৪৩/৫১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৯০১ - আল্লাহর ক্ষমা নিয়ে চূড়ান্ত কথা বলার ভয়
বিদ্রোহ নিষিদ্ধ
আল্লাহর ক্ষমা নিয়ে চূড়ান্ত কথা বলার ভয়
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৯০১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৯০১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ بْنِ سُفْيَانَ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ ثَابِتٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ عَمَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنِي ضَمْضَمُ بْنُ جَوْسٍ، قَالَ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «كَانَ رَجُلاَنِ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ مُتَآخِيَيْنِ فَكَانَ أَحَدُهُمَا يُذْنِبُ وَالآخَرُ مُجْتَهِدٌ فِي الْعِبَادَةِ فَكَانَ لاَ يَزَالُ الْمُجْتَهِدُ يَرَى الآخَرَ عَلَى الذَّنْبِ فَيَقُولُ أَقْصِرْ . فَوَجَدَهُ يَوْمًا عَلَى ذَنْبٍ فَقَالَ لَهُ أَقْصِرْ فَقَالَ خَلِّنِي وَرَبِّي أَبُعِثْتَ عَلَىَّ رَقِيبًا فَقَالَ وَاللَّهِ لاَ يَغْفِرُ اللَّهُ لَكَ أَوْ لاَ يُدْخِلُكَ اللَّهُ الْجَنَّةَ . فَقُبِضَ أَرْوَاحُهُمَا فَاجْتَمَعَا عِنْدَ رَبِّ الْعَالَمِينَ فَقَالَ لِهَذَا الْمُجْتَهِدِ أَكُنْتَ بِي عَالِمًا أَوْ كُنْتَ عَلَى مَا فِي يَدِي قَادِرًا وَقَالَ لِلْمُذْنِبِ اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِي وَقَالَ لِلآخَرِ اذْهَبُوا بِهِ إِلَى النَّارِ " . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَتَكَلَّمَ بِكَلِمَةٍ أَوْبَقَتْ دُنْيَاهُ وَآخِرَتَهُ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ বনী ইসরাইলের মধ্যে দু’ব্যক্তি ছিল। তাদের একজন পাপ কাজ করতো এবং অন্যজন সর্বদা ইবাদতে লিপ্ত থাকতো। যখনই ইবাদতে রত ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে দেখতো তখনই তাকে খারাপ কাজ পরিহার করতে বলতো। একদিন সে তাকে পাপ কাজে লিপ্ত দেখে বললো, তুমি এমন কাজ হতে বিরত থাকো। সে বললো, আমাকে আমার রবের উপর ছেড়ে দাও। তোমাকে কি আমার উপর পাহারাদার করে পাঠানো হয়েছে? সে বললো, আল্লাহর কসম! আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করবেন না অথবা তোমাকে আল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না।অতঃপর দু’জনকেই মৃত্যু দিয়ে আল্লাহর নিকট উপস্থিত করা হলে তিনি ইবাদতগুজারী ব্যক্তিকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কি আমার সম্পর্কে জানতে? অথবা তুমি কি আমার হাতে যা আছে তার উপর ক্ষমতাবান ছিলে? এবং পাপীকে বললেন, তুমি চলে যাও এবং আমার রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করো। আর অপর ব্যক্তির ব্যাপারে তিনি বললেন, তোমরা একে জাহান্নামে নিয়ে যাও। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, সেই মহান সত্তার কসম যার হাতে আমার জীবন! সে এমন উক্তি করেছে যার ফলে তার দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই বরবাদ হয়ে গেছে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৯০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহর ক্ষমা, রহমত এবং মানুষের কথার দায়িত্ব খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। বনী ইসরাইলের দুই ব্যক্তির একজন পাপ করত, আর অন্যজন ইবাদতে ব্যস্ত থাকত। ইবাদতকারী ব্যক্তি তাকে পাপ থেকে বিরত থাকতে বলত—এ অংশটি ভালো কাজের কথা মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু সমস্যা হলো, সে এক পর্যায়ে আল্লাহর নামে কসম করে বলে দিল যে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না বা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। এখানে বড় শিক্ষা হলো, পাপকে অপছন্দ করা ঠিক, কিন্তু আল্লাহর রহমতের দরজা কার জন্য বন্ধ—এ কথা বলার অধিকার বান্দার নেই। আল্লাহ পাপীকে তাঁর রহমতে জান্নাতে প্রবেশ করালেন, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ক্ষমা নিয়ে চূড়ান্ত কথা বলেছিল, তার কথাই তার জন্য ভয়াবহ হলো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাপ থেকে নিষেধ করা উচিত, তবে কারো আখিরাতের শেষ পরিণতি নিজের পক্ষ থেকে বলা উচিত নয়।
- আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা বান্দার হাতে নয়; তা আল্লাহর ইচ্ছার অধীন।
- জিহ্বার একটি ভুল কথা দুনিয়া ও আখিরাতের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- নিজের ইবাদত দেখে অন্যকে হেয় করা নিরাপদ পথ নয়।
