১৬/১৩. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১০৫৮ - ভীত হয়ে সালাতের দিকে আসা

কারো মৃত্যু বা জন্মের জন্যে সূর্যগ্রহণ হয় না।

رَوَاهُ أَبُو بَكْرَةَ وَالْمُغِيرَةُ وَأَبُو مُوسَى وَابْنُ عَبَّاسٍ وَابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ.আবূ বাকরাহ, মুগীরা, আবূ মূসা, ইবন ‘আব্বাস ও ইবন ‘উমার (রাঃ)-এর এ বিষয়ে বিবরণ রয়েছে।"

সূর্যগ্রহণের নামাজ: ভীত মনে সালাতের দিকে ধাবিত হও

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১০৫৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، وَهِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ فَصَلَّى بِالنَّاسِ، فَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَأَطَالَ الْقِرَاءَةَ، وَهْىَ دُونَ قِرَاءَتِهِ الأُولَى، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ دُونَ رُكُوعِهِ الأَوَّلِ، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ قَامَ فَصَنَعَ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ قَامَ فَقَالَ ‏ "‏ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لاَ يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ، وَلَكِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ يُرِيهِمَا عِبَادَهُ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَافْزَعُوا إِلَى الصَّلاَةِ ‏"‏‏.‏

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলূল্লাহ (ﷺ)-এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। নবী (ﷺ) তখন দাঁড়ালেন এবং লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তিনি কির’আত দীর্ঘ করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকু’ করেন। অতঃপর তিনি মাথা তুলেন এবং দীর্ঘ কির’আত পড়েন। তবে তা প্রথম কির’আতের চেয়ে স্বল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি রুকু’ করেন এবং রুকু’ দীর্ঘ করেন। তবে এ রুকু’ প্রথম রুকু’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুলেন এবং দু’টি সিজদা করেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দ্বিতীয় রাক’আতেও অনুরূপ করেন।অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে বললেনঃ সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কারো মৃত্যু কিংবা জন্মের কারণে হয় না। আল্লাহ্‌র নিদর্শন সমূহের মধ্যে এ হল দু’টি নিদর্শন; যা আল্লাহ্‌ তাঁর বান্দাদের দেখিয়ে থাকেন। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে ভীত অবস্থায় সালাতের দিকে আসবে।

সহীহ বুখারী হাদিস ১০৫৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সময় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সালাতের বর্ণনা আছে। তিনি লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন, কিরাআত দীর্ঘ করেন, রুকু দীর্ঘ করেন, তারপর আবার কিরাআত ও রুকু করেন, তবে তা প্রথমটির চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। এরপর সিজদা করেন এবং দ্বিতীয় রাকাতেও অনুরূপ করেন। সালাত শেষে তিনি বলেন, সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। এগুলো আল্লাহর নিদর্শন, যা তিনি তাঁর বান্দাদের দেখান। তাই গ্রহণ দেখলে ভীত অবস্থায় সালাতের দিকে আসতে হবে। এই হাদিস গ্রহণের সালাতের পদ্ধতি এবং মনের অবস্থা—দুটিই শেখায়। শুধু রীতি হিসেবে নয়, আল্লাহর নিদর্শন দেখে বিনয়, ভয় ও সালাতের মন নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই এখানে মূল শিক্ষা। এ হাদিসের মূল বিষয় হলো সালাতের দিকে ফেরা, যা সরাসরি বর্ণনার কথার সঙ্গে যুক্ত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • গ্রহণ আল্লাহ বান্দাদের দেখান—এ কথা হাদিসে আছে।
  • গ্রহণ দেখলে ভীত মনে সালাতের দিকে যেতে বলা হয়েছে।
  • গ্রহণের সালাতে দীর্ঘ কিরাআত ও রুকুর বর্ণনা এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন