৪০/২৪. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪২৮ - তাওবা ও গীবতের সতর্কতা

মাইয ইবনু মালিককে রজম করার ঘটনা

তাওবা, রজম ও গীবতের কঠিন সতর্কতা

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৪২৮

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الصَّامِتِ ابْنَ عَمِّ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ جَاءَ الأَسْلَمِيُّ إِلَى نَبِيِّ اللَّهِ ﷺ فَشَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَنَّهُ أَصَابَ امْرَأَةً حَرَامًا أَرْبَعَ مَرَّاتٍ كُلُّ ذَلِكَ يُعْرِضُ عَنْهُ النَّبِيُّ ﷺ فَأَقْبَلَ فِي الْخَامِسَةِ فَقَالَ " أَنِكْتَهَا " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " حَتَّى غَابَ ذَلِكَ مِنْكَ فِي ذَلِكَ مِنْهَا " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " كَمَا يَغِيبُ الْمِرْوَدُ فِي الْمُكْحُلَةِ وَالرِّشَاءُ فِي الْبِئْرِ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَهَلْ تَدْرِي مَا الزِّنَا " . قَالَ نَعَمْ أَتَيْتُ مِنْهَا حَرَامًا مَا يَأْتِي الرَّجُلُ مِنِ امْرَأَتِهِ حَلاَلاً. قَالَ " فَمَا تُرِيدُ بِهَذَا الْقَوْلِ " . قَالَ أُرِيدُ أَنْ تُطَهِّرَنِي .فَأَمَرَ بِهِ فَرُجِمَ فَسَمِعَ النَّبِيُّ ﷺ رَجُلَيْنِ مِنْ أَصْحَابِهِ يَقُولُ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ انْظُرْ إِلَى هَذَا الَّذِي سَتَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَلَمْ تَدَعْهُ نَفْسُهُ حَتَّى رُجِمَ رَجْمَ الْكَلْبِ. فَسَكَتَ عَنْهُمَا ثُمَّ سَارَ سَاعَةً حَتَّى مَرَّ بِجِيفَةِ حِمَارٍ شَائِلٍ بِرِجْلِهِ فَقَالَ " أَيْنَ فُلاَنٌ وَفُلاَنٌ " . فَقَالاَ نَحْنُ ذَانِ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " انْزِلاَ فَكُلاَ مِنْ جِيفَةِ هَذَا الْحِمَارِ " . فَقَالاَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَنْ يَأْكُلُ مِنْ هَذَا قَالَ " فَمَا نِلْتُمَا مِنْ عِرْضِ أَخِيكُمَا آنِفًا أَشَدُّ مِنْ أَكْلٍ مِنْهُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهُ الآنَ لَفِي أَنْهَارِ الْجَنَّةِ يَنْقَمِسُ فِيهَا " .

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা আসলাম গোত্রীয় এক লোক নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য দেয় যে, সে জনৈকা নারীর সঙ্গে হারাম কাজ করেছে। প্রতিবারই নবী (ﷺ) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। পঞ্চমবার সে একথা বললে তিনি তার দিকে ফিরে প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কি তার সঙ্গে যেনা করেছ সে বলল, হাঁ। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তোমার লজ্জাস্থান কি তার লজ্জাস্থানে ঢুকেছে? সে বলল, হাঁ। তিনি বললেনঃ যেরূপ সুরমা শলাকা সুরমা দানীতে ঢুকে যায় এবং রশি যেরূপ কূপের মধ্যে ঢুকে পড়ে? সে বলল, হাঁ।তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তুমি কি জান, যেনা কি? সে বলল, হাঁ, কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে বৈধভাবে যে সহবাস করে, আমি ঐ নারীর সঙ্গে অবৈধভাবে তা করেছি। তিনি বললেনঃ তোমার একথা বলার উদ্দেশ্য কী? সে বলল, আপনি আমাকে পবিত্র করবেন, এটাই আমার উদ্দেশ্য। অতঃপর তিনি আদেশ দিলেন তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হলো।অতঃপর আল্লাহর নবী (ﷺ) শুনতে পান যে, তাঁর দু’জন সাহাবী একে অপরকে বলছেন লোকটিকে দেখো, আল্লাহ যার অপরাধ গোপন রাখলেন, অথচ নিজেকেই সে রক্ষা করতে পারল না, অতঃপর কুকুরের মত তাকে পাথর মেরে হত্যা করা হলো। তিনি তাদের একথা শুনে চুপ থাকলেন এবং কিছু সময় চলার পর একটি গাধার লাশের নিকট এলেন যার পা উপরের দিকে উঠেছিল।তিনি বললেনঃ অমুক অমুক কোথায়? তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এখানে। তিনি বললেনঃ তোমরা দু’জন নেমে গিয়ে এ গাধার গোশত খাও। তারা বলল, হে আল্লাহর নবী! এটা কি কেউ খেতে পারে? তিনি বললেনঃ তোমরা এখন তোমাদের এক ভাইয়ের মর্যাদা নিয়ে যেরূপ মন্তব্য করেছ, তা এর গোশত খাওয়ার চাইতেও গুরুতর। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! নিশ্চয়ই সে এখন জান্নাতের ঝর্ণাসমূহে আনন্দে ডুব দিচ্ছে।

[১] আবূ ইয়ালা, রায়হাক্বী, ইবনু হিব্বান। সানাদে ‘আবদুর রহমান ইবনু সামিত রয়েছে। হাফিয বলেনঃ তিনি মাজহুল (অজ্ঞাত)।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪২৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তি নিজের বিরুদ্ধে বারবার সাক্ষ্য দেয় যে, সে হারাম কাজে জড়িয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে মুখ ফিরিয়ে নেন। পরে তিনি প্রশ্নের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন, প্রকৃত যিনা ঘটেছে কি না এবং সে যিনার অর্থ জানে কি না। লোকটি জানায়, তার উদ্দেশ্য হলো নিজেকে পবিত্র করা। এরপর রজমের আদেশ হয়। পরে দুজন ব্যক্তি তার সম্পর্কে কটু কথা বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাদের একটি মৃত গাধার পাশে থামিয়ে বলেন, তাদের ভাইয়ের মর্যাদা নিয়ে যে কথা বলা হয়েছে, তা ওই মৃত গাধার গোশত খাওয়ার চেয়েও গুরুতর। শেষে তিনি জানান, লোকটি জান্নাতের ঝর্ণায় আছে। এই হাদিসে তাওবা, পাপের স্বীকারোক্তি, রজম এবং গীবতের ভয়াবহতা একসঙ্গে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • স্বীকারোক্তির আগে কাজটির প্রকৃতি ও ব্যক্তির বুঝ যাচাই করা হয়েছে।
  • লোকটি নিজের পবিত্রতার উদ্দেশ্য প্রকাশ করেছে।
  • শাস্তির পরও কারো সম্মান নিয়ে কটু কথা বলা গুরুতর বিষয়।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) মৃত ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষায় সাহাবীদের সতর্ক করেছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন