৪১/৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৫০১ - অনিচ্ছাকৃত হত্যা, দিয়াত ও ক্ষমার শিক্ষা
শাসক বা বিচারক যদি খুনিকে ক্ষমা করার আদেশ দেন
অনিচ্ছাকৃত হত্যা ও দিয়াতের হাদিস
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৫০১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৫০১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْقُدُّوسِ بْنُ الْحَجَّاجِ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ عَطَاءٍ الْوَاسِطِيُّ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَائِلٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِحَبَشِيٍّ فَقَالَ إِنَّ هَذَا قَتَلَ ابْنَ أَخِي . قَالَ " كَيْفَ قَتَلْتَهُ " . قَالَ ضَرَبْتُ رَأْسَهُ بِالْفَأْسِ وَلَمْ أُرِدْ قَتْلَهُ . قَالَ " هَلْ لَكَ مَالٌ تُؤَدِّي دِيَتَهُ " . قَالَ لاَ . قَالَ " أَفَرَأَيْتَ إِنْ أَرْسَلْتُكَ تَسْأَلُ النَّاسَ تَجْمَعُ دِيَتَهُ " . قَالَ لاَ . قَالَ " فَمَوَالِيكَ يُعْطُونَكَ دِيَتَهُ " . قَالَ لاَ . قَالَ لِلرَّجُلِ " خُذْهُ " . فَخَرَجَ بِهِ لِيَقْتُلَهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا إِنَّهُ إِنْ قَتَلَهُ كَانَ مِثْلَهُ " . فَبَلَغَ بِهِ الرَّجُلُ حَيْثُ يَسْمَعُ قَوْلَهُ فَقَالَ هُوَ ذَا فَمُرْ فِيهِ مَا شِئْتَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَرْسِلْهُ - وَقَالَ مَرَّةً دَعْهُ - يَبُوءُ بِإِثْمِ صَاحِبِهِ وَإِثْمِهِ فَيَكُونَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ " . قَالَ فَأَرْسَلَهُ .
আলক্বামাহ ইবনু ওয়াইল (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি হাবশী এক লোককে নিয়ে নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বললো, এ লোক আমার ভাতিজাকে হত্যা করেছে। তিনি বললেন, তুমি তাকে কিভাবে হত্যা করেছো? সে বললো, আমি কুঠার দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেছিলাম, তবে তাকে হত্যা করার ইচ্ছা আমার ছিল না। তিনি বললেন, তোমার কি সম্পদ আছে যা দিয়ে তুমি তার রক্তপণ শোধ করতে পারো? সে বললো, না। তিনি বললেন, তুমি কি মনে করো, যদি আমি তোমাকে ছেড়ে দেই তাহলে তুমি কি মানুষের নিকট ভিক্ষা করে তার দিয়াত সংগ্রহ করতে পারবে? সে বললো, না। তিনি বললেন, তোমার মনিব গোষ্ঠী কি তোমার পক্ষ হতে তার দিয়াত দিবে? সে বললো, না। তিনি বাদীকে বললেন, একে নিয়ে যাও।অতঃপর হত্যা করার জন্য সে তাকে নিয়ে রওয়ানা হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “জেনে রাখো! যদি সে তাকে হত্যা করে, তাহলে সেও তার মতোই হবে”। কথাটি লোকটির কানে পৌঁছালো যেখান হতে সে তাঁর কথা শুনতে পাচ্ছিল। সে বললো, সে এখানে আছে; অতএব তার ব্যাপারে আপনার যা ইচ্ছা তাই হুকুম দিন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। অপর বর্ণনায় আছে, তাকে ত্যাগ করো, সে তার ও তার সাথীর গুনাহ বহন করবে, ফলে সে জাহান্নামী হবে। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সে তাকে ছেড়ে দিলো।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৫০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি হত্যার ঘটনা এসেছে, যেখানে হত্যাকারী বলেছে—সে কুঠার দিয়ে মাথায় আঘাত করেছিল, কিন্তু হত্যা করার ইচ্ছা তার ছিল না। নবী صلى الله عليه وسلم প্রথমে ঘটনা জানতে চেয়েছেন। এরপর তিনি জানতে চেয়েছেন, তার কাছে কি দিয়াত বা রক্তপণ দেওয়ার মতো সম্পদ আছে কি না। সে না বললে আরও জিজ্ঞেস করা হয়, মানুষদের কাছে চেয়ে বা মনিব গোষ্ঠীর সাহায্যে সে কি দিয়াত জোগাড় করতে পারবে। এখান থেকে বোঝা যায়, বিচার করার আগে কথা শোনা, উদ্দেশ্য জানা এবং ক্ষতিপূরণের পথ খোঁজা—এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। পরে বাদী তাকে নিয়ে গেলে নবী صلى الله عليه وسلم সতর্ক করে বলেন, সে যদি তাকে হত্যা করে, তাহলে সেও তার মতো হবে। এই কথার পর বাদী তাকে ছেড়ে দেয়। হাদিসটি কিসাস, দিয়াত, ক্ষমা ও হত্যার গুরুতর ফল সম্পর্কে গভীর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারে আগে ঘটনার ধরন ও হত্যার উদ্দেশ্য জানা দরকার।
- দিয়াত বা রক্তপণ হত্যার মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে এসেছে।
- প্রতিশোধের সময়ও আল্লাহভীতি ও সতর্কতা রাখা জরুরি।
- ক্ষমা করা অনেক সময় বড় ফিতনা ও গুনাহ থেকে বাঁচার কারণ হতে পারে।
