৪১/৩. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৫০২ - মুসলিমের রক্ত হালাল হওয়ার তিন কারণ

শাসক বা বিচারক যদি খুনিকে ক্ষমা করার আদেশ দেন

মুসলিমের রক্ত হালাল নয়: তিন কারণ

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৫০২

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ، قَالَ كُنَّا مَعَ عُثْمَانَ وَهُوَ مَحْصُورٌ فِي الدَّارِ وَكَانَ فِي الدَّارِ مَدْخَلٌ مَنْ دَخَلَهُ سَمِعَ كَلاَمَ مَنْ عَلَى الْبَلاَطِ فَدَخَلَهُ عُثْمَانُ فَخَرَجَ إِلَيْنَا وَهُوَ مُتَغَيِّرٌ لَوْنُهُ فَقَالَ إِنَّهُمْ لَيَتَوَاعَدُونَنِي بِالْقَتْلِ آنِفًا ‏.‏ قُلْنَا يَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ ‏.‏ قَالَ وَلِمَ يَقْتُلُونَنِي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لاَ يَحِلُّ دَمُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلاَّ بِإِحْدَى ثَلاَثٍ كُفْرٌ بَعْدَ إِسْلاَمٍ أَوْ زِنًا بَعْدَ إِحْصَانٍ أَوْ قَتْلُ نَفْسٍ بِغَيْرِ نَفْسٍ ‏"‏ ‏.‏ فَوَاللَّهِ مَا زَنَيْتُ فِي جَاهِلِيَّةٍ وَلاَ إِسْلاَمٍ قَطُّ وَلاَ أَحْبَبْتُ أَنَّ لِي بِدِينِي بَدَلاً مُنْذُ هَدَانِي اللَّهُ وَلاَ قَتَلْتُ نَفْسًا فَبِمَ يَقْتُلُونَنِي قَالَ أَبُو دَاوُدَ عُثْمَانُ وَأَبُو بَكْرٍ رضى الله عنهما تَرَكَا الْخَمْرَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ ‏.

আবূ উমামাহ ইবনু সাহল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা ‘উসমান (রাঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম, যখন তিনি (বিদ্রোহীদের দ্বারা) একটি ঘরে আটক ছিলেন। ঐ ঘরের একটি প্রবেশদ্বার ছিল। কেউ ঐ প্রবেশদ্বারে প্রবেশ করলে আল-বালাত নামক স্থানের লোকের কথাবার্তা শুনতে পেতো। ‘উসমান (রাঃ) তাতে প্রবেশ করলেন এবং বিবর্ণ অবস্থায় আমাদের নিকট এসে বললেন, তারা এইমাত্র আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, হে আমীরূল মুমিনীন! আল্লাহ্‌ই তাদের বিরুদ্ধে আপনার জন্য যথেষ্ট। তিনি প্রশ্ন করলেন, তারা আমাকে হত্যা করবে কেন? আমি তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ তিনটি অপরাধের কোন একটি ব্যাতীত মুসলিম ব্যক্তির রক্তপাত করা হালাল নয়,(১) ইসলাম গ্রহণের পর পুনরায় কুফরীতে ফিরে যাওয়া(২) বিবাহিত ব্যক্তির যেনায় লিপ্ত হওয়া এবং(৩) হত্যার অপরাধী না হওয়া সত্ত্বেও কোন ব্যক্তিকে হত্যা করলে।আল্লাহর কসম! আমি জাহিলী যুগে এবং ইসলামী যুগেও কখনো যেনা করিনি। আল্লাহ আমাকে হেদায়াত দান করার পর হতে আমি মোটেই অন্য ধর্ম গ্রহণ পছন্দ করি না এবং আমি কোন মানুষকে হত্যা করিনি। অতএব তারা কেন আমাকে হত্যা করবে?

ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘উসমান ও আবূ বকর (রাঃ) উভয়ে জাহিলী যুগেই মাদক গ্রহণ পরিত্যাগ করেছেন।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৫০২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উসমান রা.-এর একটি কঠিন সময়ের কথা এসেছে। তিনি ঘরে অবরুদ্ধ ছিলেন এবং তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর একটি স্পষ্ট বাণী স্মরণ করিয়ে দেন—তিনটি অপরাধের কোনো একটি না হলে কোনো মুসলিম ব্যক্তির রক্তপাত হালাল নয়। সেগুলো হলো ইসলাম গ্রহণের পর কুফরীতে ফিরে যাওয়া, বিবাহিত অবস্থায় জিনা করা, অথবা কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা। উসমান রা. নিজের ব্যাপারে বলেন, তিনি জাহিলি যুগে বা ইসলামে কখনো জিনা করেননি, আল্লাহ তাঁকে হেদায়েত দেওয়ার পর ধর্ম বদল পছন্দ করেননি এবং কোনো মানুষকে হত্যা করেননি। তাই তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে তারা কেন তাঁকে হত্যা করবে? হাদিসটি মুসলিমের প্রাণের সম্মান, অন্যায় রক্তপাতের ভয়াবহতা এবং অভিযোগে সতর্কতার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মুসলিমের প্রাণের সম্মান রক্ষা করা বড় দায়িত্ব।
  • তিনটি নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া রক্তপাত হালাল নয়—এ কথা হাদিসে স্পষ্ট এসেছে।
  • ব্যক্তিগত রাগ বা বিদ্রোহী আচরণ হত্যা করার বৈধ কারণ নয়।
  • নিজের চরিত্র ও আমল সম্পর্কে আল্লাহর সামনে জবাবদিহির অনুভূতি থাকা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন