২৯/১৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৮৭৭ - উড হিন্দীর চিকিৎসা শিক্ষা
আলজিভ ফোলা সম্পর্কে
উড হিন্দী ব্যবহারে নববী চিকিৎসা শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৮৭৭
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৮৭৭
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَحَامِدُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ، قَالَتْ دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ بِابْنٍ لِي قَدْ أَعْلَقْتُ عَلَيْهِ مِنَ الْعُذْرَةِ فَقَالَ «عَلاَمَ تَدْغَرْنَ أَوْلاَدَكُنَّ بِهَذَا الْعِلاَقِ عَلَيْكُنَّ بِهَذَا الْعُودِ الْهِنْدِيِّ فَإِنَّ فِيهِ سَبْعَةَ أَشْفِيَةٍ مِنْهَا ذَاتُ الْجَنْبِ يُسْعَطُ مِنَ الْعُذْرَةِ وَيُلَدُّ مِنْ ذَاتِ الْجَنْبِ». قَالَ أَبُو دَاوُدَ يَعْنِي بِالْعُودِ الْقُسْطَ.
উম্মু কায়স বিন্ত মিহসান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আমার ছেলেকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গেলাম। তার আলজিভ ফুলে ব্যথা হওয়ায় আমি তাতে মালিশ করেছিলাম। তিনি বললেনঃ আলজিভ ফোলার কারণে তোমরা তোমাদের সন্তানদের গলায় চাপ দিয়ে তাদের কষ্ট দিচ্ছো কেন? তোমরা উদ হিন্দী ব্যবহার করো; কেননা সাত প্রকার ব্যাধিতে তা উপকারী। শিশুদের আল্জিভ ফুলে ব্যথা হলে তা ঘষে গুড়া করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে নাকের ভেতর ফোটায় প্রবেশ করাবে এবং ফুসফুস আবরক ঝিল্লীর প্রদাহ হলেও এভাবে তা পান করাতে হবে।
ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ ঊদ(কাঠ) হলো এক প্রকার সুগন্ধি কাঠ।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৮৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মু কায়স (রাঃ) তাঁর শিশুকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে যান। শিশুর আলজিভ ফুলে ব্যথা হওয়ায় তিনি গলায় চাপ দিয়ে মালিশ করেছিলেন। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, আলজিভ ফোলার কারণে কেন তোমরা সন্তানদের এভাবে কষ্ট দাও? এরপর তিনি উড হিন্দী ব্যবহার করতে বলেন এবং বলেন এতে সাত প্রকার রোগের উপকার আছে। হাদিসে আলজিভ ফোলার ক্ষেত্রে তা ঘষে গুঁড়া করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে নাকে দেওয়া এবং ফুসফুসের আবরক ঝিল্লীর প্রদাহে পান করানোর কথা এসেছে। ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, এখানে উড বলতে কুস্ত বোঝানো হয়েছে। এই হাদিসে “উড হিন্দী”, “কুস্ত হিন্দী”, “শিশুর গলার ব্যথা” এবং “নববী চিকিৎসা” বিষয়ে সরাসরি শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিশুর চিকিৎসায় কষ্টদায়ক পদ্ধতি এড়িয়ে চলা দরকার।
- উড হিন্দী বা কুস্তের চিকিৎসা ব্যবহারের কথা হাদিসে এসেছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم শিশুর কষ্ট কমানোর দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন।
- রোগ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহারের পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে।
