৪২/৯. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৬৫০ - সাহাবীদের গালি দেওয়া থেকে সতর্কতা

খলিফাগণ সম্পর্কে

সাহাবীদের গালি নয়: সাঈদ রাঃ-এর দৃঢ় প্রতিবাদ

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৬৫০

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْمُثَنَّى النَّخَعِيُّ، حَدَّثَنِي جَدِّي، رِيَاحُ بْنُ الْحَارِثِ قَالَ كُنْتُ قَاعِدًا عِنْدَ فُلاَنٍ فِي مَسْجِدِ الْكُوفَةِ وَعِنْدَهُ أَهْلُ الْكُوفَةِ فَجَاءَ سَعِيدُ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ نُفَيْلٍ فَرَحَّبَ بِهِ وَحَيَّاهُ وَأَقْعَدَهُ عِنْدَ رِجْلِهِ عَلَى السَّرِيرِ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْكُوفَةِ يُقَالُ لَهُ قَيْسُ بْنُ عَلْقَمَةَ فَاسْتَقْبَلَهُ فَسَبَّ وَسَبَّ فَقَالَ سَعِيدٌ مَنْ يَسُبُّ هَذَا الرَّجُلُ قَالَ يَسُبُّ عَلِيًّا .قَالَ أَلاَ أَرَى أَصْحَابَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يُسَبُّونَ عِنْدَكَ ثُمَّ لاَ تُنْكِرُ وَلاَ تُغَيِّرُ أَنَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ وَإِنِّي لَغَنِيٌّ أَنْ أَقُولَ عَلَيْهِ مَا لَمْ يَقُلْ فَيَسْأَلُنِي عَنْهُ غَدًا إِذَا لَقِيتُهُ «أَبُو بَكْرٍ فِي الْجَنَّةِ وَعُمَرُ فِي الْجَنَّةِ " . وَسَاقَ مَعْنَاهُ ثُمَّ قَالَ لَمَشْهَدُ رَجُلٍ مِنْهُمْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَغْبَرُّ فِيهِ وَجْهُهُ خَيْرٌ مِنْ عَمَلِ أَحَدِكُمْ عُمْرَهُ وَلَوْ عُمِّرَ عُمْرَ نُوحٍ .

রিয়াহ ইবনুল হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা আমি অমুক লোকের (মুগীরাহ ইবনু শু’বার) নিকট কুফার মাসজিদে বসা ছিলাম এবং তার নিকট কুফার লোকজনও উপস্থিত ছিল। এ সময় সাঈদ ইবনু যায়িদ ইবনু ‘আমর ইবনু নুফাইল (রাঃ) এলে তিনি তাকে সাদর সম্ভাষণ ও সালাম জানিয়ে খাটের উপর নিজের পায়ের কাছে বসালেন। অতঃপর ক্বাইস ইবনু ‘আলক্বামাহ নামক জনৈক কুফাবাসী এলে তাকেও অভ্যর্থনা জানালেন। তারপর সে গালাগালি করতে লাগলো।সাঈদ (রাঃ) বললেন, এ ব্যক্তি কাকে গালি দিচ্ছে? তিনি বললেন, সে ‘আলী (রাঃ) -কে গালি দিচ্ছে। তিনি বললেন, আমি দেখতে পাচ্ছি, সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীকে আপনার সম্মুখে গালি দিচ্ছে অথচ আপনি তাকে নিষেধ করছেন না আর থামাচ্ছেনও না! আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ আমি তাঁর সম্পর্কে এমন উক্তি করা হতে মুক্ত যা তিনি বলেননি। অতঃপর ক্বিয়ামাতের দিন যখন তার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হবে তখন এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। আবূ বকর (রাঃ) জান্নাতী, ‘উমর (রাঃ) জান্নাতী।বর্ণনাকারী অতঃপর অনুরূপ অর্থের বর্ণনা করলেন এবং তিনি বললেন, তাদের কোন একজনের রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্য লাভ, যে সাহচর্যে তার চেহারা ধুলিমলিন হয়েছে তাও তোমাদের কোন ব্যক্তির সারা জীবনের আমলের চেয়ে উত্তম, যদিও সে নূহ (আঃ)-এর মতো দীর্ঘ আয়ু পায়।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৬৫০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রিয়াহ ইবনুল হারিস বলেন, তিনি কুফার মসজিদে এক ব্যক্তির কাছে বসেছিলেন। সেখানে সাঈদ ইবন যায়িদ (রাঃ) আসেন। পরে কাইস ইবনু আলকামা এসে গালাগালি করতে থাকে। সাঈদ (রাঃ) জানতে চান, সে কাকে গালি দিচ্ছে। তাকে বলা হয়, সে আলী (রাঃ)-কে গালি দিচ্ছে। তখন সাঈদ (রাঃ) প্রতিবাদ করেন যে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সাহাবীকে তার সামনে গালি দেওয়া হচ্ছে, অথচ সে তা বন্ধ করছে না। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বাণী বর্ণনা করেন—আবু বকর ও উমর (রাঃ) জান্নাতী, এবং অনুরূপ অর্থে বাকি বর্ণনা আসে। শেষে তিনি সাহাবীদের রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে সামান্য সাহচর্যের মর্যাদাও খুব বড় বলে উল্লেখ করেন।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সাহাবীদের গালি দেওয়া হলে তা থামানোর চেষ্টা করা উচিত—এই বর্ণনায় এমন প্রতিবাদ দেখা যায়।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে কথা বলার ক্ষেত্রে সাঈদ (রাঃ) সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
  • সাহাবীদের রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সাহচর্য লাভের মর্যাদা বিশেষভাবে উল্লেখ হয়েছে।
  • আলী (রাঃ)-এর সম্মান রক্ষার বিষয়টি বর্ণনায় স্পষ্ট।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন