২১/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১২০৩ - পুরুষের তাসবীহ, নারীর তাসফীক
সালাতে মহিলাদের ‘তাসফিক’ (হাততালি দেয়া)।
নামাজে ইমামকে সতর্ক করা: পুরুষের তাসবীহ ও নারীর তাসফীক
সহীহ বুখারী : ১২০৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১২০৩
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " التَّسْبِيحُ لِلرِّجَالِ وَالتَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ (ইমামের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য) পুরুষদের বেলায় তাস্বীহ্-সুবহানাল্লাহ্ বলা। তবে মহিলাদের বেলায় ‘তাসফীক’ (এক হাতের তালু দিয়ে অন্য হাতের তালুতে মারা)।
সহীহ বুখারী হাদিস ১২০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই সংক্ষিপ্ত হাদিসে সালাতের ভেতরে ইমামের দৃষ্টি আকর্ষণের একটি পরিষ্কার নিয়ম এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, পুরুষদের জন্য তাসবীহ, আর নারীদের জন্য তাসফীক। অর্থাৎ পুরুষরা প্রয়োজন হলে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে ইমামকে সতর্ক করবে। আর নারীদের ক্ষেত্রে এক হাতের তালু দিয়ে অন্য হাতে শব্দ করা বা তাসফীক বলা হয়েছে। হাদিসের ভাষা ছোট, কিন্তু সালাতের শৃঙ্খলা বোঝার জন্য খুব কাজে লাগে। এখানে মূল বিষয় হলো, সালাতে কোনো ঘটনা ঘটলে হৈচৈ নয়; বরং নির্ধারিত ভদ্র পদ্ধতি অনুসরণ করা। এই হাদিস নামাজে তাসবীহ, নামাজে তালি দেওয়ার নিয়ম এবং ইমামকে লোকমা দেওয়ার আদব বুঝতে সাহায্য করে। এতে সালাতের মনোযোগও থাকে এবং জামাআতের শৃঙ্খলাও নষ্ট হয় না। এতে মুসল্লি বুঝতে পারে, সালাতের ভেতরে ছোট প্রয়োজন থাকলেও তা নিয়ম মেনে ও শান্তভাবে করা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণের পদ্ধতি হলো তাসবীহ বলা।
- নারীদের জন্য হাদিসে তাসফীক বা হাতের শব্দের কথা এসেছে।
- সালাতে কোনো দরকার হলে শৃঙ্খলাপূর্ণ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত।
- অকারণ কথা বা গোলমাল না করে সুন্নাহর নির্দেশ মানা জরুরি।
