১৯/২৫. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১১৬২ - ইস্তিখারা নামাজ ও দোয়া

নফল সালাত দুই দুই রাকাত করে আদায় করা।

قَالَ مُحَمَّدٌ وَيُذْكَرُ ذَلِكَ عَنْ عَمَّارٍ وَأَبِي ذَرٍّ وَأَنَسٍ وَجَابِرِ بْنِ زَيْدٍ وَعِكْرِمَةَ وَالزُّهْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَقَالَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيُّ مَا أَدْرَكْتُ فُقَهَاءَ أَرْضِنَا إِلَّا يُسَلِّمُونَ فِي كُلِّ اثْنَتَيْنِ مِنَ النَّهَارِমুহাম্মাদ ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, বিষয়টি ‘আম্মার আবূ যার, আনাস, জাবির ইবন যায়দ (রাঃ) এবং ‘ইকরিমা ও যুহরী (রহঃ) হতেও উল্লিখিত হয়েছে। ইয়াহইয়া ইবন সা‘ঈদ আনসারী (রহঃ) বলেছেন, আমাদের শহরের (মদীনার) ফকীহগণকে দিনের সালাতে প্রতি দু’রাক‘আত শেষে সালাম ফিরাতে দেখেছি।"

ইস্তিখারা নামাজের দোয়া ও সিদ্ধান্তে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১১৬২

قُتَيْبَةُ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الْمَوَالِي عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ يُعَلِّمُنَا الِاسْتِخَارَةَ فِي الْأُمُورِ كُلِّهَا كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ يَقُولُإِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالْأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الْفَرِيضَةِ ثُمَّ لِيَقُلْ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الْأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي قَالَ وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ.

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের সব কাজে ইস্তিখারা [১] শিক্ষা দিতেন। যেমন পবিত্র কুরআনের সূরাসমূহ আমাদের শেখাতেন।তোমাদের কেউ কোন কাজের ইচ্ছা করলে সে যেন ফরজ নয় এমন দুই রাকাত সালাত আদায় করার পর এই দোয়া পড়ে : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلاَ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلاَ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلاَّمُ الْغُيُوبِ اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ وَاقْدُرْ لِي الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِي ‘‘প্রভু আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞানের ওয়াসিলায় তোমার অনুমতি কামনা করছি; তোমার কুদরতের ওয়াসিলায় শক্তি চাচ্ছি আর তোমার অপার করুণা ভিক্ষা করছি। কারণ তুমিই সর্বশক্তিমান আর আমি দুর্বল। তুমিই জ্ঞানী আর আমি অজ্ঞ এবং তুমিই সর্বজ্ঞ।হে আল্লাহ! তুমি যদি মনে কর যে, এই জিনিসটি আমার দ্বীন ও দুনিয়ায়, ইহকালে ও পরকালে সত্বর কিংবা বিলম্বে আমার পক্ষে মঙ্গলজনক হবে তাহলে আমার জন্য তা নির্ধারিত করে দাও এবং তার প্রাপ্তি আমার জন্য সহজ করে দাও। অতঃপর তাতে বরকত দাও। আর যদি তুমি মনে কর এই জিনিসটি আমার দ্বীন ও দুনিয়ায়, ইহকালে ও পরকালে আমার জন্য ক্ষতিকর হবে শীঘ্র কিংবা বিলম্বে তাহলে তুমি তাকে আমার কাছ থেকে দূর করে দাও এবং আমাকে তা থেকে দূরে রাখো; অতঃপর আমার জন্য যা মঙ্গলজনক তা ব্যবস্থা কর, সেটা যেখানেই হোক না কেন এবং আমাকে তার প্রতি সন্তুষ্ট করে দাও।’’ তিনি ইরশাদ করেন هَذَا الْأَمْرَ তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে।

(৬৩৮২, ৭৩৯০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ১০৮৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১০৯৩)[১] সালাত ও দু’আর মাধ্যমে উদ্দিষ্ট বিষয়ে কল্যাণ চাওয়া।

সহীহ বুখারী হাদিস ১১৬২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সালাতুল ইস্তিখারা সম্পর্কে স্পষ্ট শিক্ষা আছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের সব কাজে ইস্তিখারা শেখাতেন, যেমন তিনি কুরআনের সূরা শেখাতেন। কেউ কোনো কাজের ইচ্ছা করলে ফরজ নয় এমন দুই রাকাত সালাত আদায় করবে। তারপর আল্লাহর জ্ঞান, ক্ষমতা ও অনুগ্রহের মাধ্যমে নিজের জন্য মঙ্গল চাইবে। দোয়ায় মানুষ স্বীকার করে যে আল্লাহ জানেন, মানুষ জানে না; আল্লাহ সক্ষম, মানুষ দুর্বল। কাজটি দ্বীন, দুনিয়া ও শেষ পরিণতির জন্য ভালো হলে সেটি সহজ করে দেওয়ার প্রার্থনা করা হয়। আর ক্ষতিকর হলে তা দূরে সরিয়ে দেওয়ার দোয়া করা হয়। শেষে ভালো বিষয় যেখানেই থাকুক, তা দেওয়ার এবং তাতে সন্তুষ্ট করার প্রার্থনা আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • গুরুত্বপূর্ণ কাজের আগে দুই রাকাত নফল পড়ে আল্লাহর কাছে মঙ্গল চাওয়া শেখানো হয়েছে।
  • ইস্তিখারার দোয়ায় নিজের অজ্ঞানতা ও আল্লাহর পূর্ণ জ্ঞান স্বীকার করা হয়।
  • কোনো বিষয় ক্ষতিকর হলে তা থেকে দূরে থাকার দোয়া করা যায়।
  • নিজের প্রয়োজনের কথা দোয়ায় উল্লেখ করার নির্দেশ আছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন