৪০/১৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪০২ - পাগল ব্যক্তির শরয়ী দায়
পাগল চুরি বা হাদ্দযোগ্য অপরাধ করলে
পাগল ব্যক্তির শরয়ী দায়মুক্তির হাদিস
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৪০২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৪০২
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، - الْمَعْنَى - عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، - قَالَ هَنَّادٌ - الْجَنْبِيِّ قَالَ أُتِيَ عُمَرُ بِامْرَأَةٍ قَدْ فَجَرَتْ فَأَمَرَ بِرَجْمِهَا فَمَرَّ عَلِيٌّ رضى الله عنه فَأَخَذَهَا فَخَلَّى سَبِيلَهَا فَأُخْبِرَ عُمَرُ قَالَ ادْعُوا لِي عَلِيًّا . فَجَاءَ عَلِيٌّ رضى الله عنه فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَقَدْ عَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلاَثَةٍ عَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَبْلُغَ وَعَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنِ الْمَعْتُوهِ حَتَّى يَبْرَأَ " . وَإِنَّ هَذِهِ مَعْتُوهَةُ بَنِي فُلاَنٍ لَعَلَّ الَّذِي أَتَاهَا أَتَاهَا وَهِيَ فِي بَلاَئِهَا . قَالَ فَقَالَ عُمَرُ لاَ أَدْرِي . فَقَالَ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَأَنَا لاَ أَدْرِي .
আবূ যিবৃয়ান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
হান্নাদ আল-জানাবী বলেছেন: একদা এক জেনাকারিনীকে ‘উমর (রাঃ)–র নিকট হাজির করা হলে তিনি তাকে পাথর মেরে হত্যার আদেশ দেন। এ সময় ‘আলি (রাঃ) ঐ পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ছেড়ে দিলেন। ’উমর (রাঃ) এ সংবাদ পেয়ে ‘আলি (রাঃ) কে ডেকে পাঠালেন। ‘আলি (রাঃ) তাঁর নিকট এসে বলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে: রাসুলাল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তিন প্রকার লোকদের উপর হতে কলম তুলে রাখা হয়েছে:(১) নাবালেগ, যতক্ষণ না বালেগ হয়(২) নিদ্রিত ব্যক্তি, যতক্ষণ না জাগ্রত হয়, এবং(৩) পাগল, যতক্ষণ না সুস্থ হয়। আর এ তো অমুক গোত্রের পাগলিনী। সে যা করেছে, সম্ভবত উন্মাদ অবস্থায় তা করেছে। বর্ণনাকারী বলেন, ‘উমর (রাঃ) বলেন, আমার বিষয়টি জানা নেই। অতঃপর ‘আলি (রাঃ) বলেন, আমিও জানতাম না।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী (রাঃ) একটি কঠিন বিচারিক ঘটনায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ স্মরণ করিয়ে দেন। এক নারীকে যিনার অপরাধে শাস্তির জন্য আনা হয়েছিল। আলী (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন তিনজনের ওপর থেকে কলম তুলে রাখা হয়েছে: নাবালেগ যতক্ষণ বালেগ না হয়, ঘুমন্ত যতক্ষণ না জাগে এবং পাগল যতক্ষণ না সুস্থ হয়। তিনি আরও বলেন, ঐ নারী অমুক গোত্রের পাগলী; সে হয়তো উন্মাদ অবস্থায় কাজটি করেছে। এই বর্ণনায় মূল কথা হলো, হদ্দ বা শাস্তির আগে মানুষের অবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। সন্দেহ থাকলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া যায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শাস্তি দেওয়ার আগে মানসিক সুস্থতা যাচাই করা দরকার।
- নাবালেগ, ঘুমন্ত ও পাগল ব্যক্তি পূর্ণ দায়ের অধীন নয়।
- সন্দেহ থাকলে বিচারিক বিষয়ে সতর্কতা জরুরি।
