৩০/৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৯১১ - ছোঁয়াচে রোগ ও কুলক্ষণ সম্পর্কে ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা
অশুভ লক্ষণ
ছোঁয়াচে রোগ, কুলক্ষণ ও সতর্কতার হাদিস
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৯১১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৯১১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُتَوَكِّلِ الْعَسْقَلاَنِيُّ، وَالْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لاَ عَدْوَى وَلاَ طِيَرَةَ وَلاَ صَفَرَ وَلاَ هَامَةَ». فَقَالَ أَعْرَابِيٌّ مَا بَالُ الإِبِلِ تَكُونُ فِي الرَّمْلِ كَأَنَّهَا الظِّبَاءُ فَيُخَالِطُهَا الْبَعِيرُ الأَجْرَبُ فَيُجْرِبُهَا قَالَ «فَمَنْ أَعْدَى الأَوَّلَ " .قَالَ مَعْمَرٌ قَالَ الزُّهْرِيُّ فَحَدَّثَنِي رَجُلٌ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " لاَ يُورِدَنَّ مُمْرِضٌ عَلَى مُصِحٍّ " . قَالَ فَرَاجَعَهُ الرَّجُلُ فَقَالَ أَلَيْسَ قَدْ حَدَّثْتَنَا أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ «لاَ عَدْوَى وَلاَ صَفَرَ وَلاَ هَامَةَ». قَالَ لَمْ أُحَدِّثْكُمُوهُ . قَالَ الزُّهْرِيُّ قَالَ أَبُو سَلَمَةَ قَدْ حَدَّثَ بِهِ وَمَا سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ نَسِيَ حَدِيثًا قَطُّ غَيْرَهُ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই। কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই, সফর মাসকেও অশুভ মনে করা যাবে না এবং পেঁচা সম্পর্কে যেসব কথা প্রচলিত রয়েছে তাও অবান্তর। তখন এক বেদুঈন বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার উটের পাল অনেক সময় মরুভূমির চারণ ভূমিতে থাকে, মনে হয় যেন নাদুস-নুদুস জংলী হরিণ। অতঃপর সেখানে কোন একটি চর্মরোগ আক্রান্ত উট এসে আমার সুস্থ উটগুলোর সাথে থেকে এদেরকেও চর্মরোগী বানিয়ে দেয়। তিনি বললেনঃ প্রথম উটটির রোগ সৃষ্টি করলো কে?মা’মার (রহঃ) বলেন, যুহরী (রহঃ) বলেছেন, অতঃপর এক ব্যক্তি আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেনঃ রোগাক্রান্ত উটকে যেন সুস্থ উটের সাথে একত্রে পানি পানের জায়গায় না আনা হয়।” আবূ হুরায়রার (রাঃ) এ হাদীস শুনে এক ব্যক্তি বললো, আপনি কি এ হাদীস বর্ণনা করেননি যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সংক্রামক ব্যাধি বলতে কিছু নেই, সফর মাসকে অশুভ মনে করবে না এবং পেঁচা সম্পর্কে যেসব কথা প্রচলিত আছে তা অবান্তর?”তখন আবূ হুরায়রা বলেন, না, আমি তোমাদের নিকট এরূপ হাদীস বলিনি। যুহরী বলেন, আবূ সালামাহ (রাঃ) বলেছেন, তিনি অবশ্যই এ হাদীস বর্ণনা করেছেন, তবে আমি আবূ হুরায়রা্কে এ হাদীস ছাড়া কখনো কোন হাদীস ভুলে যেতে শুনিনি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৯১১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একসাথে এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, সংক্রামক রোগ নিজে নিজে স্বাধীনভাবে প্রভাব ফেলে—এমন বিশ্বাস নয়; কুলক্ষণ নেই; সফর মাসকে অশুভ ভাবা যাবে না; পেঁচা নিয়ে প্রচলিত কথা অবান্তর। এরপর এক বেদুঈন উটের চর্মরোগের উদাহরণ দিলে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, প্রথম উটটির রোগ সৃষ্টি করলো কে? এতে রোগের আসল মালিকানা আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই বর্ণনার মধ্যে আরেকটি কথা এসেছে—রোগাক্রান্ত উটকে সুস্থ উটের সাথে পানি পানের স্থানে না আনা। তাই হাদিসটি কুসংস্কার দূর করে, কিন্তু সতর্কতা ছাড়তে বলে না। ঈমান হলো আল্লাহর উপর ভরসা, আর আচরণে হলো সাবধানতা ও সঠিক কারণ গ্রহণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোগকে আল্লাহর হুকুম ছাড়া স্বাধীন শক্তি মনে করা ঠিক নয়।
- কুলক্ষণ, সফর মাস ও পেঁচা নিয়ে জাহিলি ধারণা বর্জন করতে হবে।
- অসুস্থ উটকে সুস্থ উটের সাথে না মেশানোর সতর্কতা এসেছে।
- তাওয়াক্কুল ও সাবধানতা—দুই দিকই এই বর্ণনায় দেখা যায়।
