৯৭/১. অধ্যায়ঃ
أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ إِسْحَاقَ عَنْ يَحْيَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ صَيْفِيٍّ عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ
নবী (ﷺ) মু’য়ায (রাঃ) -কে ইয়ামানে প্রেরণ করেছিলেন।
তাওহীদ [১] [১] মূলত ইমাম বুখারী এই পর্বটি জাহমিয়্যাদের আক্বীদাকে খন্ডন করার উদ্দেশ্যেই উল্লেখ করেছেন। কারণ জাহমিয়্যা এমন এক বিদ‘আতী দল যারা তাওহীদকে অস্বীকার করে থাকে। মুসতামলীর বর্ণনাতে পর্বটির নাম كتاب الرد على الجهمية وغيرهم। এখানে وغيرهم এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কাদেরিয়া সম্প্রদায়। ইতঃপূর্বেও ইমাম বুখারী খারেজীদের আক্বীদাকে খন্ডন করার জন্য كتاب الفتن এবং রাফেজাদের (শি’আদের) আক্বীদাকে খন্ডন করার জন্য كتاب الاحكام নামে পর্ব উল্লেখ করেছেন। বলা বাহুল্য যে, এই চারটি দলই বিদ‘আতের চূঁড়া। জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় আল্লাহর সিফাতকে অস্বীকার করে, কোরআন সম্পর্কে বলে, এটা আল্লাহর কালাম নয় বরং এটা তাঁর সৃষ্টি। আল্লাহ সম্পর্কে আরো বলে, তিনি বাতাসের ন্যায় প্রত্যেক বস্তুর সাথে আছেন। এদের সর্দারের নাম জাহাম বিন সাফওয়ান।
و حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْعَلاَءِ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أُمَيَّةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ صَيْفِيٍّ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا مَعْبَدٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَقُولُ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ لَمَّا بَعَثَ النَّبِيُّ ﷺ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ إِلَى نَحْوِ أَهْلِ الْيَمَنِ قَالَ لَهُ إِنَّكَ تَقْدَمُ عَلَى قَوْمٍ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَى أَنْ يُوَحِّدُوا اللهَ تَعَالَى فَإِذَا عَرَفُوا ذ‘لِكَ فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللهَ قَدْ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِهِمْ وَلَيْلَتِهِمْ فَإِذَا صَلَّوْا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ زَكَاةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ غَنِيِّهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فَقِيرِهِمْ فَإِذَا أَقَرُّوا بِذَلِكَ فَخُذْ مِنْهُمْ وَتَوَقَّ كَرَائِمَ أَمْوَالِ النَّاسِ
আমি ‘আব্দুল্লাহ্ ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) -কে বলতে শুনেছি, যখন নবী (ﷺ) মু’আয ইব্নু জাবাল (রাঃ) -কে ইয়ামান পাঠালেন, তখন তিনি তাঁকে বললেন, তুমি আহলে কিতাবদের একটি কাওমের কাছে যাচ্ছ। অতএব, তাদের প্রতি তোমার প্রথম আহ্বান হবে- তারা যেন আল্লাহ্র একত্ববাদ মেনে নেয়। তারা তা স্বীকার করার পর তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ্ দিনে রাতে তাদের প্রতি পাঁচ বার সালাত ফরজ করে দিয়েছেন।যখন তারা সালাত আদায় করবে, তখন তুমি তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, তাদের ধন-সম্পদে আল্লাহ তাদের প্রতি যাকাত ফরজ করেছেন। তা তাদেরই ধনশালীদের থেকে গ্রহণ করা হবে। আবার তাদের ফকীরদেরকে তা দেয়া হবে। যখন তারা স্বীকার করে নেবে, তখন তাদের থেকে গ্রহণ কর। তবে লোকজনের ধন-সম্পদের উত্তম অংশ গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাক।
مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي حَصِينٍ وَالأَشْعَثِ بْنِ سُلَيْمٍ سَمِعَا الأَسْوَدَ بْنَ هِلاَلٍ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ يَا مُعَاذُ أَتَدْرِي مَا حَقُّ اللهِ عَلَى الْعِبَادِ قَالَ اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ أَنْ يَعْبُدُوهُ وَلاَ يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا أَتَدْرِي مَا حَقُّهُمْ عَلَيْهِ قَالَ اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ أَنْ لاَ يُعَذِّبَهُمْ
নবী (ﷺ) বললেনঃ হে মু’আয! তোমার কি জানা আছে, বান্দার উপর আল্লাহ্র হক কী? তিনি বললেন, আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ বান্দা আল্লাহ্র ‘ইবাদাত করবে, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরীক করবে না। (আবার তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন) আল্লাহ্র উপর বান্দার হক কী তা কি তুমি জান? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি [নবী (ﷺ)] বললেনঃ তা হল বান্দাদেরকে শাস্তি না দেয়া।
إِسْمَاعِيلُ حَدَّثَنِي مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَجُلاً سَمِعَ رَجُلاً يَقْرَأُ ﴾قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ﴿ يُرَدِّدُهَا فَلَمَّا أَصْبَحَ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَذَكَرَ لَهُ ذَلِكَ وَكَأَنَّ الرَّجُلَ يَتَقَالُّهَا فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا لَتَعْدِلُ ثُلُثَ الْقُرْآنِزَادَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ أَخْبَرَنِي أَخِي قَتَادَةُ بْنُ النُّعْمَانِ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ
এক লোক অন্য এক লোককে বারবার ‘ইখলাস’ সূরা তিলাওয়াত করতে শুনল। সকাল বেলা লোকটি নবী (ﷺ) -এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট এ বিষয়টি উল্লেখ করল; লোকটি যেন সূরা ইখ্লাসের গুরুত্বকে কম করছিল। এই প্রেক্ষিতে নবী (ﷺ) বললেনঃ যে সত্তার হাতে আমার জীবন, তাঁর কসম করে বলছি! এ সূরাটি অবশ্যই কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ। ইস্মাঈল ইব্নু জা’ফর (রহঃ) মালিক (রহঃ), ‘আবদুর রহমান (রহঃ) ও তাঁর পিতার মাধ্যমে আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) সূত্রে তাঁর ভাই ক্বাতাদাহ ইব্নু আল-নুমান (রাঃ)-এর মাধ্যমে নবী (ﷺ) থেকে (কিছুটা) বৃদ্ধি সহ বর্ণনা করেছেন।
أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ حَدَّثَنَا عَمْرٌو عَنْ ابْنِ أَبِي هِلاَلٍ أَنَّ أَبَا الرِّجَالِ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَهُ عَنْ أُمِّهِ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَكَانَتْ فِي حَجْرِ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ ﷺ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ بَعَثَ رَجُلاً عَلَى سَرِيَّةٍ وَكَانَ يَقْرَأُ لأَ÷صْحَابِهِ فِي صَلاَتِهِمْ فَيَخْتِمُ بِ قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ فَلَمَّا رَجَعُوا ذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ سَلُوهُ لأيِّ شَيْءٍ يَصْنَعُ ذَلِكَ فَسَأَلُوهُ فَقَالَ لأَ÷نَّهَا صِفَةُ الرَّحْمَنِ وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَقْرَأَ بِهَا فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ أَخْبِرُوهُ أَنَّ اللهَ يُحِبُّهُ
নবী (ﷺ) এক সাহাবীকে একটি মুজাহিদ দলের প্রধান করে অভিযানে পাঠালেন। সালাতে তিনি যখন তাঁর সাথীদের নিয়ে ইমামত করতেন, তখন ইখ্লাস সূরাটি দিয়ে সালাত শেষ করতেন। তারা যখন অভিযান থেকে ফিরে আসল তখন নবী (ﷺ) -এর খেদমতে ব্যাপারটি আলোচনা করলেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ তাঁকেই জিজ্ঞেস ক’রো কেন সে এ কাজটি করেছে? এরপর তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দিলেন, এ সূরাটির আল্লাহ্ তা’আলার গুণাবলী রয়েছে। এ জন্য সূরাটি পড়তে আমি ভালোবাসি। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তাঁকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তাঁকে ভালবাসেন।
৯৭/২. অধ্যায়ঃ
মূলত ইমাম বুখারী এই অধ্যায় (বাব) উল্লেখ করেছেন আল্লাহ তা‘আলার অসংখ্য নাম ও সিফাত (صفات) কে প্রমাণ করার জন্য। সহীহ বুখারীর কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারী বলেন: এ বাবটি যেন মূল আর পরবর্তী বাবগুলো শাখা-প্রশাখা।আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হলো: মুশরিকরা যখন শুনতে পেল যে রাসূল (ﷺ) আল্লাহ তা‘আলাকে আহ্বান করেছেন ‘ইয়া আল্লাহ’, ‘ইয়া রাহমান’ বলে, তখন তারা বলল যে, মুহাম্মদ আমাদের এক আল্লাহকে আহ্বান করার নির্দেশ দেন অথচ তিনি দু’জন আল্লাহকে আহ্বান করছেন। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।সুতরাং বোঝা গেল যে, তিনি এক সত্তা, তিনি অদ্বিতীয়; কিন্তু তাঁর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম ও গুণাবলী (صفات) রয়েছে।তাওহীদ তিন প্রকার: ১. তাওহীদ রুবূবিয়্যাত (সৃষ্টি ও পালনে আল্লাহর একত্ব), ২. তাওহীদে ইবাদাত বা উলূহিয়্যাত (ইবাদাত বা উপাসনায় একত্ব) এবং ৩. তাওহীদে আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলীর একত্ব)।এখানে তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাতকে স্থির করা হয়েছে যেমন তাঁর একটি নাম রহমান; ফলে তিনি রহমান সিফাতটি তাঁর জন্য স্থির করেছেন। এই সিফাতটি তাঁর যাত (ذات) এর অন্তর্গত। দয়া দ্বারা নেকী, ইচ্ছা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেওয়া যাবে না। অনুরূপ আল্লাহর রহমতের তুলনা কোনো মাখলূকের রহমতের সাথে দেওয়া যাবে না।সুতরাং তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাত হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার ঐসব নাম ও গুণাবলীকে যথাযথভাবে মেনে নেওয়া যা আল্লাহ তা‘আলা নিজ সম্বন্ধে তাঁর কিতাবে এবং রাসূল (ﷺ) তাঁর সহীহ হাদীসে বর্ণনা করেছেন।অনুরূপ আল্লাহ তা‘আলা যে সমস্ত নাম ও গুণাবলীকে নিজ সম্বন্ধে কিতাবে নিষেধ করেছেন এবং রাসূল (ﷺ) তাঁর সহীহ হাদীসে আল্লাহ সম্বন্ধে নিষেধ করেছেন তা বর্জন করা।ঐ সমস্ত নাম ও গুণাবলীর কোনো অপব্যাখ্যা, উদাহরণ, অস্বীকার, পরিবর্তন অথবা কোনো স্বরূপ কল্পনা করা যাবে না। ফলে আল্লাহ তা‘আলার রহমত, আযাব, আনন্দ প্রকাশ, রাগ হওয়া, কথা বলা, দেখা, শোনা, দুনিয়ার আসমানে নেমে আসা, আরশের ওপরে অবস্থান, হাত, পা, অন্তর ইত্যাদি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ঠিক যেভাবে বর্ণনায় এসেছে সেভাবেই মেনে নিতে হবে।অনুরূপ আল্লাহর অংশীদার নেই, পিতা-মাতা নেই, সন্তান-সন্ততি নেই, তাঁকে তন্দ্রা ও ঘুম স্পর্শ করে না, তাঁর মৃত্যু নেই ইত্যাদি যা নিষেধ এসেছে তা সাব্যস্ত করা যাবে না।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ وَأَبِي ظَبْيَانَ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ يَرْحَمُ اللهُ مَنْ لاَ يَرْحَمُ النَّاسَ.
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তার প্রতি রহম করেন না, যে মানুষের প্রতি রহম করে না।
অধ্যায়: তুমি বলে দাও, তোমরা আল্লাহ্ নামে ডাকো বা রাহমান নামে ডাকো। তোমরা যে নামেই ডাকো সকল সুন্দর নামই তাঁর।[১] (সূরা ইসরা ১৭/১১০)[১] মূলতঃ ইমাম বুখারী এই باب উল্লেখ করেছেন আল্লাহ তা‘আলার অসংখ্য নাম صفات কে প্রমাণ করার জন্য। সহীহ বুখারীর কোন কোন ব্যাখ্যাকারী বলেন : এ باب টি যেন মূল আর পরবর্তী ابواب গুলো শাখা-প্রশাখা। আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হলো : মুশরিকরা যখন শুনতে পেল যে রাসূল (সাঃ) আল্লাহ তা‘আলাকে আহবান করেছেন يا اللهু يارحمن বলে, তখন তাঁরা বলল যে, মুহাম্মাদ আমাদেরকে এক আল্লাহকে আহবান করার নির্দেশ দেয় অথচ তিনি দু’জন আল্লাহকে আহবান করছেন। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। সুতরাং বুঝা গেল যে, তিনি এক সত্তা, তিনি অদ্বিতীয়, কিন্তু তাঁর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম ও গুণাবলী (صفات) রয়েছে। তাওহীদ তিন প্রকার : যথা : ১. তাওহীদ রুবূবিয়্যাত- (সৃষ্টি ও পালনে আল্লাহর একত্ব), তাওহীদে ’ইবাদাত বা উলূহিয়্যাত- (’ইবাদাত বা উপাসনায় একত্ব) এবং ৩. তাওহীদে আসমা ও সিফাত- নামও গুণাবলীর একত্ব)। এখানে তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাতকে স্থির করা হয়েছে যথা তাঁর একটি নাম رحمن ফলে তিনি رحمن সিফাতটি তাঁর জন্য স্থির করেছেন। এই সিফাতটি তাঁর صفات ذات এর অন্তর্গত। رحمة দ্বারা নেকী, ইচ্ছা অন্য কোন উদ্দেশ্য নেয়া যাবে না। অনুরূপ আল্লাহর রহমতের তুলনা কোন মাখলূকের রহমতের সাথে দেয়া যাবে না। সুতরাং তাওহীদে আসমা ওয়াস্সিফাত হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার ঐ সব নাম ও গুণাবলীকে যথাযথভাবে মেনে নেয়া যা আল্লাহ তা‘আলা নিজ সম্বন্ধে তাঁর কিতাবে এবং রাসূল (সাঃ) তাঁর সহীহ হাদীসে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপ আল্লাহ তা‘আলা যে সমস্ত নাম ও গুণাবলীকে তাঁর নিজ সম্বন্ধে কিতাবে নিষেধ করেছেন এবং রাসূল (সাঃ) তাঁর সহীহ হাদীসে আল্লাহ সম্বন্ধে নিষেধ করেছেন তা নিষেধ করা। ঐ সমস্ত নাম ও গুণাবলীর কোন অপব্যাখ্যা, উদাহরণ, অস্বীকার, পরিবর্তন অথবা কোন স্বরূপ (নিজস্ব) কল্পনা করা যাবে না। ফলে আল্লাহ তা‘আলার রহমাত, আযাব, আনন্দ প্রকাশ, রাগ হওয়া, কথা বলা, দেখা, শোনা, দুনিয়ার আসমানে নেমে আসা, তিনি আরশের উপরে, তাঁর হাত রয়েছে, পা রয়েছে, অন্তর রয়েছে ইত্যাদি কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই ঠিক যেভাবে বর্ণনায় এসেছে সেভাবেই মেনে নিতে হবে। অনুরূপ আল্লাহ তা‘আলার অংশীদার নেই, পিতা-মাত নেই, সন্তান-সন্ততি নেই, তাঁকে তন্দ্রা ও ঘুম স্পর্শ করে না, তাঁর মৃত্যু নেই ইত্যাদি যা নিষেধ এসেছে তা সাব্যস্ত করা যাবে না।
أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ إِذْ جَاءَهُ رَسُولُ إِحْدَى بَنَاتِهِ يَدْعُوهُ إِلَى ابْنِهَا فِي الْمَوْتِ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ ارْجِعْ إِلَيْهَا فَأَخْبِرْهَا أَنَّ لِلَّهِ مَا أَخَذَ وَلَهُ مَا أَعْطَى وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بِأَجَلٍ مُسَمًّى فَمُرْهَا فَلْتَصْبِرْ وَلْتَحْتَسِبْ فَأَعَادَتْ الرَّسُولَ أَنَّهَا قَدْ أَقْسَمَتْ لَتَأْتِيَنَّهَا فَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ وَقَامَ مَعَهُ سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ وَمُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ فَدُفِعَ الصَّبِيُّ إِلَيْهِ وَنَفْسُهُ تَقَعْقَعُ كَأَنَّهَا فِي شَنٍّ فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ فَقَالَ لَهُ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللهِ مَا هَذَا قَالَ هَذِهِ رَحْمَةٌ جَعَلَهَا اللهُ فِي قُلُوبِ عِبَادِهِ وَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللهُ مِنْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ
এক সময় আমরা নবী (ﷺ) -এর নিকট ছিলাম। এমন সময় নবী (ﷺ) -এর কোন এক কন্যার পক্ষ থেকে একজন সংবাদবাহক এসে তাঁকে জানাল যে, তাঁর মেয়ের পুত্রের মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। নবী (ﷺ) সংবাদবাহককে বলে দিলেন, তুমি ফিরে যাও এবং তাঁকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ্ যা নিয়ে নিয়েছেন এবং তিনি যা দিয়ে রেখেছেন সবেরই তিনি মালিক। তাঁর কাছে প্রতিটি জিনিসের মেয়াদ সুনির্দিষ্ট। কাজেই তাঁকে গিয়ে ধৈর্য ধরতে এবং প্রতিফল পাওয়ার আশা করতে বল। নবী (ﷺ) -এর মেয়ে আবার সংবাদ বাহককে পাঠালেন। সে এসে বলল, আপনাকে তাঁর কাছে যাবার জন্য তিনি কসম দিয়ে বলেছেন।এরপর নবী (ﷺ) যাওয়ার জন্য দাঁড়ালেন, তাঁর সঙ্গে সা’দ ইব্নু ‘উবাদাহ (রাঃ), মু’আয ইব্নু জাবাল (রাঃ) -ও দাঁড়ালেন। এরপর শিশুটিকে নবী (ﷺ) -এর নিকট দেয়া হল। তখন শিশুটির শ্বাস এভাবে দুর্বল হয়ে আসছিল, যেন তা একটি মশ্কে আছে। তখন নবী (ﷺ) - এর চোখ ভিজে গেল। সা’দ ইব্নু ‘উবাদাহ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (এটা কী?) তিনি বললেনঃ এটিই রহম-দয়ামায়া, যা আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের অন্তরে সৃষ্টি করে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তাঁর রহম-দিল বান্দাদের উপরই দয়া করে থাকেন।
৯৭/৩. অধ্যায়ঃ
عَبْدَانُ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ مَا أَحَدٌ أَصْبَرُ عَلَى أَذًى سَمِعَهُ مِنْ اللهِ يَدَّعُونَ لَهُ الْوَلَدَ ثُمَّ يُعَافِيهِمْ وَيَرْزُقُهُمْ.
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ এমন কেউই নাই যে দুঃখ কষ্টদায়ক কিছু শোনার পর, সে ব্যাপারে আল্লাহ্র চেয়ে বেশি সবর করতে পারে। লোকেরা আল্লাহ্র সন্তান আছে বলে দাবী করে, কিন্তু এর পরেও তিনি তাদেরকে শান্তিতে রাখেন এবং রিজিক দেন।
৯৭/৪. অধ্যায়ঃ
আবূ ‘আবদুল্লাহ্ [(বুখারী) (রহঃ)] বলেন, ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেছেন, আল্লাহ জ্ঞানের আলোকে সমস্ত সৃষ্টির ওপর প্রকাশমান, আবার তিনি জ্ঞানের আলোকেই অপ্রকাশিত।
خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَفَاتِيحُ الْغَيْبِ خَمْسٌ لاَ يَعْلَمُهَا إِلاَّ اللهُ لاَ يَعْلَمُ مَا تَغِيضُ الأَرْحَامُ إِلاَّ اللهُ وَلاَ يَعْلَمُ مَا فِي غَدٍ إِلاَّ اللهُ وَلاَ يَعْلَمُ مَتَى يَأْتِي الْمَطَرُ أَحَدٌ إِلاَّ اللهُ وَلاَ تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِلاَّ اللهُ وَلاَ يَعْلَمُ مَتَى تَقُومُ السَّاعَةُ إِلاَّ اللهُ
ইব্নু ‘উমর (রাঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ গায়িবের চাবি পাঁচটি, যা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না।(১) মায়ের পেটে কী লুকিয়ে আছে তা জানেন একমাত্র আল্লাহ্।(২) আগামীকাল কী ঘটবে তাও জানেন একমাত্র আল্লাহ্।(৩) বৃষ্টিপাত কখন হবে তাও আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না।(৪) কে কোন ভূমিতে মারা যাবে তা আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কেউ জানে না।(৫) কেয়ামত কখন ঘটবে আল্লাহ্ ছাড়া কেউ জানে না।
مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ إِسْمَاعِيلَ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا ﷺ رَأَى رَبَّهُ فَقَدْ كَذَبَ وَهُوَ يَقُولُ ﴾لاَ تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ﴿ وَمَنْ حَدَّثَكَ أَنَّهُ يَعْلَمُ الْغَيْبَ فَقَدْ كَذَبَ وَهُوَ يَقُولُ لاَ يَعْلَمُ الْغَيْبَ إِلاَّ اللهُ
যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মাদ (ﷺ) স্বীয় রবকে দেখেছেন, সে মিথ্যা বলল। কেননা আল্লাহ্ বলেছেন, চক্ষু তাঁকে দেখতে পায় না। আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলে মুহাম্মাদ (ﷺ) গায়েব জানেন, সেও মিথ্যা বলল। কেননা আল্লাহ্ বলেন, গায়েব জানেন একমাত্র আল্লাহ্।