৪০/২৬. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৫১ - অমুসলিমের মামলায় ফয়সালার শিক্ষা

দুই ইয়াহুদীকে রজম করার ঘটনা

তাজবিয়াহ, রজম ও বিচারাধিকার

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৪৫১

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ يَحْيَى أَبُو الأَصْبَغِ الْحَرَّانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، - يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَجُلاً، مِنْ مُزَيْنَةَ يُحَدِّثُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ زَنَى رَجُلٌ وَامْرَأَةٌ مِنَ الْيَهُودِ وَقَدْ أُحْصِنَا حِينَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْمَدِينَةَ وَقَدْ كَانَ الرَّجْمُ مَكْتُوبًا عَلَيْهِمْ فِي التَّوْرَاةِ فَتَرَكُوهُ وَأَخَذُوا بِالتَّجْبِيَةِ يُضْرَبُ مِائَةً بِحَبْلٍ مَطْلِيٍّ بِقَارٍ وَيُحْمَلُ عَلَى حِمَارٍ وَجْهُهُ مِمَّا يَلِي دُبُرَ الْحِمَارِ فَاجْتَمَعَ أَحْبَارٌ مِنْ أَحْبَارِهِمْ فَبَعَثُوا قَوْمًا آخَرِينَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالُوا سَلُوهُ عَنْ حَدِّ الزَّانِي .وَسَاقَ الْحَدِيثَ قَالَ فِيهِ قَالَ وَلَمْ يَكُونُوا مِنْ أَهْلِ دِينِهِ فَيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ فَخُيِّرَ فِي ذَلِكَ قَالَ ﴾فَإِنْ جَاءُوكَ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ﴿ .

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি মুযাইনাহ গোত্রের জনৈক ব্যক্তিকে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব (রহঃ)-এর নিকট আবূ হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। তিনি বলেন, একজোড়া বিবাহিত ইয়াহুদী নারী-পুরুষ যেনা করে। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিজরত করে মদিনায় আসেন। যেনার শাস্তির ব্যাপারে তাওরাত কিতাবে রজমের বিধান বিদ্যমান ছিল, কিন্তু ইয়াহূদিরা তা পরিত্যাগ করে ‘তাজবীহ’ নামক শাস্তি চালু করে। তাজ্‌বীহ হলো, পাকানো রশি দিয়ে একশোবার প্রহার করা এবং মুখমণ্ডলে চুন-কালি মেখে গাধার উপর এমনভাবে বসিয়ে দেয়া যে, অপরাধীর মুখ গাধার পেছন দিকে থাকে। এমনিভাবে তাকে এলাকা জুড়ে চক্কর দেয়া।অতঃপর তাদের আলিমদের একটি দল একত্র হলো এবং অপর একটি দলকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পাঠিয়ে দিলো এবং তাদের বলে দিলো যে, তাঁকে গিয়ে যেনার শাস্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করবে। এভাবে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসে আরো আছেঃ যারা তাঁর ধর্মের অনুসারী নয়, তিনি তাদের মাঝে ফায়সালা করতে বাধ্য ছিলেন না।অতঃপর এ ব্যাপারে তাঁকে স্বাধীনতা দিয়ে আল্লাহ বলেনঃ “তারা যদি আপনার নিকট আসে, তবে আপনি তাদের বিচার মীমাংসা করুন অথবা তাদের উপেক্ষা করুন” (সূরা আল-মায়েদাঃ ৪২)।

[৪৪৫০] আবূ দাঊদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এর সানাদে মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক্ব একজন মুদাল্লিস এবং তিনি এটি আন্‌ আন্‌ শব্দে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া সানাদে নাম উল্লেখহীন জনৈক ব্যক্তি রয়েছে।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৫১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আবু হুরাইরা রা.-এর সূত্রে ইহুদি নারী-পুরুষের যিনার ঘটনা আরেকভাবে এসেছে। তারা বিবাহিত ছিল এবং তাওরাতে তাদের জন্য রজমের বিধান ছিল। কিন্তু তারা রজম ছেড়ে তাজবিয়াহ নামে শাস্তি চালু করেছিল। বর্ণনায় তাজবিয়াহর ধরনও বলা হয়েছে: পাকানো রশি দিয়ে একশোবার প্রহার, মুখে চুন-কালি লাগানো, গাধায় উল্টোভাবে বসিয়ে ঘোরানো। এরপর তাদের আলিমরা একদলকে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে পাঠায় যেন তিনি হদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। হাদিসে আরও এসেছে, তারা নবী صلى الله عليه وسلم-এর ধর্মের অনুসারী ছিল না, তবু তিনি তাদের মাঝে বিচার করতেন; পরে এ বিষয়ে তাঁকে বিচার করা বা উপেক্ষা করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়। মূল শিক্ষা হলো, বিচারিক ফয়সালায় দলিল, সত্য ও কর্তৃত্বের বিষয় বড়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আসল বিধান ছেড়ে নিজেরা নতুন শাস্তি বানানোর কথা এসেছে।
  • নবী صلى الله عليه وسلم অমুসলিমদের মামলাতেও বিচার করেছেন বলে বর্ণনায় আছে।
  • আল্লাহ তাঁকে বিচার করা বা উপেক্ষা করার স্বাধীনতা দেন।
  • তাজবিয়াহর বর্ণনা হাদিসে রজম ত্যাগের উদাহরণ হিসেবে এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন