১৬/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১০৪৬ - কুসূফ সালাতের পদ্ধতি
সূর্যগ্রহণের সময় ইমামের খুতবা।
وَقَالَتْ عَائِشَةُ وَأَسْمَاءُ خَطَبَ النَّبِيِّ ﷺ.‘আয়িশা ও আসমা (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) খুতবা দিয়েছিলেন।"
কুসূফ সালাতের পদ্ধতি: দীর্ঘ কিরাআত, রুকু ও জামাত
সহীহ বুখারী : ১০৪৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১০৪৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، ح وَحَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَنْبَسَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عُرْوَةُ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَتْ خَسَفَتِ الشَّمْسُ فِي حَيَاةِ النَّبِيِّ ﷺ فَخَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ فَصَفَّ النَّاسُ وَرَاءَهُ، فَكَبَّرَ فَاقْتَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ قِرَاءَةً طَوِيلَةً، ثُمَّ كَبَّرَ فَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً، ثُمَّ قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ.فَقَامَ وَلَمْ يَسْجُدْ، وَقَرَأَ قِرَاءَةً طَوِيلَةً، هِيَ أَدْنَى مِنَ الْقِرَاءَةِ الأُولَى، ثُمَّ كَبَّرَ وَرَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلاً، وَهْوَ أَدْنَى مِنَ الرُّكُوعِ الأَوَّلِ، ثُمَّ قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ. ثُمَّ سَجَدَ، ثُمَّ قَالَ فِي الرَّكْعَةِ الآخِرَةِ مِثْلَ ذَلِكَ، فَاسْتَكْمَلَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فِي أَرْبَعِ سَجَدَاتٍ، وَانْجَلَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَنْصَرِفَ، ثُمَّ قَامَ فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ «هُمَا آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، لاَ يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلاَ لِحَيَاتِهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمُوهُمَا فَافْزَعُوا إِلَى الصَّلاَةِ ". وَكَانَ يُحَدِّثُ كَثِيرُ بْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ كَانَ يُحَدِّثُ يَوْمَ خَسَفَتِ الشَّمْسُ بِمِثْلِ حَدِيثِ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ. فَقُلْتُ لِعُرْوَةَ إِنَّ أَخَاكَ يَوْمَ خَسَفَتْ بِالْمَدِينَةِ لَمْ يَزِدْ عَلَى رَكْعَتَيْنِ مِثْلَ الصُّبْحِ. قَالَ أَجَلْ لأَنَّهُ أَخْطَأَ السُّنَّةَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় একবার সূর্যগ্রহণ হয়। তখন তিনি মসজিদে গমন করেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর লোকেরা তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হলো। তিনি তাকবির বললেন। অতঃপর আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) দীর্ঘ কির’আত পাঠ করলেন। অতঃপর তাকবির বললেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকূ’তে থাকলেন। অতঃপর سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলে দাঁড়ালেন এবং সিজদায় না গিয়েই আবার দীর্ঘক্ষণ কির’আত পাঠ করলেন। তবে তা প্রথম কিরাআতের চেয়ে অল্পস্থায়ী। অতঃপর তিনি ‘আল্লাহু আকবর’ বললেন এবং দীর্ঘ রুকূ’ করলেন, তবে তা প্রথম রুকূ’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি বললেনঃ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ অতঃপর সিজদায় গেলেন।অতঃপর তিনি পরবর্তী রাকা’আতেও অনুরূপ করলেন এবং এভাবে চার সিজদার সাথে চার রাক’আত পূর্ণ করলেন। তাঁর সালাত শেষ করার পূর্বেই সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি দাঁড়িয়ে আল্লাহ্র যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন এবং বললেনঃ সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহ্র নিদর্শন সমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখনই তোমরা গ্রহণ হতে দেখবে, তখনই ভীত হয়ে সালাতের দিকে গমন করবে।রাবী বর্ণনা করেন, কাসীর ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলতেন, ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে ‘আয়িশা (রাঃ) হতে ‘উরওয়াহ (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাই আমি ‘উরওয়াহ্কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার ভাই (‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু যুবায়র) তো মদীনায় যেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, সেদিন ফজরের সালাতের ন্যায় দু’রাক’আত সালাত আদায়ের অতিরিক্ত কিছু করেননি। তিনি বললেন, তা ঠিক, তবে তিনি সুন্নাত অনুসরণ করতে ভুল করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১০৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সালাতের ধরন বেশ বিস্তারিতভাবে এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) মসজিদে গেলেন, মানুষ তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হলো, এরপর তিনি তাকবীর দিয়ে দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। তিনি দীর্ঘ রুকু করলেন, আবার দাঁড়িয়ে কিরাআত পড়লেন, তারপর আবার রুকু করলেন এবং সিজদায় গেলেন। দ্বিতীয় রাকাতেও একই ধরনের আমল করলেন। সালাত শেষ হওয়ার আগে সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন, সূর্য ও চাঁদ আল্লাহর নিদর্শন; কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। তাই গ্রহণ দেখলে সালাতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। হাদিসের শেষে সুন্নাত অনুসরণের বিষয়ও এসেছে। তাই সূর্যগ্রহণের নামাজের নিয়ম জানতে চাইলে এই হাদিস দীর্ঘ কিরাআত, রুকু, সিজদা ও জামাতের দিকটি পরিষ্কার করে। এ হাদিসের মূল বিষয় হলো কুসূফ সালাত, যা সরাসরি বর্ণনার কথার সঙ্গে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গ্রহণের সালাতে জামাতে দাঁড়ানোর বর্ণনা এসেছে।
- সালাতে দীর্ঘ কিরাআত ও দীর্ঘ রুকুর কথা আছে।
- গ্রহণ দেখলে সালাতের দিকে দ্রুত মন দেওয়ার নির্দেশ এসেছে।
- সুন্নাত অনুযায়ী আমল করার গুরুত্ব বোঝা যায়।
