১৬/১০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১০৫৩ - কবরের পরীক্ষা ও দৃঢ় ঈমান
সূর্যগ্রহণের সময় পুরুষদের সঙ্গে মহিলাদের সালাত।
কবরের পরীক্ষা: মুমিনের জবাব ও ঈমানের দৃঢ়তা
সহীহ বুখারী : ১০৫৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১০৫৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنِ امْرَأَتِهِ، فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّهَا قَالَتْ أَتَيْتُ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ حِينَ خَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَإِذَا النَّاسُ قِيَامٌ يُصَلُّونَ، وَإِذَا هِيَ قَائِمَةٌ تُصَلِّي فَقُلْتُ مَا لِلنَّاسِ فَأَشَارَتْ بِيَدِهَا إِلَى السَّمَاءِ، وَقَالَتْ سُبْحَانَ اللَّهِ. فَقُلْتُ آيَةٌ فَأَشَارَتْ أَىْ نَعَمْ.قَالَتْ فَقُمْتُ حَتَّى تَجَلاَّنِي الْغَشْىُ، فَجَعَلْتُ أَصُبُّ فَوْقَ رَأْسِي الْمَاءَ، فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ «مَا مِنْ شَىْءٍ كُنْتُ لَمْ أَرَهُ إِلاَّ قَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا حَتَّى الْجَنَّةَ وَالنَّارَ، وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَىَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ مِثْلَ ـ أَوْ قَرِيبًا مِنْ ـ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ ـ لاَ أَدْرِي أَيَّتَهُمَا قَالَتْ أَسْمَاءُ ـ يُؤْتَى أَحَدُكُمْ فَيُقَالُ لَهُ مَا عِلْمُكَ بِهَذَا الرَّجُلِ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ ـ أَوِ الْمُوقِنُ لاَ أَدْرِي أَىَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ ـ فَيَقُولُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى، فَأَجَبْنَا وَآمَنَّا وَاتَّبَعْنَا. فَيُقَالُ لَهُ نَمْ صَالِحًا، فَقَدْ عَلِمْنَا إِنْ كُنْتَ لَمُوقِنًا. وَأَمَّا الْمُنَافِقُ ـ أَوِ الْمُرْتَابُ لاَ أَدْرِي أَيَّتَهُمَا قَالَتْ أَسْمَاءُ ـ فَيَقُولُ لاَ أَدْرِي، سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُهُ».
আসমা বিনতু আবূ বাক্র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সূর্যগ্রহণের সময় আমি নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তখন লোকজন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিল। তখন ‘আয়িশা (রাঃ) ও সালাতে দাঁড়িয়েছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, লোকদের কী হয়েছে? তখন তিনি হাত দিয়ে আসমানের দিকে ইশারা করলেন এবং ‘সুবহানাল্লাহ্’ বললেন। আমি বললাম, এ কি কোন নিদর্শন? তখন তিনি ইঙ্গিতে বললেন, হাঁ। আসমা (রাঃ) বলেন, আমিও দাঁড়িয়ে গেলাম। এমন কি (দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে) আমি প্রায় বেহুঁশ হয়ে পড়লাম এবং মাথায় পানি ঢালতে লাগলাম। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) যখন সালাত শেষ করলেন, তখন আল্লাহ্র হাম্দ ও সানা বর্ণনা করলেন।অতঃপর তিনি বললেনঃ আমি এ স্থান হতে দেখতে পেলাম, যা এর পূর্বে দেখিনি, এমন কি জান্নাত এবং জাহান্নাম। আর আমার নিকট ওহী পাঠান হয়েছে যে, নিশ্চয়ই তোমাদেরকে কবরের মধ্যে দাজ্জালের ফিত্নার ন্যায় অথবা বলেছেন তার কাছাকাছি ফিত্নায় লিপ্ত করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, (‘মিস্লা’ ও ‘কারীবান’) দু’টির মধ্যে কোন্টি আসমা (রাঃ) বলেছিলেন, তা আমার মনে নেই।তোমাদের এক একজনকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে প্রশ্ন করা হবে, এ ব্যক্তি সম্পর্কে কী জান? তখন মু’মিন (ঈমানদার) অথবা ‘মুকিন’ (বিশ্বাসী) বলবেন- বর্ণনাকারী বলেন যে, আসমা (রাঃ) ‘মু’মিন’ শব্দ বলেছিলেন, না ‘মুকীন’ তা আমার স্মরণ নেই, তিনি হলেন, আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) সুস্পষ্ট দলীল ও হিদায়াত নিয়ে আমাদের নিকট এসেছিলেন এবং আমরা এতে সাড়া দিয়ে ঈমান এনেছি ও তাঁর অনুসরণ করেছি।অতঃপর তাঁকে বলা হবে, তুমি পুণ্যবান বান্দা হিসেবে ঘুমিয়ে থাক। আমরা অবশ্যই জানতাম যে, নিশ্চিতই তুমি দৃঢ়বিশ্বাস স্থাপনকারী ছিলে। আর মুনাফিক কিংবা সন্দেহকারী বর্ণনাকারী বলেন, আসমা (রাঃ) ‘মুনাফিক’ না ‘সন্দেহকারী’ বলেছিলেন তা আমার মনে নেই, সে শুধু বলবে, আমি কিছুই জানি না। আমি মানুষকে কিছু বলতে শুনেছি এবং আমিও তাই বলেছি।
সহীহ বুখারী হাদিস ১০৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সময় সালাতের বর্ণনা আছে, এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) কবরের পরীক্ষা সম্পর্কে জানান। আসমা (রাঃ) দেখলেন, মানুষ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছে। আয়েশা (রাঃ) আকাশের দিকে ইশারা করে বোঝালেন, এটি আল্লাহর নিদর্শন। সালাত শেষ হলে রাসূল (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তিনি এমন কিছু দেখেছেন যা আগে দেখেননি, এমনকি জান্নাত ও জাহান্নাম। তারপর তিনি কবরের ফিতনার কথা বলেন। মানুষকে প্রশ্ন করা হবে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তোমার জ্ঞান কী? মুমিন বলবে, মুহাম্মদ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর রাসূল; তিনি দলীল ও হিদায়াত নিয়ে এসেছেন, আমরা সাড়া দিয়েছি, ঈমান এনেছি ও অনুসরণ করেছি। আর সন্দেহকারী বলবে, মানুষকে যা বলতে শুনেছি, আমিও তাই বলেছি। তাই হাদিসটি মুখের কথার চেয়ে সত্য ঈমান ও অনুসরণের গুরুত্ব শেখায়। এ হাদিসের মূল বিষয় হলো কবরের পরীক্ষা, যা সরাসরি বর্ণনার কথার সঙ্গে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কবরের পরীক্ষার কথা হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে।
- মুমিন নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর রিসালাত, হিদায়াত ও অনুসরণের কথা বলবে।
- শুধু মানুষের মুখে শুনে বলা যথেষ্ট নয়; দৃঢ় ঈমান দরকার।
- গ্রহণের সালাত আখিরাতের স্মরণ জাগায়।
