২৫/১০৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭০০ - হাদি পাঠালে কী হারাম হয় না
যে নিজ হস্তে কিলাদা বাঁধে।
হাদি পাঠানো ও ইহরামের পার্থক্য: আয়েশা (রাঃ)-এর জবাব
সহীহ বুখারী : ১৭০০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৭০০
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ زِيَادَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ كَتَبَ إِلَى عَائِشَةَ إِنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ قَالَ مَنْ أَهْدَى هَدْيًا حَرُمَ عَلَيْهِ مَا يَحْرُمُ عَلَى الْحَاجِّ حَتَّى يُنْحَرَ هَدْيُهُقَالَتْ عَمْرَةُ فَقَالَتْ عَائِشَةُ لَيْسَ كَمَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَا فَتَلْتُ قَلاَئِدَ هَدْيِ رَسُولِ اللهِ ﷺ بِيَدَيَّ ثُمَّ قَلَّدَهَا رَسُولُ اللهِ ﷺ بِيَدَيْهِ ثُمَّ بَعَثَ بِهَا مَعَ أَبِي فَلَمْ يَحْرُمْ عَلَى رَسُولِ اللهِ ﷺ شَيْءٌ أَحَلَّهُ اللهُ لَهُ حَتَّى نُحِرَ الْهَدْيُ
আমরাহ্ বিন্ত আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
যিয়াদ ইব্নু আবূ সুফ্ইয়ান ‘আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট পত্র লিখলেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরবানীর পশু (মক্কা) পাঠায় তা যবহ না করা পর্যন্ত তার জন্য ঐ সমস্ত কাজ হারাম হয়ে যায়, যা হাজীদের জন্য হারাম। (বর্ণনাকারিণী) আমরাহ (রহঃ) বলেন, ‘আয়েশা (রাঃ) বললেন, ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) যেমন বলেছেন, ব্যাপার তেমন নয়। আমি নিজ হাতে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি আর তিনি নিজ হাতে তাকে কিলাদা পরিয়ে দেন। এরপর আমার পিতার সঙ্গে তা পাঠান। সে জানোয়ার যবহ করা পর্যন্ত আল্লাহ কর্তৃক হালাল করা কোন বস্তুই আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি হারাম হয়নি।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি প্রশ্নের জবাব এসেছে। যিয়াদ ইবন আবী সুফিয়ান আয়েশা (রাঃ)-কে লিখে জানান যে, ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেন—যে ব্যক্তি কুরবানির পশু পাঠায়, পশু যবেহ হওয়া পর্যন্ত হাজীদের মতো তার জন্য কিছু কাজ হারাম হয়। আয়েশা (রাঃ) বলেন, বিষয়টি তেমন নয়। তিনি নিজ হাতে আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর কুরবানির পশুর কিলাদা পাকিয়েছেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজ হাতে তাকে কিলাদা পরিয়েছেন এবং আবু বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে পাঠিয়েছেন। সে পশু যবেহ হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ যা হালাল করেছেন, তার কোনো কিছুই নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য হারাম হয়নি। এখানে আয়েশা (রাঃ)-এর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হাদি পাঠানো ও মুহরিম হওয়ার পার্থক্য পরিষ্কার হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আয়েশা (রাঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর বক্তব্যের বিষয়ে ভিন্ন বর্ণনা দেন।
- তিনি নিজ হাতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর হাদির কিলাদা পাকিয়েছিলেন।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজ হাতে হাদিকে কিলাদা পরিয়ে পাঠিয়েছেন।
- হাদি যবেহ হওয়া পর্যন্ত তাঁর হালাল বিষয় হারাম হয়নি বলে আয়েশা (রাঃ) জানিয়েছেন।
