২/১৩৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৮২৯ - সূরা আ‘লা পাঠ ও ইমামের কিরাআত
নীরব কিরাআতের সালাতে মুক্তাদীর কিরাআত পাঠ সম্পর্কে
যুহর সালাতে সূরা আ‘লা পাঠের ঘটনা
সুনানে আবূ দাউদ : ৮২৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৮২৯
حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ ﷺ صَلَّى بِهِمُ الظُّهْرَ فَلَمَّا انْفَتَلَ قَالَ " أَيُّكُمْ قَرَأَ بِـ ﴾ سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ﴿ " . فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا. فَقَالَ " عَلِمْتُ أَنَّ بَعْضَكُمْ خَالَجَنِيهَا " .
‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার নবী (ﷺ) তাদের সাথে যুহ্রের সালাত আদায় শেষে বললেন, তোমাদের মধ্যকার কে “সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ‘লা” (সূরা আ‘লা) পড়েছে? এক ব্যক্তি বলল, আমি। তখন তিনি (ﷺ) বললেন, আমি বুঝতে পেরেছি যে, তোমাদের কেউ আমাকে সালাতে কোরআন পাঠে জটিলতায় ফেলেছে।
হাদীস হতে শিক্ষাঃ১। ইমামের পিছনে মুক্তাদীর সশব্দে ক্বিরাআত পাঠ অপছন্দনীয়।২। স্বরব ক্বিরাআত সম্পন্ন সালাতের ন্যায় নীরব ক্বিরাআত সম্পন্ন সালাতেও মুক্তাদীগণ ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা চুপি চুপি পাঠ করবেন।৩। নীরব ক্বিরাআত সম্পন্ন সালাতে মুক্তাদীগণ সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরাও পাঠ করবেন।৪। সালাতে ক্বিরাআতের ন্যায় রুকু‘, সাজদাহ্, তাশাহুদ ইত্যাদিতে পঠিতব্য দু‘আবলীও মুক্তাদীগণ নীরবে পাঠ করবেন, যাতে জোরে পড়ার কারণে ইমামসহ পার্শ্ববর্তী মুসল্লীর ক্বিরাআত, দু‘আ পাঠ ও একাগ্রতায় বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়। তবে সেসব দু‘আর কথা ভিন্ন যেগুলো জোরে পড়ার অনুমতি হাদীসে এসেছে। যেমন, স্বরব ক্বিরাআত সম্পন্ন সালাতে ইমামের সাথে মুক্তাদীগণের জোরে আমীন বলা। এটি সহীহভাবে প্রমাণিত আছে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৮২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইমরান ইবন হুসাইন (রাঃ) থেকে যুহরের সালাতের একটি সংক্ষিপ্ত ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের নিয়ে যুহর পড়লেন। সালাত শেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে সূরা আ‘লা পড়েছে? একজন বলল, আমি। তখন তিনি বলেন, তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, কেউ তাঁকে সালাতে কুরআন পাঠে জটিলতায় ফেলেছে। এই বর্ণনা যুহরের মতো নীরব সালাতের প্রসঙ্গে এসেছে। এখানে বিস্তারিত বিধান বলা হয়নি; শুধু ঘটনাটি উল্লেখ আছে। তাই হাদিসের শিক্ষা হলো, সালাতে কিরাআত করতে হলেও ইমামের সালাত ও কিরাআতের ধারা যেন বিঘ্নিত না হয়। একই সঙ্গে এটি দেখায় যে সাহাবিরা প্রশ্নের জবাবে সরাসরি সত্য বলতেন, আর নবী (صلى الله عليه وسلم) সালাত শেষে তাদের শিক্ষা দিতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যুহরের সালাতে কিরাআতের একটি বাস্তব ঘটনা এসেছে।
- সালাতে নিজের পাঠে ইমামের ধারা বিঘ্নিত করা উচিত নয়।
- সাহাবি নিজের কাজ স্বীকার করেছেন।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সালাত শেষে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।
