২৫/১২৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৩৩ - ঋতুবতী নারীর তাওয়াফে জিয়ারত
কুরবানির দিবসে তাওয়াফে জিয়ারত সম্পাদন করা।
وَقَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ عَائِشَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ أَخَّرَ النَّبِيُّ ﷺ الزِّيَارَةَ إِلَى اللَّيْلِ وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي حَسَّانَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ النَّبِيُّ ﷺ كَانَ يَزُورُ الْبَيْتَ أَيَّامَ مِنًىআবু যুবাইর (রহঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) ও ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) তাওয়াফে যিয়ারাহ রাত পর্যন্ত বিলম্ব করেছেন। আবূ হাসসান (রহঃ) সূত্রে ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) মিনার দিনগুলোতে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করতেন।"
ঋতুবতী নারীর তাওয়াফে জিয়ারত: সাফিয়া রা.-এর ঘটনা
সহীহ বুখারী : ১৭৩৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৭৩৩
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ عَنْ الأَعْرَجِ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ حَجَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ فَأَفَضْنَا يَوْمَ النَّحْرِ فَحَاضَتْ صَفِيَّةُ فَأَرَادَ النَّبِيُّ ﷺ مِنْهَا مَا يُرِيدُ الرَّجُلُ مِنْ أَهْلِهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ إِنَّهَا حَائِضٌ قَالَ حَابِسَتُنَا هِيَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ أَفَاضَتْ يَوْمَ النَّحْرِ قَالَ اخْرُجُواوَيُذْكَرُ عَنْ الْقَاسِمِ وَعُرْوَةَ وَالأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ أَفَاضَتْ صَفِيَّةُ يَوْمَ النَّحْرِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে হজ্জ আদায় করে কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারত করলাম। এ সময় সাফিয়্যাহ (রাঃ)-এর ঋতু দেখা দিল। তখন নবী (ﷺ) তাঁর সঙ্গে তা ইচ্ছা করছিলেন যা একজন পুরুষ তার স্ত্রীর সঙ্গে ইচ্ছা করে থাকে। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো ঋতুবতী। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তবে তো সে আমাদের আটকিয়ে ফেলবে। তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সাফিয়্যাহ (রাঃ) তো কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারত করে নিয়েছেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তবে রওয়ানা হও।কাসিম, 'উরওয়া ও আসওয়াদ (রহঃ) সূত্রে 'আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, সাফিয়্যা কুরবানীর দিন তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন, তারা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে হজ্জ করেন এবং কুরবানির দিন তাওয়াফে জিয়ারত করেন। এরপর সাফিয়া (রাঃ)-এর ঋতু দেখা দেয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে জানতে চান, তবে কি তিনি তাদের আটকে দেবেন? পরে বলা হয়, সাফিয়া (রাঃ) কুরবানির দিন তাওয়াফে জিয়ারত করে নিয়েছেন। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, রওয়ানা হও। এখানে মূল বিষয় হলো তাওয়াফে জিয়ারত করার পর ঋতু দেখা দিলে যাত্রা করা। তবে হাদিসে শুধু এই ঘটনার কথাই এসেছে; তাই ব্যাখ্যায় অন্য মাসআলা বা বাড়তি বিধান যোগ করা ঠিক নয়। এই হাদিসে ঋতুবতী নারী, তাওয়াফে জিয়ারত, কুরবানির দিন এবং রওয়ানা হওয়া—এসব বিষয় সরাসরি আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাফিয়া (রাঃ) কুরবানির দিন তাওয়াফে জিয়ারত করেছিলেন।
- তাওয়াফে জিয়ারতের পর ঋতু দেখা দিলে নবী (صلى الله عليه وسلم) রওয়ানা হওয়ার নির্দেশ দেন।
- কোনো সিদ্ধান্তের আগে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে।
- হজ্জের আমলে নারীদের অবস্থার বিষয়েও সাহাবীগণ নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জানাতেন।
