২৭/১৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৭১৯ - পানীয়, জাল্লালা ও প্রাণীর প্রতি সতর্কতা
কলসের মুখে মুখ লাগিয়ে পান করা সম্পর্কে
কলসের মুখে পান ও প্রাণীর প্রতি আচরণের শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৭১৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৭১৯
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنِ الشُّرْبِ مِنْ فِي السِّقَاءِ وَعَنْ رُكُوبِ الْجَلاَّلَةِ وَالْمُجَثَّمَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْجَلاَّلَةُ الَّتِي تَأْكُلُ الْعَذِرَةَ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কলসের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করতে, জাল্লালায় সওয়ার হতে এবং কোন প্রাণীকে বেঁধে তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে বারণ করেছেন।
ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, জাল্লালা হলো, যে প্রাণী নাপাক বস্তু খায়।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৭১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তিনটি বিষয় থেকে বারণ করেছেন। প্রথমত, কলসের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করা। দ্বিতীয়ত, জাল্লালায় সওয়ার হওয়া। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) ব্যাখ্যা করেছেন, জাল্লালা হলো এমন প্রাণী, যে নাপাক বস্তু খায়। তৃতীয়ত, কোনো প্রাণীকে বেঁধে তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করা। এই হাদিসে পানীয়ের আদব, পরিচ্ছন্নতার দিক এবং প্রাণীর প্রতি আচরণ—তিনটি শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে। পান করার ক্ষেত্রে পাত্রের মুখে সরাসরি মুখ লাগানো থেকে বারণ করা হয়েছে। আবার প্রাণীর সঙ্গেও নিষ্ঠুর আচরণ না করার শিক্ষা আছে। মুসলিম জীবনে আদব শুধু ইবাদতে নয়, খাবার, সওয়ারি ও প্রাণীর প্রতিও ছড়িয়ে আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কলসের মুখে মুখ লাগিয়ে পান করতে নিষেধ করা হয়েছে।
- নাপাক বস্তু খাওয়া প্রাণী অর্থাৎ জাল্লালায় সওয়ার হওয়ার নিষেধ এসেছে।
- প্রাণীকে বেঁধে লক্ষ্য বানিয়ে হত্যা করা থেকে বারণ করা হয়েছে।
