১৬/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১০৪৭ - গ্রহণ দেখলে সালাতের দিকে যাও
কাসাফাতিশ শামসু’ বলবে, না ‘খাসাফাতিশ শামসু’ বলবে?
وَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى وَخَسَفَ الْقَمَرُআল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, “আর চন্দ্র নিষ্প্রভ হয়ে পড়বে”। (সূরা কিয়ামাহ ৭৫/৮)"
সূর্যগ্রহণের সালাত: আল্লাহর নিদর্শন দেখে নামাজের দিকে
সহীহ বুখারী : ১০৪৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১০৪৭
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ أَخْبَرَتْهُ. أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ صَلَّى يَوْمَ خَسَفَتِ الشَّمْسُ، فَقَامَ فَكَبَّرَ، فَقَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً، ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ، فَقَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ. وَقَامَ كَمَا هُوَ، ثُمَّ قَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً، وَهْىَ أَدْنَى مِنَ الْقِرَاءَةِ الأُولَى، ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً، وَهْىَ أَدْنَى مِنَ الرَّكْعَةِ الأُولَى، ثُمَّ سَجَدَ سُجُودًا طَوِيلاً، ثُمَّ فَعَلَ فِي الرَّكْعَةِ الآخِرَةِ مِثْلَ ذَلِكَ، ثُمَّ سَلَّمَ وَقَدْ تَجَلَّتِ الشَّمْسُ، فَخَطَبَ النَّاسَ، فَقَالَ فِي كُسُوفِ الشَّمْسِ وَالْقَمَرِ " إِنَّهُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، لاَ يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمَا فَافْزَعُوا إِلَى الصَّلاَةِ ".
‘আয়িশا (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) সূর্যগ্রহণের সময় সালাত আদায় করেন। তিনি দাঁড়িয়ে তাকবির বললেন। অতঃপর দীর্ঘ কির’আত পাঠ করেন। অতঃপর তিনি দীর্ঘ রুকূ’ করলেন। অতঃপর মাথা তুললেন, আর سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে পূর্বের মতই দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কির’আত পাঠ করলেন। তবে তা পূর্বের কিরাআতের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকূ’ করলেন, তবে এ রুকূ’ প্রথম রুকূ’র চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। অতঃপর তিনি দীর্ঘ সিজদা করলেন। অতঃপর তিনি শেষ রাক’আতে প্রথম রাকা’আতের অনুরূপ করলেন এবং সালাম ফিরালেন। তখন সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল।অতঃপর লোকদের উদ্দেশে তিনি খুত্বা দিলেন। খুত্বায় তিনি সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে বললেন, এ হচ্ছে আল্লাহ্র নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু কিংবা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা ভীত অবস্থায় সালাতের দিকে গমন করবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ১০৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) থেকে সূর্যগ্রহণের সালাতের একটি পরিষ্কার বর্ণনা এসেছে। রাসূল (صلى الله عليه وسلم) তাকবীর দিয়ে দাঁড়ান, দীর্ঘ কিরাআত পড়েন, দীর্ঘ রুকু করেন, তারপর আবার দাঁড়িয়ে কিরাআত পড়েন। দ্বিতীয় কিরাআত ও রুকু প্রথমটির চেয়ে কম দীর্ঘ ছিল। এরপর তিনি দীর্ঘ সিজদা করেন এবং শেষ রাকাতেও একইভাবে সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে সূর্য প্রকাশিত হলে তিনি খুতবা দেন। খুতবায় বলেন, সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর দুই নিদর্শন; কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। তাই গ্রহণ দেখলে সালাতের দিকে ধাবিত হতে হবে। এই হাদিস সূর্যগ্রহণের নামাজের পদ্ধতি ও মূল শিক্ষা একসঙ্গে জানায়: গ্রহণ দেখলে আল্লাহকে মনে করা এবং সালাতে দাঁড়ানো। এ হাদিসের মূল বিষয় হলো গ্রহণের সালাত, যা সরাসরি বর্ণনার কথার সঙ্গে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গ্রহণের সালাতে দীর্ঘ কিরাআত, রুকু ও সিজদার বর্ণনা আছে।
- গ্রহণ কোনো মানুষের জন্ম বা মৃত্যুর কারণে নয়।
- গ্রহণ দেখলে সালাতের দিকে যাওয়ার নির্দেশ এসেছে।
