৩৯/১৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩২৯ - ইবনু সাইয়াদ ও দাজ্জালের সন্দেহ
ইবনু সাইদের ঘটনা সম্পর্কে
ইবনু সাইয়াদের পরীক্ষা ও দাজ্জালের সন্দেহ
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৩২৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৩২৯
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، خُشَيْشُ بْنُ أَصْرَمَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ مَرَّ بِابْنِ صَائِدٍ فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فِيهِمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَهُوَ يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ عِنْدَ أُطُمِ بَنِي مَغَالَةَ وَهُوَ غُلاَمٌ فَلَمْ يَشْعُرْ حَتَّى ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ظَهْرَهُ بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ «أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ " . قَالَ فَنَظَرَ إِلَيْهِ ابْنُ صَيَّادٍ فَقَالَ أَشْهَدُ أَنَّكَ رَسُولُ الأُمِّيِّينَ . ثُمَّ قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ لِلنَّبِيِّ ﷺ أَتَشْهَدُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ «آمَنْتُ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ». ثُمَّ قَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ «مَا يَأْتِيكَ». قَالَ يَأْتِينِي صَادِقٌ وَكَاذِبٌ . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ " خُلِّطَ عَلَيْكَ الأَمْرُ». ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنِّي قَدْ خَبَّأْتُ لَكَ خَبِيئَةً». وَخَبَّأَ لَهُ ﴾ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ ﴿ قَالَ ابْنُ صَيَّادٍ هُوَ الدُّخُّ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «اخْسَأْ فَلَنْ تَعْدُوَ قَدْرَكَ».فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ لِي فَأَضْرِبَ عُنُقَهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «إِنْ يَكُنْ فَلَنْ تُسَلَّطَ عَلَيْهِ». يَعْنِي الدَّجَّالَ " وَإِلاَّ يَكُنْ هُوَ فَلاَ خَيْرَ فِي قَتْلِهِ».
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) তাঁর একদল সাহাবীসহ ইবনু সাইয়াদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-ও ছিলেন। এ সময় সে (ইবনু সায়িদ) কয়েকজন বালকের সঙ্গে ‘মাগালা’ গোত্রের দুর্গের পাশে খেলা করছিল। সেও ছিল বালক বয়সী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাত দিয়ে তার পিঠ স্পর্শ করার পূর্ব পর্যন্ত সে কিছুই টের পায়নি।তিনি তাকে প্রশ্ন করলেনঃ আমি যে রাসূলুল্লাহ, তুমি কি এ কথার সাক্ষ্য দাও? বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু সায়িদ তার দিকে তাকিয়ে বললো, আমি সাক্ষ্য দেই যে, আপনি নিরক্ষরদের নবী। সে নবী (ﷺ)-কে বললো, আপনি কি সাক্ষ্য দেন যে, আমি আল্লাহর রাসূল? নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান এনেছি। পুনরায় নবী (ﷺ) তাকে প্রশ্ন করলেনঃ তোমার নিকট কে আসে? সে বললো, আমার নিকট সত্যবাদীও আসে, মিথ্যাবাদীও আসে। নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ তোমার ব্যাপারটা ঘোলাটে হয়ে গেলো। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি তোমার জন্য একটি বিষয় গোপন রেখেছি।তিনি নিম্নোক্ত আয়াত তার জন্য গোপন রেখেছিলেনঃ “যেদিন আকাশ স্পষ্ট ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যাবে” (সূরা দুখান : ১০)।ইবনু সাইয়াদ বললো, সেটা ধোঁয়া। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ দূর হও! তুমি তোমার অনুমান হতে কখনো অগ্রসর হতে পারবে না। ‘উমর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অনুমতি দিন, আমি ওর ঘাড়ে আঘাত হানি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন! এ যদি সেই (দাজ্জাল) হয়ে থাকে, তবে তুমি তার অর্থাৎ দাজ্জালের উপর শক্তি খাটিয়েও কাবু করতে পারবে নাঃ আর যদি সে তা না হয়ে থাকে, তবে তাকে হত্যা করায় কোন কল্যাণ নেই।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের সঙ্গে ইবনু সাইয়াদের পাশ দিয়ে যাওয়ার ঘটনা এসেছে। সে তখন বালকদের সঙ্গে খেলছিল। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে জিজ্ঞাসা করেন, সে কি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে আল্লাহর রাসূল বলে সাক্ষ্য দেয়। ইবনু সাইয়াদ তাঁকে উম্মীদের রাসূল বলে স্বীকার করে, কিন্তু নিজেকেও রাসূল দাবি করার মতো কথা বলে। নবী (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমানের কথা বলেন। এরপর তিনি তার কাছে কী আসে জানতে চাইলে সে বলে, সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী দুজনই আসে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তার ব্যাপার ঘোলাটে। ধোঁয়ার আয়াত গোপন রেখে পরীক্ষা করলে সে শুধু আংশিক বলে। উমর (রাঃ) হত্যা করতে চাইলে নবী (صلى الله عليه وسلم) সতর্কভাবে বাধা দেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যা দাবি ও অস্পষ্ট কথাবার্তা ফিতনার লক্ষণ হতে পারে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) ইবনু সাইয়াদকে পরীক্ষা করেছেন, কিন্তু সীমা ছাড়াননি।
- সন্দেহের বিষয়ে আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
- অন্যায়ভাবে হত্যা করার মধ্যে কল্যাণ নেই—এ শিক্ষা হাদিসে এসেছে।
