৪০/২৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৪৬ - তাওরাতে রজমের আয়াত প্রকাশ
দুই ইয়াহুদীকে রজম করার ঘটনা
তাওরাতের রজম বিধান ও সত্য সাক্ষ্য
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৪৪৬
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৪৪৬
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ قَالَ إِنَّ الْيَهُودَ جَاءُوا إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَذَكَرُوا لَهُ أَنَّ رَجُلاً مِنْهُمْ وَامْرَأَةً زَنَيَا فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَا تَجِدُونَ فِي التَّوْرَاةِ فِي شَأْنِ الزِّنَا " . فَقَالُوا نَفْضَحُهُمْ وَيُجْلَدُونَ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ كَذَبْتُمْ إِنَّ فِيهَا الرَّجْمَ . فَأَتَوْا بِالتَّوْرَاةِ فَنَشَرُوهَا فَجَعَلَ أَحَدُهُمْ يَدَهُ عَلَى آيَةِ الرَّجْمِ ثُمَّ جَعَلَ يَقْرَأُ مَا قَبْلَهَا وَمَا بَعْدَهَا فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ ارْفَعْ يَدَكَ . فَرَفَعَهَا فَإِذَا فِيهَا آيَةُ الرَّجْمِ فَقَالُوا صَدَقَ يَا مُحَمَّدُ فِيهَا آيَةُ الرَّجْمِ . فَأَمَرَ بِهِمَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَرُجِمَا . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَرَأَيْتُ الرَّجُلَ يَحْنِي عَلَى الْمَرْأَةِ يَقِيهَا الْحِجَارَةَ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা ইয়াহুদীরা নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বললো, তাদের একজোড়া নারী-পুরুষ যেনা করেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের বলেনঃ তাওরাতে তোমরা যেনা সম্বন্ধে কি হুকুম পেয়েছো? তারা বললো, আমরা তো অপমান করি এবং তাদেরকে বেত্রাঘাত করা হয়। একথা শুনে ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বলেন, তোমরা মিথ্যা বলেছো। নিশ্চয়ই তাতে রজম করার হুকুম বিদ্যমান।অতঃপর তারা তাওরাত কিতাব নিয়ে আসে এবং তা খোলে। তাদের একজন তার একটি হাত রজমের আয়াতের উপর রেখে দিয়ে এর পূর্বাপর পড়তে থাকে। ‘আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তাকে হাত উঠিয়ে নিতে আদেশ দেন। সে হাত উঠিয়ে নিতেই দেখা গেলো যে, তাতে রজমের আয়াত রয়েছে। তারা বললো, হে মুহাম্মাদ! তিনি সত্যিই বলেছেন, নিশ্চয়ই তাতে রজমের আয়াত আছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আদেশে দু’জনকেই রজম করা হলো। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) বলেন, আমি দেখলাম, পুরুষটি ঐ নারীকে পাথরের আঘাত থেকে রক্ষার জন্য তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইহুদিদের এক নারী-পুরুষের যিনার ঘটনা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সামনে আনা হয়। তিনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, তাওরাতে যিনা সম্পর্কে কী বিধান আছে। তারা প্রথমে বলে, অপমান করা ও বেত্রাঘাত করা হয়। তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম রা. বলেন, তারা মিথ্যা বলছে; তাওরাতে রজমের বিধান আছে। এরপর তাওরাত আনা হলে একজন ব্যক্তি রজমের আয়াতের উপর হাত রেখে পূর্বাপর অংশ পড়তে থাকে। হাত সরাতে বললে রজমের আয়াত প্রকাশ পায়। তখন তারা স্বীকার করে যে, আয়াত আছে। নবী صلى الله عليه وسلم উভয়কে রজমের নির্দেশ দেন। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কিতাবের বিধান গোপন করা বড় অন্যায়, আর বিচারকাজে সত্য প্রকাশ করা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধর্মীয় বিধান গোপন করা সত্যকে বিকৃত করার শামিল।
- বিচারকাজে মূল দলিল যাচাই করা হয়েছে।
- আবদুল্লাহ ইবনু সালাম রা. সত্য প্রকাশে ভূমিকা রাখেন।
- নবী صلى الله عليه وسلم জিজ্ঞেস করে, দলিল এনে, তারপর ফয়সালা করেন।
