২৯/২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৮৫৬ - দুর্বল রোগীর উপযোগী খাবার
রোগীর খাদ্য গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা
রোগীর জন্য উপযোগী খাবারের শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৮৫৬
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৮৫৬
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، وَأَبُو عَامِرٍ - وَهَذَا لَفْظُ أَبِي عَامِرٍ - عَنْ فُلَيْحِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ صَعْصَعَةَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنْ أُمِّ الْمُنْذِرِ بِنْتِ قَيْسٍ الأَنْصَارِيَّةِ،قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَمَعَهُ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَعَلِيٌّ نَاقِهٌ وَلَنَا دَوَالِي مُعَلَّقَةٌ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَأْكُلُ مِنْهَا وَقَامَ عَلِيٌّ لِيَأْكُلَ فَطَفِقَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ لِعَلِيٍّ «مَهْ إِنَّكَ نَاقِهٌ» . حَتَّى كَفَّ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ . قَالَتْ وَصَنَعْتُ شَعِيرًا وَسِلْقًا فَجِئْتُ بِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَا عَلِيُّ أَصِبْ مِنْ هَذَا فَهُوَ أَنْفَعُ لَكَ» .قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ هَارُونُ الْعَدَوِيَّةِ .
উম্মুল মুনযির বিনতু ক্বায়িস আল-আনসারিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘আলী (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে আমার নিকট এলেন। ‘আলী সুস্থ হয়ে উঠেছেন মাত্র কিন্তু দুর্বলতা এখনো কাটেনি। আমাদের ঘরে খেজুর গুচ্ছ লটকানো ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা খেতে শুরু করলেন। ‘আলীও খেতে উঠলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘আলীকে বললেনঃ তুমি এগুলো খেয়ো না; কারণ তুমি এখনো দুর্বল। ‘আলী (রাঃ) বিরত থাকলেন। বর্ণনাকারিণী বলেন, আমি যব ও বীট চিনি দিয়ে খাদ্য তৈরি করে তাঁর জন্য আনলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে ‘আলী! এটা খাও, এটা তোমার জন্য উপকারী।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৮৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে অসুস্থতা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির খাবার নিয়ে একটি বাস্তব শিক্ষা আছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আলী (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে উম্মুল মুনযির (রাঃ)-এর ঘরে গেলেন। আলী (রাঃ) তখন সদ্য সুস্থ হলেও দুর্বল ছিলেন। ঘরে খেজুর ঝুলছিল। নবী (صلى الله عليه وسلم) তা খেতে শুরু করলে আলী (রাঃ)ও খেতে চাইলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে থামিয়ে বললেন, তুমি এখনো দুর্বল। পরে যব ও শাক দিয়ে খাবার আনা হলে তিনি বললেন, হে আলী, এটা খাও, এটা তোমার জন্য উপকারী। এই হাদিসে “রোগীর খাবার”, “অসুস্থের জন্য খাবার” এবং “চিকিৎসায় খাবারের সতর্কতা” বিষয়গুলো সরাসরি আছে। এতে রোগীর অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে খাবার বেছে নেওয়ার শিক্ষা দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অসুস্থতা কাটলেও দুর্বলতা থাকলে খাবারে সতর্ক থাকা দরকার।
- সব খাবার সবার অবস্থার জন্য এক রকম উপযোগী নয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) আলী (রাঃ)-কে তাঁর অবস্থার উপযোগী খাবার খেতে বলেছিলেন।
- রোগীর খাবার বাছাইয়ে উপকার ও সতর্কতা দুটিই দেখা দরকার।
