৩/৩৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১১২ - মক্কার পবিত্রতা, কিসাস ও লিখে রাখার শিক্ষা
ইলম লিপিবদ্ধ করা
মক্কার পবিত্রতা ও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ভাষণ লিখে রাখার হাদিস
সহীহ বুখারী : ১১২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১১২
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ خُزَاعَةَ، قَتَلُوا رَجُلاً مِنْ بَنِي لَيْثٍ عَامَ فَتْحِ مَكَّةَ بِقَتِيلٍ مِنْهُمْ قَتَلُوهُ، فَأُخْبِرَ بِذَلِكَ النَّبِيُّ ﷺ فَرَكِبَ رَاحِلَتَهُ، فَخَطَبَ فَقَالَ «إِنَّ اللَّهَ حَبَسَ عَنْ مَكَّةَ الْقَتْلَ ـ أَوِ الْفِيلَ شَكَّ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ ـ وَسَلَّطَ عَلَيْهِمْ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ وَالْمُؤْمِنِينَ، أَلاَ وَإِنَّهَا لَمْ تَحِلَّ لأَحَدٍ قَبْلِي، وَلاَ تَحِلُّ لأَحَدٍ بَعْدِي أَلاَ وَإِنَّهَا حَلَّتْ لِي سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، أَلاَ وَإِنَّهَا سَاعَتِي هَذِهِ حَرَامٌ، لاَ يُخْتَلَى شَوْكُهَا، وَلاَ يُعْضَدُ شَجَرُهَا، وَلاَ تُلْتَقَطُ سَاقِطَتُهَا إِلاَّ لِمُنْشِدٍ، فَمَنْ قُتِلَ فَهُوَ بِخَيْرِ النَّظَرَيْنِ إِمَّا أَنْ يُعْقَلَ، وَإِمَّا أَنْ يُقَادَ أَهْلُ الْقَتِيلِ».فَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْيَمَنِ فَقَالَ اكْتُبْ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ. فَقَالَ «اكْتُبُوا لأَبِي فُلاَنٍ». فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ إِلاَّ الإِذْخِرَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَإِنَّا نَجْعَلُهُ فِي بُيُوتِنَا وَقُبُورِنَا. فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ «إِلاَّ الإِذْخِرَ، إِلاَّ الإِذْخِرَ». قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ يُقَالُ يُقَادُ بِالْقَافِ. فَقِيلَ لأَبِي عَبْدِ اللَّهِ أَىُّ شَىْءٍ كَتَبَ لَهُ قَالَ كَتَبَ لَهُ هَذِهِ الْخُطْبَةَ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মক্কা বিজয়কালে খুযা’আহ গোত্র লায়স গোত্রের জনৈক ব্যক্তিকে হত্যা করল। এ হত্যা ছিল তাদের এক নিহত ব্যক্তির প্রতিশোধ, যাকে ইতোপূর্বে লায়স গোত্রের লোক হত্যা করেছিল। তারপর এ খবর নবী (ﷺ)-এর নিকট পৌঁছল। তিনি তাঁর উটের উপর আরোহণ করে ভাষণ দিলেন, তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা মক্কা হতে ‘হত্যা’-কে কিংবা ‘হাতী’-কে রোধ করেছেন। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ‘হত্যা’ বলেছেন না ‘হাতী’ বলেছেন এ ব্যাপারে বর্ণনাকারী আবূ নু’আয়ম সন্দেহ পোষণ করেন। অন্যরা শুধু ‘হাতী’ শব্দ উল্লেখ করেছেন।অবশ্য মক্কাবাসীদের উপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এবং মুমিনগণকে (যুদ্ধের মাধ্যমে) বিজয়ী করা হয়েছে। জেনে রাখ, আমার পূর্বে কারও জন্য মক্কাকে হালাল করা হয়নি এবং আমার পরেও হালাল হবে না। জেনে রাখ, তাও আমার জন্য দিনের কিছু সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছিল। আরো জেনে রাখ যে, আমার এই কথা মুহূর্তে আবার তা অবৈধ হয়ে গেছে। সেখানকার কোন কাঁটা কিংবা গাছ কাটা যাবে না এবং সেখানে পড়ে থাকা কোন বস্তু কুড়িয়ে নেয়া যাবে না। তবে ঘোষণা দেয়ার জন্য তা নিতে পারবে। আর কেউ নিহত হলে তার আপনজনদের জন্য দু’টি ব্যবস্থার যে কোন একটি গ্রহণের এখতিয়ার আছে। হয় তার ‘রক্তপণ নিবে নয় ‘ক্বিসাসের ফায়সালা’ গ্রহণ করবে।অতঃপর ইয়ামানবাসী জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! (এ কথাগুলো) আমাকে লিখে দিন। তিনি (সাহাবীদের) বললেনঃ তোমরা অমুকের পিতাকে লিখে দাও। তারপর জনৈক কুরায়শ [‘আব্বাস (রাঃ)] বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! গাছপালা কাটার নিষেধাজ্ঞা হতে ইযখির (এক প্রকার লম্বা ঘাস) বাদ দিন। কারণ তা আমরা আমাদের গৃহে ও কবরে কাজে লাগাই।’ নবী (ﷺ) বললেন, ‘ইযখির ব্যতীত, ইযখির [১] ব্যতীত।’
[১] ইযখির শন জাতীয় এক প্রকার ঘাস।
সহীহ বুখারী হাদিস ১১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মক্কা বিজয়কালের একটি ঘটনা এসেছে। খুজাআহ গোত্রের হত্যার খবর নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি উটের উপর উঠে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, মক্কা তাঁর আগে কারও জন্য হালাল ছিল না, তাঁর পরেও হবে না; তাঁর জন্যও শুধু দিনের কিছু সময়ের জন্য অনুমতি ছিল। তারপর আবার তা হারাম হয়ে গেছে। সেখানে কাঁটা বা গাছ কাটা যাবে না, পড়ে থাকা জিনিস ঘোষণা ছাড়া নেওয়া যাবে না। নিহত ব্যক্তির আপনজন রক্তপণ বা কিসাস—দুটির একটি নিতে পারে। ইয়ামানের একজন ব্যক্তি ভাষণ লিখে দিতে বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) লিখে দিতে নির্দেশ দেন। এতে মক্কার মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং ইলম লিখে রাখার শিক্ষা একসঙ্গে পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মক্কার হারাম মর্যাদা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ভাষণে স্পষ্ট করা হয়েছে।
- মক্কায় গাছ-কাঁটা কাটা ও ঘোষণাহীনভাবে হারানো বস্তু নেওয়া নিষিদ্ধ বলা হয়েছে।
- হত্যার ক্ষেত্রে রক্তপণ বা কিসাসের কথা হাদিসে এসেছে।
- গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি কথা লিখে রাখার অনুমতির উদাহরণ এখানে আছে।
