২/২৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৯৮ - আযান চালুর পেছনের চিন্তা ও স্বপ্ন
আজানের সূচনা
আযানের সূচনা: সালাতের ডাক কীভাবে শুরু হলো
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৯৮
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৯৮
حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مُوسَى الْخُتَّلِيُّ، وَزِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، - وَحَدِيثُ عَبَّادٍ أَتَمُّ - قَالاَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، - قَالَ زِيَادٌ أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ، - عَنْ أَبِي عُمَيْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ عُمُومَةٍ، لَهُ مِنَ الأَنْصَارِ قَالَ اهْتَمَّ النَّبِيُّ ﷺ لِلصَّلاَةِ كَيْفَ يَجْمَعُ النَّاسَ لَهَا فَقِيلَ لَهُ انْصِبْ رَايَةً عِنْدَ حُضُورِ الصَّلاَةِ فَإِذَا رَأَوْهَا آذَنَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا فَلَمْ يُعْجِبْهُ ذَلِكَ قَالَ فَذُكِرَ لَهُ الْقُنْعُ - يَعْنِي الشَّبُّورَ - وَقَالَ زِيَادٌ شَبُّورَ الْيَهُودِ فَلَمْ يُعْجِبْهُ ذَلِكَ وَقَالَ «هُوَ مِنْ أَمْرِ الْيَهُودِ». قَالَ فَذُكِرَ لَهُ النَّاقُوسُ فَقَالَ «هُوَ مِنْ أَمْرِ النَّصَارَى " . فَانْصَرَفَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ وَهُوَ مُهْتَمٌّ لِهَمِّ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَأُرِيَ الأَذَانَ فِي مَنَامِهِ - قَالَ - فَغَدَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لَبَيْنَ نَائِمٍ وَيَقْظَانَ إِذْ أَتَانِي آتٍ فَأَرَانِي الأَذَانَ. قَالَ وَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه - قَدْ رَآهُ قَبْلَ ذَلِكَ فَكَتَمَهُ عِشْرِينَ يَوْمًا - قَالَ - ثُمَّ أَخْبَرَ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ لَهُ «مَا مَنَعَكَ أَنْ تُخْبِرَنِي». فَقَالَ سَبَقَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ فَاسْتَحْيَيْتُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَا بِلاَلُ قُمْ فَانْظُرْ مَا يَأْمُرُكَ بِهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ فَافْعَلْهُ». قَالَ فَأَذَّنَ بِلاَلٌ .قَالَ أَبُو بِشْرٍ فَأَخْبَرَنِي أَبُو عُمَيْرٍ أَنَّ الأَنْصَارَ تَزْعُمُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ لَوْلاَ أَنَّهُ كَانَ يَوْمَئِذٍ مَرِيضًا لَجَعَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مُؤَذِّنًا .
আবূ ‘উমাইর ইবনু আনাস (রহঃ) হতে তাঁর আনসারী চাচাগণ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) সালাতের জন্য লোকদের কিভাবে একত্র করা যায় সে সম্পর্কে চিন্তিত ছিলেন। তা দেখে কেউ পরামর্শ দিলেন, সালাতের সময় উপস্থিত হলে একটা পতাকা উড়ানো হোক। তা দেখে একে অন্যকে সংবাদ জানিয়ে দিবে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এটা পছন্দ হলো না। কেউ কেউ প্রস্তাব করল, ইয়াহুদীদের ন্যায় শিঙ্গা-ধ্বনি দেয়া হোক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এটাও পছন্দ করলেন না। কারণ তা ছিল ইয়াহুদীদের রীতি। কেউ কেউ নাকুস (ঘণ্টা ধ্বনি) ব্যবহারের প্রস্তাব করলে তিনি বলেনঃ ওটা নাসারাদের রীতি।‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ বিষয়টি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চিন্তার কথা মাথায় নিয়ে প্রস্থান করলেন। অতঃপর (আল্লাহর পক্ষ হতে) স্বপ্নে তাঁকে আযান শিখিয়ে দেয়া হলো। বর্ণনাকারী বলেন, পরদিন ভোরে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গিয়ে বিষয়টি অবহিতকালে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কিছুটা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় এক আগন্তুক এসে আমাকে আযান শিক্ষা দিলেন।বর্ণনাকারী বলেন, একইভাবে ‘উমর খাত্তাব (রাঃ) ও বিশদিন আগেই স্বপ্নযোগে আযান শিখেছিলেন। কিন্তু তিনি কারো কাছে তা (ব্যক্ত না করে) গোপন রেখেছিলেন। অতঃপর (‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদের স্বপ্নের বৃত্তান্ত বলার পর) তিনিও তাঁর স্বপ্নের কথা নবী (ﷺ) কে জানালেন। নবী (ﷺ) বললেন, তুমি আগে বললে না কেন? তিনি বললেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ এ বিষয়ে আমার আগেই বলে দিয়েছেন। এজন্য আমি লজ্জিত।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ বিলাল! উঠো, এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ তোমাকে যেরূপ নির্দেশ দেয় তুমি তাই করো। অতঃপর বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। আবূ বিশর বলেন, আবূ ‘উমাইর আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, আনসারদের ধারণা ‘আবদুল্লাহ ইবনু যায়িদ ঐদিন অসুস্থ না থাকলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকেই মুয়াজ্জিন নিযুক্ত করতেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে আযানের সূচনার ঘটনা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) ভাবছিলেন, কীভাবে মানুষকে সালাতের জন্য একত্র করা যায়। কেউ পতাকা তোলার কথা বলল, কিন্তু তা পছন্দ হলো না। কেউ ইহুদীদের মতো শিঙ্গা, কেউ নাসারাদের মতো ঘণ্টার প্রস্তাব দিল; সেগুলোও পছন্দ করা হলো না। আবদুল্লাহ ইবন যায়িদ নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর এই চিন্তা মনে নিয়ে গেলেন এবং স্বপ্নে আযান শেখেন। ভোরে তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জানান। উমর (রাঃ)-ও আগে একই ধরনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, পরে জানান। নবী (صلى الله عليه وسلم) বিলাল (রাঃ)-কে বলেন, আবদুল্লাহ ইবন যায়িদের নির্দেশনা অনুযায়ী আযান দিতে। এই বর্ণনা আযানের ইতিহাস, সালাতের ডাক এবং সাহাবীদের অংশগ্রহণকে সুন্দরভাবে তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের জন্য মানুষকে জড়ো করার বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর চিন্তায় ছিল।
- ইহুদি ও নাসারাদের রীতির মতো পদ্ধতি পছন্দ করা হয়নি।
- আবদুল্লাহ ইবন যায়িদ স্বপ্নে আযান শেখেন।
- বিলাল (রাঃ) আযান দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।
