২৯/১৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৮৮৩ - তাবিজ, মন্ত্র ও শির্ক থেকে সতর্কতা
তাবিজ ঝুলানো
তাবিজ ও শির্কযুক্ত ঝাড়ফুঁক থেকে সতর্কতার হাদিস
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৮৮৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৮৮৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ الْجَزَّارِ، عَنِ ابْنِ أَخِي، زَيْنَبَ امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ زَيْنَبَ، امْرَأَةِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ».قَالَتْ قُلْتُ لِمَ تَقُولُ هَذَا وَاللَّهِ لَقَدْ كَانَتْ عَيْنِي تَقْذِفُ وَكُنْتُ أَخْتَلِفُ إِلَى فُلاَنٍ الْيَهُودِيِّ يَرْقِينِي فَإِذَا رَقَانِي سَكَنَتْ. فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّمَا ذَاكِ عَمَلُ الشَّيْطَانِ كَانَ يَنْخَسُهَا بِيَدِهِ فَإِذَا رَقَاهَا كَفَّ عَنْهَا إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكِ أَنْ تَقُولِي كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا».
‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর স্ত্রী যাইনাব (রাঃ) ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্র হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ জাদু, তাবিজ ও অবৈধ প্রেম ঘটানোর মন্ত্র শির্ক-এর অন্তর্ভুক্ত। তিনি (যাইনাব) বলেন, আমি বললাম, আপনি এসব কি বলেন? আল্লাহর কসম! আমার চোখ হতে পানি পড়তো, আমি অমুক ইয়াহুদী কর্তৃক ঝাড়ফুঁক করাতাম। সে আমাকে ঝাড়ফুঁক করলে পানি পড়া বন্ধ হয়ে যেতো। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, এগুলো শয়তানের কাজ। সে নিজ হাতে চোখে যন্ত্রণা দেয়, যখন সে ঝাড়ফুঁক দেয় তখন সে বিরত থাকে। এর চেয়ে বরং তোমার জন্য এরূপ বললেই যথেষ্ট হতো, যেরূপ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ “হে মানব জাতির রব! যন্ত্রণা দূর করে দিন, আরোগ্য দান করুন, আপনিই আরোগ্যদাতা, আপনার দেয়া নিরাময়ই যথার্থ নিরাময়, যার পরে আর কোন রোগ বাকী থাকে না”।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৮৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যাদু, তাবিজ ও অবৈধ প্রেম ঘটানোর মন্ত্র শির্কের অন্তর্ভুক্ত। বর্ণনায় জাইনব (রা.) চোখের অসুখের কথা বলেন এবং এক ইহুদির কাছে ঝাড়ফুঁক করানোর ঘটনা জানান। আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, এটি শয়তানের কাজ; সে কষ্ট দিত, আবার ঝাড়ফুঁকের সময় থেমে যেত। এরপর তিনি এমন দোয়া শিখিয়ে দেন, যা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলতেন। দোয়ায় আল্লাহকে মানুষের রব, কষ্ট দূরকারী ও একমাত্র আরোগ্যদাতা বলা হয়েছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, রোগ বা কষ্টে মানুষের ভরসা আল্লাহর ওপর হওয়া উচিত। শির্কযুক্ত তাবিজ-মন্ত্র নয়, বরং আল্লাহর কাছে সুন্নাহসম্মত দোয়া দিয়ে শিফা চাওয়া মুমিনের পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শির্কযুক্ত তাবিজ, মন্ত্র ও অবৈধ ঝাড়ফুঁক থেকে দূরে থাকতে হবে।
- রোগের সময় আল্লাহকেই প্রকৃত আরোগ্যদাতা মনে করতে হবে।
- সুন্নাহর দোয়া দিয়ে শিফা চাওয়া নিরাপদ ও সঠিক পথ।
- যে কাজে শয়তানি ধোঁকা থাকতে পারে, তা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
