৪২/৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৬৪৯ - দশজন জান্নাতী সাহাবীর নাম
খলিফাগণ সম্পর্কে
আলী রাঃ-এর সমালোচনার জবাবে দশ জান্নাতী সাহাবী
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৬৪৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৬৪৯
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحُرِّ بْنِ الصَّيَّاحِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَخْنَسِ، أَنَّهُ كَانَ فِي الْمَسْجِدِ فَذَكَرَ رَجُلٌ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَقَامَ سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ فَقَالَ أَشْهَدُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ أَنِّي سَمِعْتُهُ وَهُوَ يَقُولُ «عَشْرَةٌ فِي الْجَنَّةِ النَّبِيُّ فِي الْجَنَّةِ وَأَبُو بَكْرٍ فِي الْجَنَّةِ وَعُمَرُ فِي الْجَنَّةِ وَعُثْمَانُ فِي الْجَنَّةِ وَعَلِيٌّ فِي الْجَنَّةِ وَطَلْحَةُ فِي الْجَنَّةِ وَالزُّبَيْرُ بْنُ الْعَوَّامِ فِي الْجَنَّةِ وَسَعْدُ بْنُ مَالِكٍ فِي الْجَنَّةِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فِي الْجَنَّةِ " . وَلَوْ شِئْتَ لَسَمَّيْتُ الْعَاشِرَ . قَالَ فَقَالُوا مَنْ هُوَ فَسَكَتَ قَالَ فَقَالُوا مَنْ هُوَ فَقَالَ هُوَ سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ .
আবদুর রহমান ইবনুল আখনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি মসজিদে থাকাবস্থায় এক ব্যক্তি ‘আলী (রাঃ) এর সমালোচনা করলে সাঈদ ইবনু যায়িদ (রাঃ) দাঁড়িয়ে বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দশ ব্যক্তি জান্নাতীঃ নবী (ﷺ) জান্নাতী, আবূ বকর (রাঃ) জান্নাতী, ‘উমর (রাঃ) জান্নাতী, ‘উসমান (রাঃ) জান্নাতী, ‘আলী (রাঃ) জান্নাতী, ত্বালহা (রাঃ) জান্নাতী, যুবাইর ইবনুল ‘আওয়াম (রাঃ) জান্নাতী, সা’দ ইবনু মালিক (রাঃ) জান্নাতী, ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) জান্নাতী। আমি (সাঈদ ইবনু যায়িদ) ইচ্ছা করলে দশম ব্যক্তির নামও বলতে পারি। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তারা বললেন, তিনি কে? তখন তিনি চুপ থাকলেন। বর্ণনাকারী বলেন, পুনরায় তারা বললেন, তিনি কে? তিনি বললেন, তিনি সাঈদ ইবনু যায়িদ।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৬৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, মসজিদে এক ব্যক্তি আলী (রাঃ)-এর সমালোচনা করলে সাঈদ ইবন যায়িদ (রাঃ) দাঁড়িয়ে যান। তিনি সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে বলতে শুনেছেন যে দশজন জান্নাতী। এরপর নামগুলো আসে—নবী (صلى الله عليه وسلم), আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, তালহা, যুবাইর ইবনু আওয়াম, সা‘দ ইবনু মালিক এবং আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ)। তিনি বলেন, ইচ্ছা করলে দশম ব্যক্তির নামও বলতে পারেন। লোকেরা জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রথমে চুপ থাকেন, পরে বলেন, দশম ব্যক্তি সাঈদ ইবন যায়িদ। এই বর্ণনার মূল শিক্ষা সাহাবীদের মর্যাদা, বিশেষ করে আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা রক্ষা এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সাক্ষ্যভিত্তিক কথা বলা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আলী (রাঃ)-এর সমালোচনার সময় সাঈদ (রাঃ) চুপ থাকেননি।
- জান্নাতের সুসংবাদ রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বাণী হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
- সাহাবীদের নাম উল্লেখে নির্দিষ্টতা ও সতর্কতা দেখা যায়।
- নিজের নাম বলার আগে সাঈদ (রাঃ)-এর নীরবতা বিনয়ের দিক দেখায়।
