২/১১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩৫ - ঘুমে সালাত ছুটে গেলে আদায়ের নিয়ম
কেউ সালাতের ওয়াক্তে ঘুমিয়ে থাকলে বা সালাতের কথা ভুলে গেলে
ঘুমে ফজর ছুটে গেলে স্মরণ হওয়া মাত্র সালাত আদায়
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৩৫
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৩৫
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ حِينَ قَفَلَ مِنْ غَزْوَةِ خَيْبَرَ فَسَارَ لَيْلَةً حَتَّى إِذَا أَدْرَكَنَا الْكَرَى عَرَّسَ وَقَالَ لِبِلاَلٍ " اكْلأْ لَنَا اللَّيْلَ " .قَالَ فَغَلَبَتْ بِلاَلاً عَيْنَاهُ وَهُوَ مُسْتَنِدٌ إِلَى رَاحِلَتِهِ فَلَمْ يَسْتَيْقِظِ النَّبِيُّ ﷺ وَلاَ بِلاَلٌ وَلاَ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ حَتَّى إِذَا ضَرَبَتْهُمُ الشَّمْسُ فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَوَّلَهُمُ اسْتِيقَاظًا فَفَزِعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ " يَا بِلاَلُ " . فَقَالَ أَخَذَ بِنَفْسِي الَّذِي أَخَذَ بِنَفْسِكَ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَاقْتَادُوا رَوَاحِلَهُمْ شَيْئًا ثُمَّ تَوَضَّأَ النَّبِيُّ ﷺ وَأَمَرَ بِلاَلاً فَأَقَامَ لَهُمُ الصَّلاَةَ وَصَلَّى بِهِمُ الصُّبْحَ فَلَمَّا قَضَى الصَّلاَةَ قَالَ " مَنْ نَسِيَ صَلاَةً فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ { أَقِمِ الصَّلاَةَ لِلذِّكْرَى } " .قَالَ يُونُسُ وَكَانَ ابْنُ شِهَابٍ يَقْرَؤُهَا كَذَلِكَ. قَالَ أَحْمَدُ قَالَ عَنْبَسَةُ - يَعْنِي عَنْ يُونُسَ - فِي هَذَا الْحَدِيثِ لِذِكْرِي. وَقَالَ أَحْمَدُ الْكَرَى النُّعَاسُ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বার যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তনের একরাতে বিরতিহীনভাবে সফর করতে থাকলে আমাদের ক্লান্তি ভাব দেখা দেয়। ফলে শেষ রাতে তিনি যাত্রা বিরতি করেন এবং বিলাল (রাঃ)–কে বলেনঃ তুমি জেগে থাকবে এবং রাতের দিকে লক্ষ্য রাখবে। কিন্তু বিলাল (রাঃ)–ও নিদ্রাকাতর হয়ে তাঁর উটের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ফলে নবী (ﷺ), বিলাল এবং তাঁর সাহাবীদের কারোরই ঘুম ভাঙ্গল না।অতঃপর সূর্যের তাপ তাঁদের গায়ে এসে পড়লে সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জাগলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অস্থির হয়ে বললেনঃ কী হলো বিলাল! বিলাল বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! যে সত্তা আপনাকে অচেতন রেখেছেন, আমাকেও তিনিই অচেতন রেখেছেন। অতঃপর তাঁরা নিজেদের বাহন নিয়ে কিছু দূর অগ্রসর হওয়ার পর নবী (ﷺ) ওজু করলেন এবং বিলালকে নির্দেশ করলে বিলাল ইক্বামাত দিলেন। নবী (ﷺ) সকলকে নিয়ে ফাজ্রের সালাত আদায় শেষে বললেনঃ কেউ সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে যেন স্মরণ হওয়া মাত্রই উক্ত সালাত আদায় করে নেয়।কেননা আল্লাহ্ বলেন, “আমার স্মরণার্থে সালাত প্রতিষ্ঠা কর।” (সূরা ত্বাহা, ১৪)
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফরের একটি ঘটনা এসেছে। খায়বার থেকে ফেরার পথে নবী (صلى الله عليه وسلم) ও সাহাবীরা রাতে সফর করছিলেন। ক্লান্ত হয়ে শেষ রাতে যাত্রাবিরতি করা হলো এবং বিলাল (রাঃ)-কে রাতের দিকে নজর রাখতে বলা হলো। কিন্তু বিলাল (রাঃ)-এরও ঘুম চলে আসে। ফলে নবী (صلى الله عليه وسلم), বিলাল (রাঃ) এবং সাহাবীদের কারও ঘুম ভাঙে না, যতক্ষণ না সূর্যের তাপ তাঁদের গায়ে লাগে। জাগার পর নবী (صلى الله عليه وسلم) কিছু দূর এগিয়ে ওজু করেন, বিলাল (রাঃ) ইকামত দেন এবং সবাই ফজরের সালাত আদায় করেন। শেষে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, কেউ সালাত ভুলে গেলে স্মরণ হওয়া মাত্র তা আদায় করবে; কারণ আল্লাহ বলেছেন, আমার স্মরণার্থে সালাত প্রতিষ্ঠা কর। এই হাদিসে ঘুমে সালাত ছুটে গেলে করণীয়, ফজর সালাত, ওজু এবং দ্রুত আদায়ের শিক্ষা স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঘুম বা ভুলে সালাত ছুটে গেলে স্মরণ হওয়া মাত্র আদায় করতে হবে।
- সাহাবীদের ঘটনাতেও ঘুমের কারণে ফজর ছুটে যাওয়ার কথা এসেছে।
- সালাত আদায়ের আগে ওজু করা হয়েছে।
- স্মরণ হলে সালাত দেরি না করে আদায় করার নির্দেশ এসেছে।
