২৪/৩৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪৫৩ - উটের যাকাতে ক্ষতিপূরণের নিয়ম
যার উপর বিনতু মাখায যাকাত দেয়া ওয়াজিব হয়েছে অথচ তার কাছে তা নেই
উটের যাকাতের বিস্তারিত সমন্বয়: জাযআ, হিক্কা ও বিনতে লাবূন
সহীহ বুখারী : ১৪৫৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৪৫৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، حَدَّثَنِي ثُمَامَةُ، أَنَّ أَنَسًا ـ رضى الله عنه ـ حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ كَتَبَ لَهُ فَرِيضَةَ الصَّدَقَةِ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ رَسُولَهُ ﷺ «مَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ مِنَ الإِبِلِ صَدَقَةُ الْجَذَعَةِ، وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ جَذَعَةٌ وَعِنْدَهُ حِقَّةٌ، فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْحِقَّةُ وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا، وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ الْحِقَّةُ وَعِنْدَهُ الْجَذَعَةُ، فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْجَذَعَةُ، وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ، وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ إِلاَّ بِنْتُ لَبُونٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ بِنْتُ لَبُونٍ، وَيُعْطِي شَاتَيْنِ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا، وَمَنْ بَلَغَتْ صَدَقَتُهُ بِنْتَ لَبُونٍ وَعِنْدَهُ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ الْحِقَّةُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ، وَمَنْ بَلَغَتْ صَدَقَتُهُ بِنْتَ لَبُونٍ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ وَعِنْدَهُ بِنْتُ مَخَاضٍ، فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ بِنْتُ مَخَاضٍ وَيُعْطِي مَعَهَا عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ».
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ বকর (রাঃ) তাঁর কাছে আল্লাহ তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে যাকাত সম্পর্কে যে বিধান দিয়েছেন তা লিখে পাঠানঃ যে ব্যক্তির উপর উটের যাকাত হিসেবে জাযা’আ ফরজ হয়েছে, অথচ তার নিকট জাযা’আহ [৪১] নেই বরং তার নিকট হিককা [৪২] রয়েছে, তখন হিককা গ্রহণ করা হবে। এর সাথে সম্ভব হলে (পরিপূরকরূপে) দু’টি বকরী দিবে, অথবা বিশটি দিরহাম দিবে। আর যার উপর যাকাত হিসেবে হিককা ফরজ হয়েছে, অথচ তার কাছে হিককা নেই বরং জাযা’আ রয়েছে, তখন তার হতে জাযা’আ গ্রহণ করা হবে। আর যাকাত উসূলকারী (ক্ষতিপূরণ স্বরূপ) মালিককে বিশটি দিরহাম বা দু’টি বকরী দিবে। যার উপর হিককা ফরজ হয়েছে, অথচ তার নিকট বিনত লাবূন রয়েছে, তখন বিনতে লাবূনই গ্রহণ করা হবে। তবে মালিক দুটি বকরী বা বিশটি দিরহাম দিবে। আর যার ওপর বিনত লাবূন ফরজ হয়েছে, কিন্তু তার কাছে হিককা রয়েছে, তখন তার হতে হিককা গ্রহণ করা হবে এবং আদায়কারী মালিককে বিশটি দিরহাম বা দুটি বকরী দিবে। আর যার ওপর বিনত লাবূন ফরজ হয়েছে কিন্তু তার নিকট তা নেই বরং বিনতে মাখায রয়েছে, তবে তাই গ্রহণ করা হবে, অবশ্য মালিক এর সঙ্গে বিশটি দিরহাম বা দু’টি বকরী দিবে।
[৪১] জাযা’আহ অর্থ যে উট চার বছর পূর্ণ হয়ে পঞ্চম বর্ষে পতিত হয়েছে।[৪২] হিক্কা অর্থ যে উট তিন বছর পূর্ণ হয়ে চতুর্থ বর্ষে পতিত হয়েছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উটের যাকাতের বিস্তারিত বিকল্প ব্যবস্থা বলা হয়েছে। কারও ওপর জাযআ ফরজ হলে কিন্তু জাযআ না থাকলে হিক্কা গ্রহণ করা হবে এবং সঙ্গে দুটি বকরী বা বিশ দিরহাম দেওয়া হবে। আবার হিক্কা ফরজ হলে জাযআ থাকলে সেটি গ্রহণ করা হবে এবং আদায়কারী মালিককে বিশ দিরহাম বা দুটি বকরী দেবে। হিক্কা না থাকলে বিনতে লাবূন গ্রহণের কথাও এসেছে, তবে সঙ্গে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একইভাবে বিনতে লাবূনের জায়গায় হিক্কা বা বিনতে মাখাদ থাকলে নির্দিষ্ট নিয়মে সমন্বয় হবে। এই হাদিসের মূল কথা হলো, যাকাতের বিধান নির্দিষ্ট, কিন্তু বাস্তব সম্পদের ভিন্নতার জন্য নির্ধারিত সমাধানও আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উটের যাকাতে বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিয়ম আছে।
- নির্দিষ্ট উট না থাকলে বিকল্প গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে।
- ক্ষতিপূরণ হিসেবে ছাগল বা দিরহামের উল্লেখ এসেছে।
- যাকাত আদায়ে নিয়ম মেনে সমন্বয় করা দরকার।
