৪২/১৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৬৮৭ - মুসলিমকে কাফির বলা নিয়ে সতর্কতা
ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাসের দলিল
মুসলিমকে কাফির বলা: ভয়ংকর সতর্কতার হাদিস
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৬৮৭
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৬৮৭
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ فُضَيْلِ بْنِ غَزْوَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَيُّمَا رَجُلٍ مُسْلِمٍ أَكْفَرَ رَجُلاً مُسْلِمًا فَإِنْ كَانَ كَافِرًا وَإِلاَّ كَانَ هُوَ الْكَافِرَ» .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে মুসলিম ব্যক্তি অন্য মুসলিমকে কাফির বলে, সে যদি কাফির না হয় তাহলে সে-ই কাফির।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৬৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم খুব পরিষ্কারভাবে মুসলিমকে কাফির বলার বিপদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যে মুসলিম অন্য মুসলিমকে কাফির বলে, যদি সে আসলে কাফির না হয়, তাহলে এ কথার ভয়াবহতা বলনেওয়ালার দিকে ফিরে আসে। এই বর্ণনা মানুষকে জিহ্বার ব্যবহার সম্পর্কে গভীরভাবে সতর্ক করে। কারও ভুল, গুনাহ বা মতভেদ দেখেই তাকে কাফির বলা সহজ কাজ নয়। এটি ঈমান, আকীদা ও মুসলিম পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত কঠিন বিষয়। তাই তাকফীর বা কাফির বলা নিয়ে তাড়াহুড়া করা বিপজ্জনক। এই হাদিসের প্রধান শিক্ষা হলো জবান সংযত রাখা, মুসলিমের সম্মান রক্ষা করা এবং বড় শব্দ ব্যবহারে আল্লাহকে ভয় করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কোনো মুসলিমকে কাফির বলা খুব গুরুতর বিষয়।
- ভুল তাকফীরের ভয়াবহতা কথাটি বলার ব্যক্তির দিকেই ফিরে আসতে পারে।
- গুনাহ বা মতভেদের কারণে তাড়াহুড়া করে কাফির বলা উচিত নয়।
- মুসলিমের সম্মান ও পরিচয় রক্ষায় জবানকে সংযত রাখা দরকার।
