسَلَّمَ ثُمَّ قَالَ «مَا كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ» . قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ كَانَ قَارِئٌ لَنَا يَقْرَأُ عَلَيْنَا فَكُنَّا نَسْتَمِعُ إِلَى كِتَابِ اللَّهِ . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي جَعَلَ مِنْ أُمَّتِي مَنْ أُمِرْتُ أَنْ أَصْبِرَ نَفْسِي مَعَهُمْ " . قَالَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَسَطَنَا لِيَعْدِلَ بِنَفْسِهِ فِينَا ثُمَّ قَالَ بِيَدِهِ هَكَذَا فَتَحَلَّقُوا وَبَرَزَتْ وُجُوهُهُمْ لَهُ - قَالَ - فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَرَفَ مِنْهُمْ أَحَدًا غَيْرِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَبْشِرُوا يَا مَعْشَرَ صَعَالِيكِ الْمُهَاجِرِينَ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ أَغْنِيَاءِ النَّاسِ بِنِصْفِ يَوْمٍ وَذَاكَ خَمْسُمِائَةِ سَنَةٍ " .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আমি একদল নিঃস্ব মুহাজিরের সঙ্গে বসলাম। তাদের অবস্থা এতোই শোচনীয় ছিলো যে, (পরিধেয় বস্ত্র খুবই ছোট হওয়ায়) পরস্পর পরস্পরের সতর আড়াল করে বসছিলেন। একজন পাঠক আমাদেরকে (কোরআন) পড়ে শুনাচ্ছিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে দাঁড়ালে পাঠক তার পাঠ বন্ধ করলেন। নবী (ﷺ) সালাম করার পর প্রশ্ন করলেনঃ তোমরা কী করছিলে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ইনি আমাদের নিকট কোরআন পড়েন আর আমরা মহান আল্লাহর কিতাব মনোযোগ দিয়ে শুনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার উম্মতের মধ্যে এমন ধৈর্যশীল লোক রেখেছেন, যাদেরসাথে আমাকেও ধৈর্য ধারণের আদেশ দিয়েছেন। বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে এসে বসলেন এবং আমাদের জামা’আতকে পূর্ণাঙ্গ করলেন। অতঃপর তিনি উপস্থিত লোকদেরকে হাত দিয়ে ইশারা করে গোল হয়ে বসার আদেশ দিলেন। তারা গোলাকার হয়ে বসলেন এবং সবার চেহারা তাঁর দিকে উদ্ভাসিত হয়ে উঠলো।আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমি ছাড়া তাদের মধ্যে আর কাউকে চিনতে পারেননি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে নিঃস্ব-দুর্বল মুহাজিরগণ! তোমাদের জন্য কেয়ামতের দিনের পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ। তোমরা ধনীদের চেয়ে অর্ধ দিবস আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর এই অর্ধ দিবসের পরিমাণ হলো পাঁচশো বছর।
[৩৬৬৬] আহমাদ, বাগাভী ‘শারহুস সুন্নাহ’। সানাদের ‘আলা ইবনু বাশীর সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ মাজহুল।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৬৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নিঃস্ব ও দুর্বল মুহাজিরদের এক হৃদয় ছোঁয়া অবস্থা এসেছে। তারা এত কষ্টে ছিলেন যে ছোট কাপড়ের কারণে একজন আরেকজনের সতর আড়াল করছিলেন। এর মাঝেও তারা আল্লাহর কিতাব মন দিয়ে শুনছিলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এসে তাদের পাশে দাঁড়ালেন, সালাম দিলেন, তাদের কাজ জানতে চাইলেন এবং আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তিনি বললেন, তাঁর উম্মতের মধ্যে এমন ধৈর্যশীল লোক আছেন, যাদের সঙ্গে থাকার আদেশ তাঁকে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি তাদের মাঝে বসে সবাইকে গোল হয়ে বসতে বললেন। শেষে তিনি নিঃস্ব মুহাজিরদের কেয়ামতের দিনের পরিপূর্ণ নূরের সুসংবাদ দিলেন এবং জানালেন, তারা ধনীদের আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হাদিসটি ধৈর্য, কুরআন শ্রবণ ও দরিদ্র মুমিনদের মর্যাদা বোঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দারিদ্র্যের মধ্যেও কুরআন শোনা ও আল্লাহকে স্মরণ করা বড় কল্যাণের কাজ।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم দুর্বল ও নিঃস্ব সাহাবীদের পাশে বসেছেন এবং তাদের মর্যাদা দিয়েছেন।
- ধৈর্যশীল মুমিনদের জন্য কেয়ামতের দিনের নূরের সুসংবাদ এসেছে।
- সম্মান শুধু সম্পদের কারণে নয়; ঈমান, ধৈর্য ও আমলের কারণেও হয়।
