২/১২১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৭৬৪ - সালাতের শুরুতে তাকবির ও আশ্রয়
যে দোয়া পড়ে সালাত আরম্ভ করতে হয়
সালাতের শুরুতে তাকবির, হামদ ও শয়তান থেকে আশ্রয়
সুনানে আবূ দাউদ : ৭৬৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৭৬৪
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ عَاصِمٍ الْعَنَزِيِّ، عَنِ ابْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ رَأَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يُصَلِّي صَلاَةً قَالَ عَمْرٌو لاَ أَدْرِي أَىَّ صَلاَةٍ هِيَ فَقَالَ " اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً " . ثَلاَثًا " أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ مِنْ نَفْخِهِ وَنَفْثِهِ وَهَمْزِهِ " . قَالَ نَفْثُهُ الشِّعْرُ وَنَفْخُهُ الْكِبْرُ وَهَمْزُهُ الْمُوتَةُ.
ইবনু জুবায়ির ইবনু মুত্বঈম হতে তাঁর পিতার হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কোন এক সালাত আদায় করতে দেখেছেন। বর্ণনাকারী ‘আমর বলেন, সেটা কোন সালাত ছিল (ফরজ না নফল) তা আমার জানা নেই। তিনি (ﷺ) (সালাত আদায়কালে) বলেছেন, “আল্লাহু আকবার কাবীরান, আল্লাহু আকবার কাবীরান, আল্লাহু আকবার কাবীরান, আলহামদু লিল্লাহি কাসীরান, আলহাম দুলিল্লাহি কাসীরান, আলহাম দুলিল্লাহি কাসীরান, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসীলা”, (তিনবার) “আ‘উযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রাজীমি মিন নাফখিহী ওয়া নাফসিহী ওয়া হামযিহি।" বর্ণনাকারী (‘আমর ইবনু মুররাহ) বলেন, নাফসিহী হচ্ছে শাইত্বানের কবিতা, নাফখিহী হচ্ছে শাইত্বানের অহঙ্কার এবং হামযিহি হচ্ছে শাইত্বানের কুমন্ত্রণা।
[৭৬৩] ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ সলাত, অনুঃ সলাতে আশ্রয় প্রার্থনা করা, হাঃ ৮০৭), তায়ালিসি (৯৪৭), ইবনু জারুদ (৯৬), আহমাদ (৪/৮৫), ত্বাবারানী ‘কাবীর’ এবং ইবনু হাজম ‘মুহাল্লা’ (৩/২৪৮)। সানাদের ‘আসিম ইবনু ‘আনাযীকে কেউ সিক্বাহ বলেননি। কেবল ইবনু হিব্বান তাকে ‘সিক্বাত’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সেখানে তার নাম নিয়ে মতভেদ আছে। সম্ভবত এ কারণে ইমাম বুখারী বলেছেনঃ সহীহ নয়। তবে হাদীসটির এ সানাদ যদিও দুর্বল কিন্তু এর শাওয়াহিদ বর্ণনাবলীর কারণে হাদীসটি সহীহ। (বিস্তারিত দেখুন, ইরওয়াউল গালীল, ৩৪২ নং)
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৭৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সালাতে বলা কিছু শব্দ বর্ণিত হয়েছে। বর্ণনাকারী তাঁকে একটি সালাত আদায় করতে দেখেছেন, তবে সেটা ফরজ না নফল ছিল তা তিনি নিশ্চিত জানেননি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহু আকবার কাবিরা, আলহামদু লিল্লাহি কাসিরা এবং সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসিলা বলেছিলেন। এরপর তিনি শয়তানের নাফখ, নাফস ও হামজ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চান। বর্ণনাকারী ব্যাখ্যা করেছেন, নাফসিহি হলো শয়তানের অহঙ্কার, নাফখিহি হলো শয়তানের কবিতা এবং হামজিহি হলো শয়তানের কুমন্ত্রণা। এতে সালাতের শুরুতে আল্লাহর বড়ত্ব ও শয়তান থেকে আশ্রয়ের শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে আল্লাহর বড়ত্ব ও প্রশংসা উচ্চারণের শিক্ষা আছে।
- শয়তানের কুমন্ত্রণা, অহঙ্কার ও ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আশ্রয় চাওয়া উচিত।
- বর্ণনাকারী যে বিষয় নিশ্চিত জানেননি, তা স্পষ্টভাবে বলেছেন।
- সালাত শুরুতে মনকে আল্লাহর দিকে ফেরানোর শিক্ষা পাওয়া যায়।
