৫১/০. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৯২০ - মুনাফিকের জানাযা ও কুরআনের নির্দেশ
মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত
মুনাফিকের জানাযা বিষয়ে কুরআনের নির্দেশ
সহীহ মুসলিম : ৬৯২০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৯২০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَىٍّ ابْنُ سَلُولَ جَاءَ ابْنُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَسَأَلَهُ أَنْ يُعْطِيَهُ قَمِيصَهُ يُكَفِّنُ فِيهِ أَبَاهُ فَأَعْطَاهُ ثُمَّ سَأَلَهُ أَنْ يُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَامَ عُمَرُ فَأَخَذَ بِثَوْبِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتُصَلِّي عَلَيْهِ وَقَدْ نَهَاكَ اللَّهُ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَيْهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّمَا خَيَّرَنِي اللَّهُ فَقَالَ اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لاَ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً وَسَأَزِيدُهُ عَلَى سَبْعِينَ " . قَالَ إِنَّهُ مُنَافِقٌ. فَصَلَّى عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ}
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই-এর মৃত্যুর পর তার সন্তান ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসলেন এবং তাঁর পিতার কাফনের জন্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জামাটি চাইলেন। তিনি তাঁকে জামাটি দিয়ে দিলেন। তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর পিতার সালাতে জানাযা আদায়ের জন্যে অনুরোধ করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জানাযার সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ালেন।এমতাবস্থায় ‘উমর (রাঃ) দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাপড় টেনে ধরে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তার জানাযা কি আপনি আদায় করাবেন? আর আল্লাহ তা‘আলা তার সালাতে জানাযা আদায় করাতে আপনাকে বারণ করেছেন। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ ব্যাপারে তো আল্লাহ তা‘আলা আমাকে এ কথা বলে স্বাধীনতা দিয়েছেন যে, “আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন অথবা তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা না করুন- উভয়ই সমান, আপনি সত্তরবারও যদি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন- সবই সমান। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি সত্তরের উপরে বাড়িয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব। ‘উমর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো কপট ছিল। এরপরও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সালাতে জানাযা আদায় করলেন।তখন আল্লাহ তা‘আলা অবতীর্ণ করলেন- “তাদের মাঝে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার জন্যে জানাযার সালাত আদায় করবেন না এবং তার কবরের পাশেও দণ্ডায়মান হবেন না”- (সূরা আত্ তাওবাহ্ ৯ : ৮৪)।
ই.ফা. ৬৭৭০, ই.সে. ৬৮২৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৯২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু উবাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা এসেছে। তার ছেলে আবদুল্লাহ রাঃ নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে পিতার কাফনের জন্য জামা চান। নবী صلى الله عليه وسلم জামা দেন। এরপর তিনি জানাযা পড়ানোর অনুরোধ করেন। নবী صلى الله عليه وسلم দাঁড়ালে উমর রাঃ প্রশ্ন করেন, তিনি কি তার জানাযা পড়াবেন, অথচ সে মুনাফিক? নবী صلى الله عليه وسلم তখন বলেন, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা প্রার্থনা করা বা না করার বিষয়ে আয়াতের ভাষায় সুযোগ দিয়েছেন, আর তিনি সত্তরের বেশি বার ক্ষমা চাইবেন। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم তার জানাযা পড়ান। তারপর সূরা তাওবার আয়াত নাযিল হয়: তাদের কারো মৃত্যু হলে জানাযা পড়াবেন না এবং কবরের পাশে দাঁড়াবেন না। এই হাদিসে করুণা, নবী صلى الله عليه وسلم-এর আচরণ, উমর রাঃ-এর সতর্কতা এবং কুরআনের পরবর্তী নির্দেশ একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم মানুষের অনুরোধে কোমল আচরণ করতেন।
- মুনাফিকদের বিষয়ে কুরআনের নির্দেশ স্পষ্টভাবে এসেছে।
- উমর রাঃ সত্য বিষয়ে সতর্ক ছিলেন।
- আল্লাহর নির্দেশ আসার পর সেই নির্দেশই মানদণ্ড।
