৪০/২৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৪৭ - সম্মানী-দুর্বল ভেদে বিচার নয়
দুই ইয়াহুদীকে রজম করার ঘটনা
ন্যায়বিচারে ধনী-গরিবের ভেদ নয়
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৪৪৭
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৪৪৭
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ مَرُّوا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ بِيَهُودِيٍّ قَدْ حُمِّمَ وَجْهُهُ وَهُوَ يُطَافُ بِهِ فَنَاشَدَهُمْ مَا حَدُّ الزَّانِي فِي كِتَابِهِمْ قَالَ فَأَحَالُوهُ عَلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ فَنَشَدَهُ النَّبِيُّ ﷺ «مَا حَدُّ الزَّانِي فِي كِتَابِكُمْ» . فَقَالَ الرَّجْمُ وَلَكِنْ ظَهَرَ الزِّنَا فِي أَشْرَافِنَا فَكَرِهْنَا أَنْ يُتْرَكَ الشَّرِيفُ وَيُقَامَ عَلَى مَنْ دُونَهُ فَوَضَعْنَا هَذَا عَنَّا . فَأَمَرَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَرُجِمَ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَوَّلُ مَنْ أَحْيَا مَا أَمَاتُوا مِنْ كِتَابِكَ» .
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একদা কালিমা মাখা মুখ বিশিষ্ট এক ইয়াহুদীকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাকে জনসমক্ষে ঘুরানো হচ্ছিল। তিনি তাঁদের কসম দিয়ে বলেন, তাঁদের কিতাবে যেনাকারীর হাদ্দ কী? বর্ণনাকারী বলেন, তারা তাঁকে তাঁদের মধ্যকার একজনকে দেখিয়ে দিলো। নবী (ﷺ) তাঁকে কসম দিয়ে প্রশ্ন করেনঃ তোমাদের কিতাবে যেনাকারীর হাদ্দ কী? সে বললো, রজম। কিন্তু আমাদের সম্ভ্রান্ত লোকদের মধ্যে যেনা ছড়িয়ে পড়লে তাঁদের শাস্তি হতে রেহাই দেয়া এবং অন্যদের শাস্তি দেয়া আমরা পছন্দ করলাম না। অতএব আমরা উপরোক্ত শাস্তি বাতিল করে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিলে অপরাধীকে রজম করা হয়। অতঃপর তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! তারা তোমার কিতাবের যে অংশের মৃত্যু ঘটিয়েছিল আমিই প্রথম তা পুনর্জীবিত করলাম।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ইহুদিকে কালিমা মাখা মুখে জনসমক্ষে ঘোরানো হচ্ছিল। নবী صلى الله عليه وسلم তাদের কাছে জানতে চান, তাদের কিতাবে যেনাকারীর হদ কী। শেষ পর্যন্ত তাদের একজন স্বীকার করে যে, আসল বিধান ছিল রজম। কিন্তু তাদের সমাজে যখন সম্মানিত লোকদের মধ্যে যিনা দেখা দিল, তখন তারা সম্ভ্রান্তদের ছাড় দেওয়া এবং সাধারণদের শাস্তি দেওয়া পছন্দ করেনি। ফলে তারা আসল শাস্তি বাদ দিয়ে অন্য শাস্তি চালু করে। নবী صلى الله عليه وسلم অপরাধীর উপর রজমের নির্দেশ দেন এবং বলেন, তারা আল্লাহর কিতাবের যে অংশকে মৃত করে দিয়েছিল, তিনি সেটি জীবিত করলেন। এখানে ন্যায়বিচারের বড় শিক্ষা আছে: বিধান মানুষ দেখে বদলানো যাবে না; সম্মানী ও সাধারণ সবার জন্য বিচার একইভাবে হওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্মানী ও দুর্বল মানুষের জন্য আলাদা বিচার করা অন্যায়।
- আল্লাহর কিতাবের বিধান বদলে ফেলা গুরুতর বিষয়।
- সত্য জানার পর নবী صلى الله عليه وسلم আসল বিধান অনুযায়ী ফয়সালা করেন।
- সমাজের চাপ বিচারকে বদলে দিতে পারে—এ বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
