২৩/৮৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৬৬ - জানাযা ও মুনাফিকদের বিধান
মুনাফিকদের জন্য (জানাজার) সালাত আদায় করা এবং মুশরিকদের জন্য মাগফিরাত কামনা করা অপছন্দনীয় হওয়া।
رَوَاهُ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ(‘আবদুল্লাহ) ইবন ‘উমার (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে বিষয়টি রিওয়ায়াত করেছেন।"
মুনাফিকের জানাযা: ওহীর নির্দেশের সামনে বান্দার অবস্থান
সহীহ বুখারী : ১৩৬৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩৬৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ ـ رضى الله عنهم ـ أَنَّهُ قَالَ لَمَّا مَاتَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ ابْنُ سَلُولَ دُعِيَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ، فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَثَبْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَتُصَلِّي عَلَى ابْنِ أُبَىٍّ وَقَدْ قَالَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا كَذَا وَكَذَا ـ أُعَدِّدُ عَلَيْهِ قَوْلَهُ ـ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَقَالَ " أَخِّرْ عَنِّي يَا عُمَرُ». فَلَمَّا أَكْثَرْتُ عَلَيْهِ قَالَ " إِنِّي خُيِّرْتُ فَاخْتَرْتُ، لَوْ أَعْلَمُ أَنِّي إِنْ زِدْتُ عَلَى السَّبْعِينَ فَغُفِرَ لَهُ لَزِدْتُ عَلَيْهَا». قَالَ فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ انْصَرَفَ، فَلَمْ يَمْكُثْ إِلاَّ يَسِيرًا حَتَّى نَزَلَتِ الآيَتَانِ مِنْ {بَرَاءَةٌ} ﴾وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا﴿ إِلَى ﴾وَهُمْ فَاسِقُونَ﴿ قَالَ فَعَجِبْتُ بَعْدُ مِنْ جُرْأَتِي عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَوْمَئِذٍ، وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ.
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(মুনাফিক সর্দার) ‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উবাই ইব্নু সালূল [১] মারা গেলে জানাযার সালাতের জন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে আহ্বান করা হল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) (সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে) দাঁড়ালে আমি দ্রুত তাঁর নিকট গিয়ে বসলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি ইব্নু ‘উবাই’র জানাযার সালাত আদায় করতে যাচ্ছেন? অথচ সে অমুক অমুক দিন (আপনার শানে এবং ঈমানদারদের সম্পর্কে) এই এই কথা বলেছে। এ বলে আমি তার উক্তিগুলো গুণেগুণে পুনরাবৃত্তি করলাম।আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুচকি হাসি দিয়ে বললেন, ‘উমর, সরে যাও! আমি বারবার আপত্তি করলে তিনি বললেন, আমাকে (তার সালাত আদায় করার ব্যাপারে) ইখ্তিয়ার দেয়া হয়েছে। কাজেই আমি তা গ্রহণ করলাম। আমি যদি জানতাম যে, সত্তর বারের অধিক মাগফিরাত কামনা করলে তাকে মাফ করা হবে তা হলে আমি অবশ্যই তার চেয়ে অধিক বার মাফ চাইতাম। ‘উমর (রাঃ) বলেন, অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার জানাযার সালাত আদায় করেন এবং ফিরে আসেন।এর কিছুক্ষণ পরেই সূরা বারা’আতের এ দু’টি আয়াত নাযিল হলঃ وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُم ماتَ اَبَدًا - “তাদের কেউ মারা গেলে আপনি কখনো তার জানাযার সালাত আদায় করবেন না। এমতাবস্থায় যে তারা ফাসিক” (সূরা আত্তাওবাহ (৯) : ৮৪)।রাবী বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সামনে আমার ঐ দিনের দুঃসাহসিক আচরণ করায় আমি বিস্মিত হয়েছি। আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলই সমধিক অবগত।
[১] মুনাফিক সর্দার আব্দুল্লাহর পিতার নাম ছিল উবাই, আর মাতার নাম ছিল সালূল, তাই তাকে ইব্ন উবাই ইব্ন সালূল বলা হত।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় জানাযা ও মুনাফিকদের বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশ। আবদুল্লাহ ইবনু উবাই মারা গেলে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে তার জানাযার সালাত পড়ানোর জন্য ডাকা হয়। উমর (রাঃ) তার কথাবার্তা ও আচরণ মনে করিয়ে দিয়ে আপত্তি করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তাঁকে ইখতিয়ার দেওয়া হয়েছে, তাই তিনি তা গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, সত্তরের বেশি মাগফিরাত চাইলে যদি ক্ষমা হতো, তবে তিনি আরও বেশি চাইতেন। পরে সূরা তাওবার আয়াত নাযিল হয়, যাতে এ ধরনের লোকের জানাযা না পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। হাদিসটি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দয়া, উমর (রাঃ)-এর দ্বীনের প্রতি সতর্কতা এবং শেষে ওহীর চূড়ান্ত নির্দেশ—এই তিনটি বিষয় সামনে আনে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ব্যক্তিগত আবেগ নয়, আল্লাহর বিধানই শেষ কথা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওহীর নির্দেশ আসার পর সেটিই চূড়ান্ত বিধান।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দয়া ও উমর (রাঃ)-এর সতর্কতা উভয়ই শিক্ষণীয়।
- মুনাফিকদের বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশকে গুরুত্ব দিতে হয়।
- ধর্মীয় বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।
