২/১৪৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৮৫৬ - ধীরস্থির সালাতের পূর্ণ পদ্ধতি
যে ব্যক্তি রুকুতে স্বীয় পিঠ সোজা করে না
তাড়াহুড়া নয়, ধীরস্থিরভাবে সালাত আদায়ের শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৮৫৬
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৮৫৬
حَدَّثَنِي الْقَعْنَبِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ يَعْنِي ابْنَ عِيَاضٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، - وَهَذَا لَفْظُ ابْنِ الْمُثَنَّى - حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَدَخَلَ رَجُلٌ فَصَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَرَدَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَيْهِ السَّلاَمَ وَقَالَ " ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ " . فَرَجَعَ الرَّجُلُ فَصَلَّى كَمَا كَانَ صَلَّى ثُمَّ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَسَلَّمَ عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " وَعَلَيْكَ السَّلاَمُ " . ثُمَّ قَالَ " ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ " . حَتَّى فَعَلَ ذَلِكَ ثَلاَثَ مِرَارٍ فَقَالَ الرَّجُلُ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أُحْسِنُ غَيْرَ هَذَا فَعَلِّمْنِي . قَالَ «إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَكَبِّرْ ثُمَّ اقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْتَدِلَ قَائِمًا ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا ثُمَّ اجْلِسْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا ثُمَّ افْعَلْ ذَلِكَ فِي صَلاَتِكَ كُلِّهَا " .قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ الْقَعْنَبِيُّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَقَالَ فِي آخِرِهِ «فَإِذَا فَعَلْتَ هَذَا فَقَدْ تَمَّتْ صَلاَتُكَ وَمَا انْتَقَصْتَ مِنْ هَذَا شَيْئًا فَإِنَّمَا انْتَقَصْتَهُ مِنْ صَلاَتِكَ». وَقَالَ فِيهِ «إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلاَةِ فَأَسْبِغِ الْوُضُوءَ».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করলো এবং এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে সালাম করলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সালামের জবাব দিয়ে বললেনঃ তুমি ফিরে যাও এবং আবার সালাত আদায় করো, তুমি সালাত আদায় করোনি। লোকটি ফিরে গিয়ে আগের মতো সালাত আদায় করে এসে নবী (ﷺ) কে পুনরায় সালাম দিলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সালামের জবাব দিয়ে বলেনঃ তুমি গিয়ে আবার সালাত আদায় করো, কারণ তুমি তো সালাত আদায় করোনি। এভাবে লোকটি তিনবার সালাত আদায় করলো।অতঃপর লোকটি বলল, ঐ আল্লাহর শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি এর চাইতে উত্তমরূপে সালাত আদায় করতে পারি না। কাজেই আমাকে সালাতের পদ্ধতি শিখিয়ে দিন। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি সালাত দাঁড়ানোর সময় সর্বপ্রথম তাকবিরে তাহরীমা বলবে। তারপর তোমার সুবিধানুযায়ী কোরআনের আয়াত পাঠ করবে, অতঃপর শান্তি ও স্থিরতার সাথে রুকূ’ করবে, অতঃপর রুকূ’ হতে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর ধীরস্থিরভাবে সাজদাহ্ করবে। এরপর প্রশান্তির সাথে বসবে। এভাবেই তোমার পুরো সালাত আদায় করবে।অন্য বর্ণনায় রয়েছেঃ নবী (ﷺ) সর্বশেষে তাকে বললেনঃ তুমি এভাবে সালাত আদায় করলে তোমার সালাত পরিপূর্ণভাবে আদায় হবে। আর এর কোন অংশ আদায়ে ত্রুটি করলে তোমার সালাতও ত্রুটিপূর্ণ হবে। এতে আরো রয়েছেঃ নবী (ﷺ) তাকে বলেনঃ তুমি সালাত আদায় করতে চাইলে প্রথমে উত্তমরূপে ওজু করে নিবে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৮৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি মসজিদে এসে সালাত আদায় করেন, তারপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে সালাম দেন। নবীজি তাঁকে বলেন, ফিরে যাও এবং আবার সালাত আদায় করো, কারণ তুমি সালাত আদায় করোনি। তিনবার এমন হওয়ার পর লোকটি স্বীকার করে যে, সে এর চেয়ে ভালোভাবে জানে না এবং নবীজির কাছে শেখার অনুরোধ করে। তখন নবীজি তাকে সালাতের পদ্ধতি শেখান: দাঁড়িয়ে তাকবির বলা, সহজ কুরআন পড়া, শান্তভাবে রুকু করা, রুকু থেকে উঠে সোজা দাঁড়ানো, ধীরস্থিরভাবে সিজদা করা এবং প্রশান্তির সাথে বসা। এভাবেই পুরো সালাত আদায় করতে বলা হয়। অন্য বর্ণনায় যথাযথ ওজুর কথাও এসেছে। এই হাদিস সালাতের পূর্ণ পদ্ধতি ও তুমানিনা শেখার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে তাড়াহুড়া করলে সালাত ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে।
- রুকু, সিজদা ও বৈঠকে শান্তভাবে থাকা দরকার।
- সালাত না জানলে বিনয়ের সাথে শিখতে হবে।
- যথাযথ ওজু এবং সঠিক পদ্ধতি সালাতের অংশ।
