১৮/২০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১১১৯ - বসে কিরাত, দাঁড়িয়ে শেষ অংশ
বসে সালাত আদায়কারী সুস্থ হয়ে গেলে কিংবা একটু হালকা বোধ করলে, বাকি সালাত (দাঁড়িয়ে) পূর্ণভাবে আদায় করবে।
وَقَالَ الْحَسَنُ إِنْ شَاءَ الْمَرِيضُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ قَائِمًا وَرَكْعَتَيْنِ قَاعِدًا.হাসান (রহঃ) বলেছেন, অসুস্থ ব্যক্তি ইচ্ছা করলে দু’ রাক‘আত সালাত বসে এবং দু’ রাক‘আত দাঁড়িয়ে আদায় করতে পারে।"
রাতের সালাতের পদ্ধতি: বসে কিরাত ও দাঁড়িয়ে শেষ অংশ পড়া
সহীহ বুখারী : ১১১৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১১১৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، وَأَبِي النَّضْرِ، مَوْلَى عُمَرَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّي جَالِسًا فَيَقْرَأُ وَهْوَ جَالِسٌ، فَإِذَا بَقِيَ مِنْ قِرَاءَتِهِ نَحْوٌ مِنْ ثَلاَثِينَ أَوْ أَرْبَعِينَ آيَةً قَامَ فَقَرَأَهَا وَهْوَ قَائِمٌ، ثُمَّ يَرْكَعُ ثُمَّ يَسْجُدُ، يَفْعَلُ فِي الرَّكْعَةِ الثَّانِيَةِ مِثْلَ ذَلِكَ، فَإِذَا قَضَى صَلاَتَهُ نَظَرَ، فَإِنْ كُنْتُ يَقْظَى تَحَدَّثَ مَعِي، وَإِنْ كُنْتُ نَائِمَةً اضْطَجَعَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বসে সালাত আদায় করতেন। বসেই তিনি কির’আত পাঠ করতেন। যখন তাঁর কিরা’আতের প্রায় ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াত বাকি থাকত, তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়িয়ে তা তিলাওয়াত করতেন, অতঃপর রুকূ’ করতেন; পরে সিজদা করতেন। দ্বিতীয় রাক’আতেও তেমনই করতেন। সালাত শেষ করে তিনি লক্ষ্য করতেন, আমি জেগে থাকলে আমার সাথে কথা বলতেন আর ঘুমিয়ে থাকলে তিনিও শুয়ে পড়তেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১১১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাতের সালাতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বসে ও দাঁড়িয়ে কিরাত পড়ার পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। তিনি বসে সালাত আদায় করতেন এবং বসেই কিরাত পাঠ করতেন। যখন কিরাতের প্রায় ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াত বাকি থাকত, তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়িয়ে তা তিলাওয়াত করতেন। এরপর রুকু করতেন, তারপর সিজদা করতেন। দ্বিতীয় রাকাতেও তিনি একইভাবে করতেন। সালাত শেষে তিনি দেখতেন আয়িশা (রাঃ) জেগে আছেন কি না; জেগে থাকলে কথা বলতেন, আর ঘুমিয়ে থাকলে তিনিও শুয়ে পড়তেন। এই হাদিস “তাহাজ্জুদ বসে পড়া” বিষয়ে নির্দিষ্ট একটি আমল তুলে ধরে, পাশাপাশি ঘরের সাধারণ মমতার ছবিও দেখায়। এ বর্ণনা থেকে রাতের সালাতে ধীরতা, কিরাত এবং রুকুর আগে দাঁড়ানোর আমল সম্পর্কে সরল ধারণা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের সালাতে বসে কিরাত পড়ার বর্ণনা এসেছে।
- কিরাতের শেষ অংশ দাঁড়িয়ে পড়ে রুকু করার কথা আছে।
- দ্বিতীয় রাকাতেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা বর্ণিত হয়েছে।
