৪৩/৯৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫০০৮ - সংক্ষিপ্ত ভাষণের নববী শিক্ষা
বাকপটুতা সম্পর্কে
সংক্ষিপ্ত আলোচনা কেন উত্তম
সুনানে আবূ দাউদ : ৫০০৮
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৫০০৮
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْبَهْرَانِيُّ، أَنَّهُ قَرَأَ فِي أَصْلِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ وَحَدَّثَهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ابْنُهُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ حَدَّثَنِي ضَمْضَمٌ عَنْ شُرَيْحِ بْنِ عُبَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو ظَبْيَةَ أَنَّ عَمْرَو بْنَ الْعَاصِ قَالَ يَوْمًا وَقَامَ رَجُلٌ فَأَكْثَرَ الْقَوْلَ فَقَالَ عَمْرٌو لَوْ قَصَدَ فِي قَوْلِهِ لَكَانَ خَيْرًا لَهُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «لَقَدْ رَأَيْتُ أَوْ أُمِرْتُ أَنْ أَتَجَوَّزَ فِي الْقَوْلِ فَإِنَّ الْجَوَازَ هُوَ خَيْرٌ».
‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সুদীর্ঘ বক্তৃতা দিল। ‘আমর (রাঃ) বললেন, যদি সে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতো তবে তার জন্য ভালো হতো। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ আমার নিকট উপযুক্ত মনে হয়েছে অথবা আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে ভাষণ সংক্ষিপ্ত করতে। কেননা সংক্ষিপ্ত আলোচনা উত্তম।
[৫০০৬] বায়হাক্বী। সানাদে মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল তার পিতার সূত্রে বর্ণনায় সমালোচিত।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫০০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আমর ইবনু আস (রাঃ) এক ব্যক্তির দীর্ঘ বক্তৃতা দেখে বলেন, সে যদি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করত, তবে তার জন্য ভালো হতো। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা উল্লেখ করেন যে, ভাষণ সংক্ষিপ্ত করতে তাকে উপযুক্ত মনে হয়েছে অথবা তাকে আদেশ দেওয়া হয়েছে; কারণ সংক্ষিপ্ত আলোচনা উত্তম। এখানে মূল শিক্ষা হলো, কথা যত বেশি হবে তত ভালো—এমন নয়। প্রয়োজনমতো, পরিষ্কার এবং লক্ষ্যভিত্তিক কথা বেশি উপকারী। দীর্ঘ বক্তৃতা কখনো শ্রোতাকে ক্লান্ত করে, মূল কথা হারিয়ে ফেলে বা অপ্রয়োজনীয় শব্দে ভরে যায়। সংক্ষিপ্ত ভাষণ মানে কথাকে দুর্বল করা নয়; বরং প্রয়োজনীয় কথা সুন্দরভাবে বলা। বক্তা, শিক্ষক, লেখক বা উপদেশদাতা—সবার জন্য এই হাদিসে বড় শিক্ষা আছে: কম কথায় পরিষ্কার বার্তা দেওয়া একটি ভালো আদব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অকারণে দীর্ঘ কথা বলা ভালো নয়।
- সংক্ষিপ্ত ও পরিষ্কার আলোচনা অধিক উপকারী হতে পারে।
- বক্তৃতায় মূল কথা ধরে রাখা দরকার।
- কথার পরিমাণ নয়, কথার প্রয়োজন ও উপকার গুরুত্বপূর্ণ।
