৪৩/৯৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫০০৯ - কবিতায় অন্তর ভরে যাওয়ার ভয়
কবিতা
কবিতা যখন কুরআন ও যিকির থেকে সরিয়ে দেয়
সুনানে আবূ দাউদ : ৫০০৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৫০০৯
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لأَنْ يَمْتَلِئَ جَوْفُ أَحَدِكُمْ قَيْحًا خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمْتَلِئَ شِعْرًا " . قَالَ أَبُو عَلِيٍّ بَلَغَنِي عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ أَنَّهُ قَالَ وَجْهُهُ أَنْ يَمْتَلِئَ قَلْبُهُ حَتَّى يَشْغَلَهُ عَنِ الْقُرْآنِ وَذِكْرِ اللَّهِ فَإِذَا كَانَ الْقُرْآنُ وَالْعِلْمُ الْغَالِبُ فَلَيْسَ جَوْفُ هَذَا عِنْدَنَا مُمْتَلِئًا مِنَ الشِّعْرِ وَإِنَّ مِنَ الْبَيَانِ لَسِحْرًا. قَالَ كَأَنَّ الْمَعْنَى أَنْ يَبْلُغَ مِنْ بَيَانِهِ أَنْ يَمْدَحَ الإِنْسَانَ فَيَصْدُقَ فِيهِ حَتَّى يَصْرِفَ الْقُلُوبَ إِلَى قَوْلِهِ ثُمَّ يَذُمَّهُ فَيَصْدُقَ فِيهِ حَتَّى يَصْرِفَ الْقُلُوبَ إِلَى قَوْلِهِ الآخَرِ فَكَأَنَّهُ سَحَرَ السَّامِعِينَ بِذَلِكَ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কবিতা দিয়ে পেট ভরার চেয়ে তোমাদের জন্য পুঁজ দিয়ে পেট ভর্তি করা উত্তম। আবূ ‘আলী (রহঃ) বলেন, আবূ ‘উবাইদ সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি যে, তিনি এ হাদীসের তাৎপর্য সম্পর্কে বলেন, কবিতায় তার কলব ভর্তি হয়ে যাওয়ায় সে কোরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর যিকির হতে বঞ্চিত হবে। কিন্তু কোরআন ও ইলম চর্চার প্রাধান্য থাকলে আমরা বলবো না যে, তার পেট কবিতায় ভরা।কোন কোন ভাষণে অবশ্যই জাদুর প্রভাব রয়েছে অর্থাৎ সে কোন মানুষের প্রশংসায় সীমালঙ্ঘন করবে এবং এতো উত্তেজক বক্তব্য রাখবে যে, মানুষের মন তার ভাষণের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে। আবার সে তার কুৎসা করলে এমনভাবে করবে যে, মানুষ তা বিশ্বাস করবে। ফলে তাদের অন্তর তার ভাষণের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে। মনে হবে, সে যেন তার ভাষণের দ্বারা শ্রোতাদের উপর জাদু করেছে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫০০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কারো পেট পুঁজে ভরে যাওয়া তার জন্য কবিতায় ভরে যাওয়ার চেয়ে ভালো। এরপর আবু উবাইদের ব্যাখ্যা এসেছে যে, এর অর্থ হলো অন্তর কবিতায় এমনভাবে ভরে যাওয়া, যাতে মানুষ কুরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর যিকির থেকে বঞ্চিত হয়। তবে যদি কুরআন ও ইলমের চর্চা প্রাধান্য পায়, তখন বলা হবে না যে তার অন্তর কবিতায় ভরে গেছে। একই বর্ণনায় বক্তৃতার প্রভাবের কথাও ব্যাখ্যা করা হয়েছে—কেউ প্রশংসা বা নিন্দায় এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারে, যাতে মানুষের মন তার দিকে ঝুঁকে যায়। তাই এই হাদিস কবিতা ও বক্তব্য—দুই ক্ষেত্রেই ভারসাম্য শেখায়। কবিতা নিজে সব সময় দোষ নয়; সমস্যা হলো যখন তা আল্লাহর স্মরণ, কুরআন ও সত্য থেকে মানুষকে সরিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কবিতা যদি কুরআন ও যিকির থেকে দূরে রাখে, তা ক্ষতির কারণ।
- কুরআন ও ইলমের প্রাধান্য থাকলে কবিতার বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হয়েছে।
- বক্তৃতা মানুষের মনকে প্রশংসা বা নিন্দার দিকে টানতে পারে।
- ভাষা ও কবিতা ব্যবহার করতে হবে সত্য ও সংযমের সঙ্গে।
