২১/১৬. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১২১৮ - সালাতে ঘটনার সময় সুবহানাল্লাহ

কিছু ঘটলে সালাতে হাত উত্তোলন করা।

সালাতে সুবহানাল্লাহ বলা: ইমামকে সতর্ক করার পূর্ণ ঘটনা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১২১৮

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ بَلَغَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَنَّ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ بِقُبَاءٍ كَانَ بَيْنَهُمْ شَىْءٌ، فَخَرَجَ يُصْلِحُ بَيْنَهُمْ فِي أُنَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ، فَحُبِسَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَحَانَتِ الصَّلاَةُ، فَجَاءَ بِلاَلٌ إِلَى أَبِي بَكْرٍ ـ رضى الله عنهما ـ فَقَالَ يَا أَبَا بَكْرٍ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَدْ حُبِسَ وَقَدْ حَانَتِ الصَّلاَةُ، فَهَلْ لَكَ أَنْ تَؤُمَّ النَّاسَ قَالَ نَعَمْ إِنْ شِئْتَ. فَأَقَامَ بِلاَلٌ الصَّلاَةَ، وَتَقَدَّمَ أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ فَكَبَّرَ لِلنَّاسِ، وَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَمْشِي فِي الصُّفُوفِ يَشُقُّهَا شَقًّا، حَتَّى قَامَ فِي الصَّفِّ، فَأَخَذَ النَّاسُ فِي التَّصْفِيحِ. قَالَ سَهْلٌ التَّصْفِيحُ هُوَ التَّصْفِيقُ. قَالَ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ لاَ يَلْتَفِتُ فِي صَلاَتِهِ، فَلَمَّا أَكْثَرَ النَّاسُ الْتَفَتَ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَأَشَارَ إِلَيْهِ، يَأْمُرُهُ أَنْ يُصَلِّيَ، فَرَفَعَ أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ يَدَهُ، فَحَمِدَ اللَّهَ، ثُمَّ رَجَعَ الْقَهْقَرَى وَرَاءَهُ حَتَّى قَامَ فِي الصَّفِّ، وَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَصَلَّى لِلنَّاسِ، فَلَمَّا فَرَغَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَا لَكُمْ حِينَ نَابَكُمْ شَىْءٌ فِي الصَّلاَةِ أَخَذْتُمْ بِالتَّصْفِيحِ إِنَّمَا التَّصْفِيحُ لِلنِّسَاءِ، مَنْ نَابَهُ شَىْءٌ فِي صَلاَتِهِ فَلْيَقُلْ سُبْحَانَ اللَّهِ ". ثُمَّ الْتَفَتَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ فَقَالَ «يَا أَبَا بَكْرٍ، مَا مَنَعَكَ أَنْ تُصَلِّيَ لِلنَّاسِ حِينَ أَشَرْتُ إِلَيْكَ». قَالَ أَبُو بَكْرٍ مَا كَانَ يَنْبَغِي لاِبْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يُصَلِّيَ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ.

সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) -এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছল যে, কুবায় বনূ আমর ইব্‌নু আওফ গোত্রে কোন ব্যাপার ঘটেছে। তাদের মধ্যে মীমাংসার উদ্দেশে তিনি কয়েকজন সাহাবীসহ বেরিয়ে গেলেন। আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) সেখানে কর্মব্যস্ত হয়ে পড়েন। ইতোমধ্যে সালাতের সময় হয়ে গেল। বিলাল (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ) -এর নিকট এসে বললেন, হে আবূ বকর (রাঃ)! আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) কর্মব্যস্ত রয়েছেন। এদিকে সালাতের সময় উপস্থিত। আপনি কি লোকদের ইমামতি করবেন? তিনি বললেন, হাঁ, যদি তুমি চাও। তখন বিলাল (রাঃ) সালাতের ইক্বামাত বললেন এবং আবূ বকর (রাঃ) এগিয়ে গেলেন এবং তাকবির বললেন।তখন আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) আসলেন এবং কাতার ফাঁক করে সামনে এগিয়ে গিয়ে কাতারে দাঁড়ালেন। মুসল্লীগণ তখন তাসফীহ করতে লাগলেন। সাহ্‌ল (রাঃ) বলেন, তাসফীহ মানে তাসফিক (হাতে তালি দেয়া) তিনি আরো বললেন, আবূ বকর (রাঃ) সালাতে এদিক সেদিক তাকাতেন না। মুসল্লীগণ অধিক (তালি দেয়া) করবে, তিনি লক্ষ্য করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে দেখতে পেলেন। তিনি তাঁকে ইঙ্গিতে সালাত আদায় করার আদেশ দিলেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) তাঁর দু’হাত তুললেন এবং আল্লাহ্‌র হাম্‌দ বর্ণনা করলেন। অতঃপর পিছু হেঁটে পিছনে চলে এসে কাতারে দাঁড়ালেন। আর রাসূল (ﷺ) সামনে এগিয়ে গেলেন এবং মুসল্লীগণকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন।সালাত শেষ করে তিনি মুসল্লীগণের দিকে মুখ করে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের কি হয়েছে? সালাতে কোন ব্যাপার ঘটলে তোমরা হাত চাপড়াতে শুরু কর কেন? হাত চাপড়ানো তো মেয়েদের জন্য। সালাতে আদায়রত অবস্থায় কারো কিছু ঘটলে পুরুষরা সুবহানাল্লাহ বলবে। অতঃপর তিনি আবূ বকর (রাঃ) -এর দিকে লক্ষ্য করে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবূ বকর! তোমাকে আমি ইঙ্গিত করা সত্ত্বেও কিসে তোমাকে সালাত আদায়ে বাধা দিল? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) -এর সামনে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা ইব্‌নু আবূ কুহাফার [১] জন্য সমীচীন নয়।

[১] আবূ কূহাফাহ, আবু বক্‌র (রাঃ) -এর পিতা।

সহীহ বুখারী হাদিস ১২১৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বনু আমর ইবন আউফের মীমাংসা, আবু বকর (রাঃ)-এর ইমামতি এবং সালাতে ইমামকে সতর্ক করার নিয়ম একসাথে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মীমাংসার কাজে ব্যস্ত থাকায় সালাতের সময় আবু বকর (রাঃ) ইমামতি শুরু করেন। পরে নবী (صلى الله عليه وسلم) এসে কাতারের মধ্যে দাঁড়ালে মুসল্লিরা তালি দিতে লাগলেন। আবু বকর (রাঃ) তাঁকে দেখে পেছনে সরে এলেন এবং নবী (صلى الله عليه وسلم) ইমামতি করলেন। সালাত শেষে নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, সালাতে কোনো ব্যাপার ঘটলে পুরুষরা ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে; হাত চাপড়ানো নারীদের জন্য। এরপর আবু বকর (রাঃ) জানালেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে দাঁড়িয়ে ইমামতি করা তাঁর কাছে সমীচীন মনে হয়নি। এই হাদিসে সালাতে তাসবীহ, তাসফীক, ইমামতি এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি সম্মান—সবই সুন্দরভাবে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সালাতে কোনো ঘটনা ঘটলে পুরুষরা ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে।
  • হাত চাপড়ানো নারীদের জন্য বলা হয়েছে।
  • আবু বকর (রাঃ)-এর মধ্যে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি গভীর আদব দেখা যায়।
  • মীমাংসার কাজও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অংশ ছিল।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন