৩/৩৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১০৮ - ইচ্ছাকৃত মিথ্যা হাদিস বলার পরিণতি
নবী (ﷺ)-এর উপর মিথ্যারোপ করার পাপ।
ইচ্ছাকৃত মিথ্যা হাদিস বলার ভয়াবহ সতর্কতা
সহীহ বুখারী : ১০৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১০৮
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ أَنَسٌ إِنَّهُ لَيَمْنَعُنِي أَنْ أُحَدِّثَكُمْ حَدِيثًا كَثِيرًا أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ " مَنْ تَعَمَّدَ عَلَىَّ كَذِبًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এ কথাটি তোমাদের নিকট বহু হাদীস বর্ণনা করতে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায় যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।
সহীহ বুখারী হাদিস ১০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি সতর্কবাণী তাঁকে বেশি হাদিস বর্ণনা করা থেকে আটকে রাখত। সেই সতর্কবাণী হলো: যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর উপর মিথ্যারোপ করে, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়। এখানে “ইচ্ছাকৃতভাবে” কথাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেউ জেনে-বুঝে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে মিথ্যা কথা চালালে তার পরিণতি ভয়াবহ। হাদিসটি আমাদের মুখের দায়িত্ব শেখায়। দ্বীনের নামে কথা বলা মানে শুধু সুন্দর কথা বলা নয়; বরং সত্য, যাচাই করা এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথাকে নিজের কথার সঙ্গে মিশিয়ে না ফেলা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইচ্ছা করে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে মিথ্যা বলা ভয়াবহ সতর্কতার বিষয়।
- বেশি বলার চেয়ে সত্য ও যাচাই করা কথা বলা বেশি নিরাপদ।
- সাহাবীরা হাদিস বলার সময় নিজেদের জবাবদিহি অনুভব করতেন।
- দ্বীনের নামে কথা বললে মুখের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।
