২/১২৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৭৯০ - ইমামের কিরাআতে সহজতা
সালাত সংক্ষিপ্ত করা
ইমামের দীর্ঘ কিরাআত: মুআয রাঃ-কে নবী صلى الله عليه وسلم-এর সতর্কতা
সুনানে আবূ দাউদ : ৭৯০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৭৯০
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، سَمِعَهُ مِنْ، جَابِرٍ قَالَ كَانَ مُعَاذٌ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ ﷺ ثُمَّ يَرْجِعُ فَيَؤُمُّنَا - قَالَ مَرَّةً ثُمَّ يَرْجِعُ فَيُصَلِّي بِقَوْمِهِ - فَأَخَّرَ النَّبِيُّ ﷺ لَيْلَةً الصَّلاَةَ - وَقَالَ مَرَّةً الْعِشَاءَ - فَصَلَّى مُعَاذٌ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ ثُمَّ جَاءَ يَؤُمُّ قَوْمَهُ فَقَرَأَ الْبَقَرَةَ فَاعْتَزَلَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ فَصَلَّى فَقِيلَ نَافَقْتَ يَا فُلاَنُ . فَقَالَ مَا نَافَقْتُ .فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ إِنَّ مُعَاذًا يُصَلِّي مَعَكَ ثُمَّ يَرْجِعُ فَيَؤُمُّنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنَّمَا نَحْنُ أَصْحَابُ نَوَاضِحَ وَنَعْمَلُ بِأَيْدِينَا وَإِنَّهُ جَاءَ يَؤُمُّنَا فَقَرَأَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ . فَقَالَ «يَا مُعَاذُ أَفَتَّانٌ أَنْتَ أَفَتَّانٌ أَنْتَ اقْرَأْ بِكَذَا اقْرَأْ بِكَذَا» . قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ بِـ { سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ﴿ { وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى ﴿ فَذَكَرْنَا لِعَمْرٍو فَقَالَ أُرَاهُ قَدْ ذَكَرَهُ .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মু‘আয (রাঃ) নবী (ﷺ) এর সাথে সালাত আদায়ের পর ফিরে এসে আমাদের সালাত ইমামতি করতেন। বর্ণনাকারী পুনরায় বলেন, তিনি ফিরে এসে স্বীয় সম্প্রদায়ের লোকদের সালাত ইমামতি করতেন। এক রাতে নবী (ﷺ) ‘ইশার সালাত আদায়ে বিলম্ব করেন। সেদিনও মু‘আয (রাঃ) নবী (ﷺ) এর সাথে ‘ইশার সালাত আদায়ের পর স্বীয় সম্প্রদায়ের লোকদের নিকট গিয়ে তাদের ইমামতি করেন। এবং উক্ত সালাতে তিনি সূরা আল-বাক্বারা্হ পাঠ করলে এক ব্যক্তি জামা’আত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী সালাত আদায় করে নেয়। ফলে বলা হলো, হে অমুক! তুমি কি মুনাফিক্ব হয়ে গেলে নাকি? লোকটি বললোঃ আমি মুনাফিক্ব হই নাই।পরে লোকটি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! মু‘আয (রাঃ) আপনার সাথে সালাত আদায় শেষে ফিরে গিয়ে আমাদের সালাতের ইমামতি করেন। আমরা মেহনতি মজদুর লোক এবং নিজেরাই ক্ষেতের কাজ-কর্ম করে থাকি। অথচ মু‘আয (রাঃ) আমাদের সালাত ইমামতিকালে সূরা বাক্বারাহ পড়েন (অর্থাৎ দীর্ঘ সূরা পাঠ করে থাকেন)।হে কথা শুনে নবী (ﷺ) (মু‘আযকে সম্বোধন করে) বললেনঃ হে মু‘আয! তুমি কি ফিতনাহ সৃষ্টিকারী? তুমি কি লোকদের ফিতনাহয় ফেলতে চাও? তুমি সালাত অমুক অমুক (ছোট) সূরা পাঠ করবে। আবূয যুবায়ির বলেন, সূরা আল-’আলা, ওয়াল লাইলি, ইযা ইয়াগশা এ ধরনের (ছোট) সূরা পাঠ করবে। অতঃপর আমরা তা (বর্ণনাকারী) ‘আমরের নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেন, আমার ধারণা, তিনি সেটাও উল্লেখ করেছেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৭৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুআয (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে ইশার সালাত পড়ার পর নিজের সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে তাদের ইমামতি করতেন। এক রাতে তিনি সালাতে সূরা আল-বাকারা পাঠ করেন। একজন শ্রমজীবী ব্যক্তি জামাআত থেকে আলাদা হয়ে একা সালাত আদায় করেন। পরে তাকে মুনাফিক বলা হলে তিনি বিষয়টি নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে জানান। তিনি বলেন, তারা পরিশ্রমী মানুষ এবং নিজেরাই ক্ষেতের কাজ করেন, অথচ মুআয (রাঃ) দীর্ঘ সূরা পাঠ করেন। নবী صلى الله عليه وسلم তখন মুআয (রাঃ)-কে বলেন, তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী? এরপর তিনি ছোট সূরা পাঠের দিকনির্দেশ দেন। এই হাদিসে ইমামের কিরাআত, মুক্তাদীদের অবস্থা এবং সালাতে সহজতা—সবই স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামের কিরাআত মুক্তাদীদের অবস্থার সঙ্গে মানানসই হওয়া উচিত।
- শ্রমজীবী বা ক্লান্ত মানুষের কষ্ট ইমামের বিবেচনায় রাখা দরকার।
- দীর্ঘ কিরাআত কখনো কারও জন্য কষ্টের কারণ হতে পারে।
- সমস্যা হলে তা নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে তুলে ধরার সাহাবীদের পদ্ধতি ছিল।
