৪২/১৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৬৮৮ - মুনাফিকের চারটি লক্ষণ
ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাসের দলিল
মুনাফিকের চারটি লক্ষণ: নিজেকে যাচাই করার হাদিস
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৬৮৮
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৬৮৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَرْبَعٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ فَهُوَ مُنَافِقٌ خَالِصٌ وَمَنْ كَانَتْ فِيهِ خَلَّةٌ مِنْهُنَّ كَانَ فِيهِ خَلَّةٌ مِنْ نِفَاقٍ حَتَّى يَدَعَهَا إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ وَإِذَا عَاهَدَ غَدَرَ وَإِذَا خَاصَمَ فَجَرَ» .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ চারটি স্বভাব যার মধ্যে পাওয়া যাবে সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে এ চারটি স্বভাবের কোনটি পাওয়া যায়, বর্জন করা পর্যন্ত তার ভেতরে মুনাফিকের একটি স্বভাব রয়েছে। তা হলো, যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে, প্রতিজ্ঞা করলে প্রতারণা করে এবং ঝগড়ার সময় অশ্লীল কথা বলে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৬৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم চারটি স্বভাবকে মুনাফিকের লক্ষণ হিসেবে বলেছেন। এগুলো হলো—কথা বললে মিথ্যা বলা, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করা, চুক্তি করলে প্রতারণা করা এবং ঝগড়ার সময় অশ্লীল কথা বলা। যার মধ্যে চারটি একসঙ্গে থাকে, তাকে হাদিসে খাঁটি মুনাফিক বলা হয়েছে। আর যার মধ্যে এর কোনো একটি থাকে, সে তা ছেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত তার ভেতরে মুনাফিকির একটি স্বভাব থাকে। এখানে শিক্ষা হলো, মুনাফিকির লক্ষণ শুধু বিশ্বাসের দাবির সঙ্গে নয়, দৈনন্দিন আচরণের সঙ্গেও জড়িত। কথা, ওয়াদা, চুক্তি ও ঝগড়ার সময় মানুষের আসল চরিত্র প্রকাশ পায়। তাই ঈমানের যত্ন নিতে হলে এসব খারাপ স্বভাব থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যা বলা মুনাফিকি স্বভাবের একটি বড় লক্ষণ।
- ওয়াদা ভঙ্গ করা ও চুক্তিতে প্রতারণা করা ঈমানি চরিত্রের বিপরীত।
- ঝগড়ার সময় অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা নিন্দনীয় স্বভাব।
- নিজের আচরণ দেখে মুনাফিকি স্বভাব আছে কি না যাচাই করা দরকার।
