২৮/৩১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৮০০ - আল্লাহ যা হালাল করেছেন তাই হালাল
যেসব জিনিসের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আসেনি
হালাল-হারাম নির্ধারণে আল্লাহর বিধানই মূল
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৮০০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৮০০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ صُبَيْحٍ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ شَرِيكٍ الْمَكِّيَّ - عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يَأْكُلُونَ أَشْيَاءَ وَيَتْرُكُونَ أَشْيَاءَ تَقَذُّرًا فَبَعَثَ اللَّهُ تَعَالَى نَبِيَّهُ وَأَنْزَلَ كِتَابَهُ وَأَحَلَّ حَلاَلَهُ وَحَرَّمَ حَرَامَهُ فَمَا أَحَلَّ فَهُوَ حَلاَلٌ وَمَا حَرَّمَ فَهُوَ حَرَامٌ وَمَا سَكَتَ عَنْهُ فَهُوَ عَفْوٌ وَتَلاَ ﴾ قُلْ لاَ أَجِدُ فِيمَا أُوحِيَ إِلَىَّ مُحَرَّمًا ﴿ إِلَى آخِرِ الآيَةِ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জাহিলী যুগের লোকেরা কিছু জিনিস খেতো এবং ঘৃণাবশত কিছু জিনিস পরিহার করতো। এ অবস্থায় আল্লাহ তাঁর নবী (ﷺ)-কে প্রেরণ করলেন এবং তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করলেন এবং তাতে কিছু জিনিস হালাল করলেন ও কিছু জিনিস হারাম করলেন। তিনি যা হালাল করেছেন তা হালাল এবং যা হারাম করেছেন তা হারাম, আর যেগুলো সম্পর্কে নীরব থেকেছেন তাতে ছাড় দেয়া আছে। অতঃপর ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) তিলাওয়াত করেনঃ “আপনি বলুন, আমার নিকট যে ওহী এসেছে তাতে এমন কোন জিনিস পাইনি যা আহার করা কারো জন্য হারাম...” আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৮০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস রা. জাহিলিয়া যুগের মানুষের খাবার অভ্যাসের কথা বলেন। তারা কিছু জিনিস খেত এবং কিছু জিনিস ঘৃণাবশত ছেড়ে দিত। এরপর আল্লাহ তাঁর নবী صلى الله عليه وسلم-কে পাঠালেন এবং কিতাব নাজিল করলেন। সেখানে তিনি কিছু জিনিস হালাল করেছেন এবং কিছু জিনিস হারাম করেছেন। ইবনু আব্বাস রা. বলেন, আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হালাল, যা হারাম করেছেন তা হারাম, আর যে বিষয়ে তিনি নীরব থেকেছেন, তাতে ছাড় আছে। এরপর তিনি সূরা আল-আনআমের আয়াত পড়েন। তাই “হালাল হারাম খাবার”, “আল্লাহর বিধান” এবং “যে বিষয়ে নীরবতা আছে” এই হাদিসের মূল কথা। ব্যক্তিগত ঘৃণা বা অভ্যাসকে শরীয়তের হারাম বানানো ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হালাল-হারাম নির্ধারণে আল্লাহর বিধানই মূল।
- মানুষের ঘৃণা বা অভ্যাস দিয়ে কোনো খাবার হারাম হয় না।
- যে বিষয়ে নীরবতা আছে, সেখানে ছাড়ের কথা এসেছে।
