২৩/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৩৭ - শিরকমুক্ত মৃত্যু ও জান্নাতের আশা
জানাজা সম্পর্কিত এবং যার শেষ কথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’।
وَقِيلَ لِوَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ أَلَيْسَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِفْتَاحُ الْجَنَّةِ قَالَ بَلَى وَلَكِنْ لَيْسَ مِفْتَاحٌ إِلَّا لَهُ أَسْنَانٌ فَإِنْ جِئْتَ بِمِفْتَاحٍ لَهُ أَسْنَانٌ فُتِحَ لَكَ وَإِلَّا لَمْ يُفْتَحْ لَكَওয়াহহাব ইবন মুনাব্বিহ (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কি জান্নাতের চাবি নয়? উত্তরে তিনি বললেন, অবশ্যই। তবে যে কোনো চাবির দাঁত থাকে। তুমি দাঁত যুক্ত চাবি আনতে পারলে তোমার জন্য (জান্নাতের) দরজা খুলে দেয়া হবে। অন্যথায় তোমার জন্য খোলা হবে না।"
শিরকমুক্ত মৃত্যু: জান্নাতের সুসংবাদ ও তাওহীদের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১২৩৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১২৩৭
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا وَاصِلٌ الأَحْدَبُ، عَنِ الْمَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَتَانِي آتٍ مِنْ رَبِّي فَأَخْبَرَنِي ـ أَوْ قَالَ بَشَّرَنِي ـ أَنَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ ". قُلْتُ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ قَالَ «وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ».
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ একজন আগন্তুক [জিব্রীল (আঃ)] আমার প্রতিপালকের নিকট হতে এসে আমাকে খবর দিলেন অথবা তিনি বলেছেন, আমাকে সুসংবাদ দিলেন, আমার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদিও সে যিনা করে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে? তিনি বললেনঃ যদিও সে যিনা করে থাকে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে।
[২] কৃত কর্মের শাস্তি ভোগ অথবা ক্ষমা লাভের পরই সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। কারণ কবীরাহ্ গুনাহে লিপ্ত হলেই মানুষ ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায় না। হাদীসটি মুসলিম নামধারী চরমপন্থী দল খারিজীদের আকীদার প্রতিবাদে একটি মযবুত দলীল। ওদের ধারণা মানুষ কবীরাহ্ গুনাহে লিপ্ত হলেই কাফির হয়ে যায় (নাউযুবিল্লাহ)।
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় তাওহীদ ও শিরক থেকে মুক্ত থাকা। রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তাঁর রবের পক্ষ থেকে একজন আগন্তুক এসে তাঁকে খবর দেন বা সুসংবাদ দেন: তাঁর উম্মতের যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আবু যর (রাঃ) জিজ্ঞেস করেন, সে যদি যিনা করে এবং চুরি করে? নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, যদিও সে যিনা করে এবং যদিও সে চুরি করে। এই কথায় গুনাহকে হালকা করে দেখা উদ্দেশ্য নয়; হাদিসে সরাসরি যে বিষয় এসেছে তা হলো শিরকমুক্ত ঈমানের বড় মর্যাদা। তাই ব্যাখ্যায় ভারসাম্য জরুরি: বড় গুনাহ থেকে বাঁচা দরকার, কিন্তু তাওহীদ একজন মুসলিমের মূল ভিত্তি। এই হাদিস মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করার বিষয়ে গভীরভাবে সতর্ক করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা তাওহীদের মূল শিক্ষা।
- শিরকমুক্ত অবস্থায় মৃত্যু জান্নাতে প্রবেশের বড় আশা বহন করে।
- হাদিসটি বড় গুনাহকে বৈধ বলে না; মূল কথা তাওহীদের মর্যাদা।
- প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে।
