২/৪০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫৩১ - ইমামতি ও দুর্বলদের খেয়াল
আজানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ
ইমামের দায়িত্ব ও দুর্বলদের প্রতি খেয়াল
সুনানে আবূ দাউদ : ৫৩১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৫৩১
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي الْعَلاَءِ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ، قَالَ قُلْتُ وَقَالَ مُوسَى فِي مَوْضِعٍ آخَرَ إِنَّ عُثْمَانَ بْنَ أَبِي الْعَاصِ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اجْعَلْنِي إِمَامَ قَوْمِي. قَالَ " أَنْتَ إِمَامُهُمْ وَاقْتَدِ بِأَضْعَفِهِمْ وَاتَّخِذْ مُؤَذِّنًا لاَ يَأْخُذُ عَلَى أَذَانِهِ أَجْرًا " .
‘উসমান ইবনু আবুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে আমার সম্প্রদায়ের ইমাম নিয়োগ করুন। তিনি বলেনঃ যাও, তোমাকে তাদের ইমাম নিযুক্ত করা হলো। তবে দুর্বল মুত্তাকীদের প্রতি খেয়াল রাখবে এবং এমন একজন মুয়াজ্জিন নিয়োগ করবে যে তার আযানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে না।
হাদীস থেকে শিক্ষা : মুয়াজ্জিনের জন্য আযানের বিনিময় গ্রহণ করা অপছন্দনীয় (অবশ্য এছাড়া অন্যান্য কাজের জন্য বেতন নেয়া যাবে। যেমন, মসজিদ পরিচ্ছন্ন রাখা, দেখাশোনা করা ইত্যাদি)।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উসমান ইবনু আবিল আস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে তাঁর সম্প্রদায়ের ইমাম হওয়ার অনুরোধ করেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে ইমাম হিসেবে অনুমতি দেন, তবে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, দুর্বলদের প্রতি খেয়াল রাখবে। অর্থাৎ ইমামতি শুধু সামনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ানো নয়; জামাতে থাকা মানুষের অবস্থাও বিবেচনা করতে হয়। কেউ দুর্বল, অসুস্থ বা কষ্টে থাকতে পারে—এই দিকটি মাথায় রাখা দরকার। এরপর তিনি এমন একজন মুয়াজ্জিন নেওয়ার কথা বলেন, যে আযানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে না। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, ইমাম ও মুয়াজ্জিনের কাজ দায়িত্ব, আমানত ও আল্লাহর জন্য সেবার সঙ্গে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমাম হলে দুর্বল মানুষের অবস্থার দিকে খেয়াল রাখা উচিত।
- ইমামতি দায়িত্ব ও আমানতের কাজ।
- মুয়াজ্জিন নিয়োগে আযানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক না নেওয়ার কথা এই হাদিসে এসেছে।
- ধর্মীয় নেতৃত্বে মানুষের সুবিধা ও কষ্ট বিবেচনা করা দরকার।
