৪০/২৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৪৫ - কিতাব অনুযায়ী ফয়সালার শিক্ষা
নবী (ﷺ) জুহাইনাহ গোত্রের যে মহিলাকে পাথর মারার আদেশ দিয়েছিলেন
যিনার মামলায় ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৪৪৫
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৪৪৫
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّهُمَا أَخْبَرَاهُ أَنَّ رَجُلَيْنِ اخْتَصَمَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ أَحَدُهُمَا يَا رَسُولَ اللَّهِ اقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ . وَقَالَ الآخَرُ وَكَانَ أَفْقَهَهُمَا أَجَلْ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَاقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ وَائْذَنْ لِي أَنْ أَتَكَلَّمَ . قَالَ " تَكَلَّمْ " . قَالَ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا - وَالْعَسِيفُ الأَجِيرُ - فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّمَا عَلَى ابْنِي الرَّجْمَ فَافْتَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَبِجَارِيَةٍ لِي ثُمَّ إِنِّي سَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّمَا عَلَى ابْنِي جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ وَإِنَّمَا الرَّجْمُ عَلَى امْرَأَتِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَمَا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ أَمَّا غَنَمُكَ وَجَارِيَتُكَ فَرَدٌّ إِلَيْكَ» . وَجَلَدَ ابْنَهُ مِائَةً وَغَرَّبَهُ عَامًا وَأَمَرَ أُنَيْسًا الأَسْلَمِيَّ أَنْ يَأْتِيَ امْرَأَةَ الآخَرِ فَإِنِ اعْتَرَفَتْ رَجَمَهَا فَاعْتَرَفَتْ فَرَجَمَهَا .
‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উতবাহ ইবনু মাস’ঊদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) এবং যায়িদ ইবনু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) তার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, দুই বিবাদমান ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলো। তাদের একজন বললো, হে আল্লাহর রাসূল! কোরআন অনুসারে আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিন। দ্বিতীয়জন বললো, সে ছিল তাদের দু’জনের মধ্যে অধিক বুদ্ধিমান, হাঁ ঠিক আছে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করে দিন, আর আমাকে কিছু বলার অনুমতি দিন। তিনি বললেনঃ বলো।সে বললো, আমার ছেলে এই লোকটির শ্রমিক ছিল। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যেনা করেছে। কতক লোক আমাকে জানিয়েছে, আমার ছেলের দণ্ড হলো পাথর নিক্ষেপে হত্যা। সুতরাং আমি তার পক্ষ হতে একশো বকরী ও আমার একটি দাসী জরিমানা দেই। পুনরায় আমি এ ব্যাপারে জ্ঞানীদের প্রশ্ন করলে তারা আমাকে বলেন যে, আমার ছেলের শাস্তি হলো একশো বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন, আর এই লোকটির স্ত্রীর শাস্তি হলো পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা।এ ঘটনা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জেনে রাখো, যে পবিত্র সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! আমি অবশ্যই তোমাদের মাঝে মহান আল্লাহর কিতাব মোতাবেক ফায়সালা করবো। তোমার বকরী ও দাসী তুমি ফিরে পাবে। অতঃপর তিনি তার ছেলেকে একশো বেত্রাঘাত করে এবং এক বছরের নির্বাসন দেন এবং উনাইস আল-আসলামীকে আদেশ দেন অপর লোকটির স্ত্রীর নিকট যেতে এবং সে যদি স্বীকারোক্তি করে তাহলে তাকে রজম করতে। অতএব সে স্বীকারোক্তি করলে তিনি তাকে রজম করলেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুই ব্যক্তির একটি বিচারিক ঘটনা এসেছে। একজনের ছেলে অন্য ব্যক্তির শ্রমিক ছিল এবং সে ওই ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে যিনায় জড়িয়ে পড়ে। প্রথমে ভুল ধারণার কারণে ছেলের পক্ষ থেকে একশো বকরী ও একটি দাসী দেওয়া হয়েছিল। পরে জ্ঞানীদের কাছে জিজ্ঞেস করলে জানা যায়, ছেলের জন্য একশো বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন, আর বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে রজমের কথা আছে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তিনি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করবেন। এরপর বকরী ও দাসী ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন, ছেলেকে একশো বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন দেন, আর উনাইস রা.-কে নারীর কাছে যেতে বলেন। সে স্বীকার করলে তাকে রজম করা হয়। এই বর্ণনায় বিচার, স্বীকারোক্তি, ভুল ক্ষতিপূরণ ফেরত এবং অপরাধভেদে পৃথক ফয়সালার বিষয় এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারে আবেগ নয়, সঠিক জ্ঞান ও প্রমাণের ভিত্তি জরুরি।
- ভুলভাবে নেওয়া সম্পদ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ এসেছে।
- অপরাধ ও অবস্থাভেদে ফয়সালা আলাদা হতে পারে।
- স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
