২/১৪৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৮৫৭ - ওজু ও সালাতের পূর্ণতা
যে ব্যক্তি রুকুতে স্বীয় পিঠ সোজা করে না
ওজু থেকে সিজদা পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সালাতের নিয়ম
সুনানে আবূ দাউদ : ৮৫৭
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৮৫৭
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى بْنِ خَلاَّدٍ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّ رَجُلاً، دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ قَالَ فِيهِ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّهُ لاَ تَتِمُّ صَلاَةٌ لأَحَدٍ مِنَ النَّاسِ حَتَّى يَتَوَضَّأَ فَيَضَعَ الْوُضُوءَ». يَعْنِي مَوَاضِعَهُ " ثُمَّ يُكَبِّرُ وَيَحْمَدُ اللَّهَ جَلَّ وَعَزَّ وَيُثْنِي عَلَيْهِ وَيَقْرَأُ بِمَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ ثُمَّ يَرْكَعُ حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ ثُمَّ يَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ حَتَّى يَسْتَوِيَ قَائِمًا ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ ثُمَّ يَسْجُدُ حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَيَرْفَعُ رَأْسَهُ حَتَّى يَسْتَوِيَ قَاعِدًا ثُمَّ يَقُولُ اللَّهُ أَكْبَرُ ثُمَّ يَسْجُدُ حَتَّى تَطْمَئِنَّ مَفَاصِلُهُ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ فَيُكَبِّرُ فَإِذَا فَعَلَ ذَلِكَ فَقَدْ تَمَّتْ صَلاَتُهُ " .
‘আলী ইবনু ইয়াহইয়াহ (রহঃ) হতে তাঁর চাচার হতে বর্ণিতঃ
একদা এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করলো। অতঃপর তিনি পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তিনি তাতে বলেনঃ নবী (ﷺ) বললেনঃ উযুর অঙ্গসমূহ উত্তমরূপে না ধুলে সালাত পূর্ণ হবে না। উযুর পর তাকবিরে তাহরীমা বলে হাম্দ ও সানা পড়ে কোরআন হতে যা ইচ্ছে হয় তিলাওয়াত করবে।অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে এমনভাবে রুকু’ করবে যেন তার জোড়াসমূহ স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান করে। অতঃপর “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্” বলে স্থিরভাবে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আল্লাহু আকবার বলে এমন সাজদাহ্ করবে, যাতে শরীরের জোড়াসমূহ স্ব–স্ব স্থানে যথারীতি অবস্থান করে। অতঃপর “আল্লাহু আকবার” বলে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে বসবে এবং পুনরায় আল্লাহু আকবার বলে সাজদাহ্তে যাবে, শরীরের জোড়া সমূহ প্রশান্তি লাভ না করা পর্যন্ত সাজদাহ্তে অবস্থান করবে। অতঃপর আল্লাহু আকবার বলে সাজদাহ্ হতে মাথা উঠাবে। কোন ব্যক্তি যখন এরূপে সালাত আদায় করবে, তখনই তার সালাত পরিপূর্ণভাবে আদায় হবে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৮৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আগের ঘটনার মতোই এক ব্যক্তিকে সালাত শেখানোর কথা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, ওজুর অঙ্গসমূহ যথাযথভাবে না ধুলে সালাত পূর্ণ হবে না। এরপর সালাতের ধাপগুলো বলা হয়েছে: তাকবিরে তাহরিমা, আল্লাহর হামদ ও সানা, কুরআন থেকে যা ইচ্ছে তিলাওয়াত, তারপর এমন রুকু যাতে শরীরের জোড়াগুলো নিজ নিজ স্থানে থাকে। এরপর “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলে সোজা দাঁড়ানো, তারপর সিজদা, বসা এবং আবার সিজদা—সব অবস্থায় প্রশান্তি থাকা দরকার। এই হাদিস নামাজের সঠিক পদ্ধতি, ওজুর গুরুত্ব এবং রুকু-সিজদায় তুমানিনা শেখায়। এখানে পরিষ্কার বোঝা যায়, সালাতের পূর্ণতার জন্য বাহ্যিক ধাপগুলো সঠিকভাবে আদায় করা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওজুর অঙ্গ ঠিকভাবে ধোয়া সালাতের পূর্ণতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- রুকু ও সিজদায় শরীর স্থির রাখতে হবে।
- সালাতে হামদ, সানা ও কুরআন তিলাওয়াতের ধাপ এসেছে।
- সালাতের প্রতিটি অবস্থায় প্রশান্তি থাকা দরকার।
